ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

কুস্তিগীরদের কী অভিযোগ ছিল? ব্রিজভূষণের বেকসুর খালাস কীসের ভিত্তিতে?

৯ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

২০২৬ সালের ৩ আগস্ট দিল্লির একটি আদালত ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (WFI) প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিং এবং ফেডারেশনের প্রাক্তন সহকারী সম্পাদক বিনোদ তোমরকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে। ২০২৩ সালে ছয়জন মহিলা কুস্তিগীরের দায়ের করা যৌন হেনস্থার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ওই দুজনকে। জন্তর-মন্তরে অবস্থান করে, বিক্ষোভ দেখিয়ে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন কুস্তিগীররা। সেই মামলাতেই দিল্লির আদালত বেকসুর খালাস করে দেন ব্রিজভূষণ এবং বিনোদ তোমরকে। 

আদালতের দাবি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারমানে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমান জোগাড় সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে এই রায়ের অর্থ এই নয় যে অভিযোগগুলো মিথ্যা ছিল। অভিযোগ প্রমাণ করার মতো প্রমাণ না মেলায় খালাস দেওয়া হয়েছে দুই অভিযুক্তকে। 

কেন মামলা করা হয়েছিল? 

২০২৩ সালে একাধিক মহিলা কুস্তিগীর ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জাতীয় গুরুত্ব পায় যখন অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগীর সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগাট এবং বজরং পুনিয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে যোগ দেন। অভিযোগ ছিল,ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (WFI) সভাপতি থাকাকালীন সময়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলা কুস্তিগীরদের সঙ্গে যৌন হেনস্থা ও অনুপযুক্ত আচরণ করতেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক বছরে বিভিন্ন সময়ে WFI-র কার্যালয়, জাতীয় প্রশিক্ষণ শিবির এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সফর চলাকালীন একাধিকবার যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটে।  কিন্তু তৎকালীন WFI প্রধানের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। তবে প্রথম থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন ব্রিজ ভূষণ। 

কী কী মামলা হয়েছিল? 

২০২৩ সালের জুন মাসে ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দিল্লি পুলিশ। চার্জশিটে যৌন হেনস্থা, শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ, স্টকিং এবং ভয় দেখানোর মতো একাধিক অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া এক নাবালিকা কুস্তিগীরের অভিযোগের ভিত্তিতে (POCSO)-এর অধীনেও পৃথক তদন্ত শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে পযাপ্ত রিপোর্ট জোগাড় না করতে পেরে ওই মামলায় ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেয় দিল্লি পুলিশ। এরপর মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। উভয়পক্ষের যুক্তি শুনেও আদালতের দাবি কোনও উল্লেখযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। 

২০২৬ সালের ৩ আগস্ট দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত ব্রিজভূষণ শরণ সিং এবং বিনোদ তোমরকে এই মামলায় বেকসুর খালাস দেয়। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ খালাস পাওয়ার পর ফুলের তোড়া মালা দিয়ে বীরের সম্মানে তাঁকে বরণ করেন কর্মী সমর্থকেরা। রায় ঘোষণার পর ব্রিজভূষণ শরণ সিং আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং বলেন বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল। 

অন্যান্য প্রতিবেদন.