ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

আপনি মুসলমান? ‘যদি হই?’ বলতেই থিয়েটার কর্মীকে এলোপাথাড়ি মারল কারা?

৬০ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

সামনেই ১৫ অগাস্ট, স্বাধীনতা দিবস। সদ্য বাংলায় তসলিমা নাসরিন এলেন, সাদরে তাঁকে গ্রহণ করা হল। বাকস্বাধীনতা , মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে অনুষ্ঠান হল। অথচ সেই শহরেই সাধারণ মানুষকে ‘মুসলমান’ কিনা জিজ্ঞেস করে বেধড়ক মারার অভিযোগ সামনে আসছে। শুভঙ্কর দাস শর্মা নামের বছর ৪০-এর একজন নাট্যকর্মীর সঙ্গে সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ফেসবুকে আক্রান্ত অবস্থায় নিজের ছবি পোস্ট করেছিলেন ওই নাট্যকর্মী। পরবর্তীতে খানিক সুস্থ হয়ে ঘটনার বিবরণও দেন।  

ঠিক কী হয়েছিল? 

শুভঙ্কর নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, গত ২৮ জুলাই নাটকের শো শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। তাঁর পরনে ছিল কালো পাজামা-পাঞ্জাবি। তাঁর পোশাক দেখেই ৪জন দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞেস করতে থাকে তিনি মুসলমান কিনা। শুভঙ্কর উত্তর দেন , ‘আমি মুসলিম হলে কী হবে?’ শুভঙ্করের যুক্তি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে অপরিচিত কোনও ব্যক্তিকে তিনি ধর্মপরিচয় জানাতে বাধ্য নন। এছাড়াও কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম পরিচয় বলে বেঁচে যাওয়ার সহজ রাস্তাও তিনি বেছে নিতে চাননি। এর আগেও একাধিক বিষয় নিয়ে শুভঙ্কর তাঁর শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ করে গিয়েছেন। 

আক্রান্ত শুভঙ্কর

শুভঙ্করের উত্তরে সন্তুষ্টি না পেয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন দুষ্কৃতীরা। ছিঁড়ে দেওয়া হয় তাঁর কালো পাঞ্জাবি। মাটিতে ফেলে তাঁকে মারা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে মারতে মারতে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি আওড়াতে থাকেন দুষ্কৃতীরা। কিছুক্ষণের জন্য সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন শুভঙ্কর। প্রচন্ড শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণায় একপ্রকার ঘরবন্দি হয়ে পড়েন নাট্যকর্মী। 

নাট্যকর্মী শুভঙ্কর

এরপর বি এন বোস মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে চিকিৎসক তাঁকে জানান, চোখে এবং কানে গুরুতর চোট লেগেছে, সঙ্গে পাঁজরেও চোট রয়েছে, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পারামর্শ ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাঁর কানে এবং চোখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

ঘটনার পরে বেশ কিছুদিন আতঙ্কে ছিলেন শুভঙ্কর। এর আগের সরকারের আমলেও এই ঘটনা ঘটেছে তাঁর সঙ্গে। তবে এখন আরও রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে মত শুভঙ্করের। তবে সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে শুভঙ্কর লিখেছেন, ‘আমি ভয় কাটিয়ে উঠেছি। একবার ভয় কেটে গেলে আর ভয় থাকে না।’ তাঁর এই হামলার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নাট্যজগতের আরও ব্যক্তিত্বরাও। এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এ বাংলায় ঠিক কতটা রয়েছে? 

অন্যান্য প্রতিবেদন.