নাম মোহাম্মদ জুনেইদ। পরিচয় যন্তর-মন্তরে চলতে থাকা প্রতিবাদ বিক্ষোভের স্বেচ্ছাসেবক। সংহতি জানাতে এসেছিলেন ছাত্র আন্দোলনকে। পরে সেই বিক্ষোভেরই নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন গাজিয়াবাদের বছর ২৬-এর যুবক জুনেইদ মালিক। আইনে স্নাতক জুনেইদ জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে এই আন্দোলনে তাঁর অবদান মানুষ দেখেছে। আবার সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতেই তাঁকে কাঁদতেও দেখেছেন অনেকে। কেন? কী তাঁর দোষ? ‘The Red Mic’ এর নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়েন জুনেইদ।
আন্দোলনের কোনও নেতৃত্ব স্থানে তিনি ছিলেন না, এমনকি বিক্ষোভের কৌশল নির্ধারণেও তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। তিনি যন্তর-মন্তরে পরিচিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। তাঁর অস্থায়ী কমিউনিটি কিচেন থেকে বিক্ষোভকারীদের জল, চা, খাবার তুলে দিতেন তিনি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে যে রাশি রাশি খাবার রোজ এসে পৌঁছত তা সকলের মধ্যে ভাগ করে দিতেন জুনেইদ, খাবার পরিবেশন করতেন।
তাঁর কথায় প্রথমে কয়েকটি জলের বোতল ও বিস্কুট দিয়ে শুরু হলেও পরে সেটি ধীরে ধীরে একটি স্বেচ্ছাসেবী রান্নাঘরে পরিণত হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “অসংখ্য মানুষ এই মহাযজ্ঞের অংশ। কেউ খাবার নিয়ে আসতেন, কেউ জল দিতেন। আমাদের কাজ ছিল শুধু সবকিছু সংগঠিত করা, যাতে কেউ না খেয়ে না থাকে।” কিন্তু তাঁকেই একদিন তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ বলে পরিচয় দেওয়া কিছুজন। চোখ বেঁধে আটক করে রাখা হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল?
তাঁর দাবি, ২৪ জুলাই মধ্যরাতের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সেদিন রাত্রে কুকুরের কামড় খেয়ে তাঁর এক সাথির সঙ্গে অ্যান্টি-র্যাবিস ইনজেকশন নিতে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পথে একটি নেমপ্লেটহীন সাদা স্করপিও গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে আটক করেন জুনেইদদের। চোখ বেঁধে গাড়িতে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় অন্যত্র। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন। রাতভর পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। ফোন আনলক করে দিতে বাধ্য করা হয়। প্রশ্ন করা হয়, ‘খাবারের টাকা কে দিচ্ছে?’ তাঁর বক্তব্য ছিল—কোনও গোপন অর্থদাতা নেই, সাধারণ মানুষই এই উদ্যোগে সাহায্য করেছেন।

হয়রান করা হয় পরিবারকেও…
তাঁকে আটকেই সীমাবদ্ধ থাকা হয়নি। উত্তর প্রদেশ পুলিশ পৌঁছে যায় তাঁর বাড়িতে। অভিযোগ, তাঁর বাবাকে আটক করে পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, গাজিয়াবাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, পরিচয়পত্র ও আর্থিক নথি চেয়ে মিরাটে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও আটক করা হয়।
কেন জুনেইদ-ই টার্গেট?
তাঁর দাবি, তিনি ছিলেন না কোনও রাজনৈতিক কৌশলবিদ বা ছাত্রনেতা; তিনি ছিলেন শুধুমাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবক, যিনি একটি কমিউনিটি কিচেন চালাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর পরিচয়ই পুলিশের নজরদারির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। মুসলিম হওয়ায় তাঁকে আলাদা করে সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টে জুনেইদ
এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। CJP-র বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় তিনি নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপ রুখতে আদালতের সুরক্ষা চেয়েছেন। আইনজীবী নেহা রাঠির মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, যে কোনও তদন্ত যেন সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে করা হয়। তাঁর দাবি এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে আন্দোলন থেকে সরে আসতে বাধ্য করা। আবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারকে লঙ্ঘন করে।

