এক শিবিরের প্রার্থী প্রত্যাহার  অপর শিবিরে গ্রেফতারি,উপনির্বাচনের আগে ফের উত্তাল নন্দীগ্রাম

১৬ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে অন্যতম সংবেদনশীল এবং হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র হিসেবে নন্দীগ্রামের পরিচিতি সর্বজনবিদিত। আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং প্রার্থীর হঠাৎ গ্রেফতারির মতো একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নন্দীগ্রামের নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

​উপনির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে প্রথম বড় ধাক্কা আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র মনোনয়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে। শাসক শিবিরের এই প্রার্থীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের পর নাটকীয়ভাবে তিনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। এর পরপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেন যে, জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটকে শক্তিশালী করতে এবং বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নন্দীগ্রামে নতুন কোনো প্রার্থী দেবেন না এবং কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবেন। এই ঘোষণায় বিরোধী শিবিরের অন্দরে নতুন সমীকরণের বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 


​মমতা শিবিরের সমর্থনের ঘোষণা এবং প্রচার শুরুর ঠিক মুখেই ঘটে আরেকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে একটি পুরনো খুনের মামলায় পুলিশ হঠাৎ করেই গ্রেফতার করে। আচমকা প্রার্থীর এই ধরনের গ্রেফতারির ফলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে ময়দানে কুলিয়ে উঠতে না পেরে শাসকদল প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধীদের স্তব্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি এটি সম্পূর্ণভাবে একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ভোটের ঠিক আগে প্রধান বিরোধী মুখের এই স্বাধীনতা হরণ নির্বাচনী লড়াইকে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। 


​এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে যে, তবে কি শাসক দল বিজেপি খুব কৌশলে নন্দীগ্রামে একপ্রকারের ‘বিরোধী-শূন্য’ বা একচ্ছত্র ময়দান তৈরি করতে চাইছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একদিকে মমতা শিবিরের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো এবং অন্যদিকে প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেস প্রার্থীর আইনি জটে আটকে পড়া—এই দুইয়ের জেরে মূল লড়াইয়ের ক্ষেত্রটি একপেশে হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এটি কৌশলগত সুবিধা হলেও, তৃণমূলের সমর্থনপুষ্ট হয়ে কংগ্রেস প্রার্থী কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং আইনি লড়াই মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকে, তা আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। 


​ নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ প্রমাণ করে যে, এখানকার প্রতিটি উপনির্বাচন কেবল একটি বিধানসভা আসন দখল করার লড়াই নয়, বরং এটি রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও প্রভাব বিস্তারের এক কঠিন পরীক্ষা। সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা শেষ পর্যন্ত এই নাটকীয় পরিস্থিতির কী রায় দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
​

অন্যান্য প্রতিবেদন.