‘ভাবাবেগ’ বর্তমান সময়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুভূতি। এতে কোনওভাবে আঘাত লাগলেই তা ক্ষমাহীন হয়ে উঠেছে এই দেশে। এবার এই ‘ভাবাবেগে’ আঘাত লাগার কোনও স্কেল আছে কিনা জানা নেই। তবুও এই ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার দোষে দোষী অনেক মানুষ। এরমধ্যে অন্যতম একটি নাম ধ্রুব রাঠি। তিনি একটা ভিডিও করা মানেই তাঁর ভিউ কয়েক মিলিয়ন ছাড়ায়। দেশের বাইরে থেকেই দেশের নানা বিষয় নিয়ে সরব হয়ে থাকেন তিনি। তবে শাসক দলের চোখে তিনি মোটেই খুব একটা সুখকর স্থানে নেই।
সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিওতে কোপ পড়েছে। ভারতে ব্লক করা হয়েছে ধ্রুবের একটি ভিডিও। অভিযোগ হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে ‘মানহানিকর’ মন্তব্য করা হয়েছে ভিডিওতে। হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টে তাঁর একটি ভিডিও ব্যান করার কথা জানানো হয়েছে গুগলের তরফে। বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার এজলাসে গুগলের আইনজীবী জানান, কেন্দ্রের গ্রিভান্স অ্যাপিলেট কমিটি (GAC)-র নির্দেশ মেনেই ভারতে ভিডিওটি আটকে দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী অমিতা সচদেবা এই মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন ধ্রুব তাঁর ভিডিওতে হিন্দু দেবদেবী নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। তাঁর ভিডিওতে হিন্দু দেবতা রাম, সীতা ও কৃষ্ণ-কে মাংস ও মদ খেতেন বলে দেখানো হয়েছে, যা তাঁদের ধর্মীয় ভাবমূর্তিকে হেয় করেছে বলে অভিযোগ ওই আইনজীবীর।
ভারতে ব্লক করার পর সারা বিশ্বে এই ভিডিও ব্লক করা নিয়ে সওয়াল করেন তিনি। সচদেবার দাবি, ভারতে ভিডিওটি আটকে দেওয়া হলেও দেশের বাইরে এখনও তা দেখা যাচ্ছে। এমনকি ভারতে VPN ব্যবহার করেও ভিডিওটি দেখা সম্ভব। তাই তিনি আদালতের কাছে ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। তবে গুগল এই আবেদনের বিরোধিতা করে জানায়, কোনও অনলাইন কনটেন্ট বিশ্বব্যাপী সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দিল্লি হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে, অন্য ইউটিউবারদের চ্যানেলে আপলোড হওয়া ওই ভিডিওর কপিগুলির বিরুদ্ধেও গুগলের কাছে যাওয়ার অনুমতি চান সচদেবা। গুগল এরও বিরোধিতা করে জানায়, এটি একটি ‘স্বতন্ত্র কারণ’ (separate cause of action) এবং এর জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে।

