অতি সম্প্রতি বাইশে শ্রাবণে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ঢোকার মুখে একটি ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। ব্যানারটি লেখা হিন্দিতে, দেবনাগরী লিপিতে। তাতে বেশ কিছু সুন্দর শব্দ আছে—‘একতা’ আছে, ‘মহাসম্মেলন’ আছে, ‘কলকাতা’ও আছে, শুধু কলকাতার ভাষাটিই নেই!
ব্যাপারটিকে আপনি হালকা করে দেখতেই পারেন। বলতে পারেন, ‘ছাড়ুন তো, এসব ফালতু বিষয়।’ আমিও এড়িয়ে যেতে পারতাম। পারলাম না। কারণ, ঘটনাটি যতটা ছোট, তার ইঙ্গিত ততটা ছোট নয়।
একটি সংগঠন ব্যানার টাঙিয়েছে, তারা তাদের সুবিধামতো ভাষা ব্যবহার করবে—এটুকু পর্যন্ত স্বাভাবিক। মুশকিল হলো, ব্যানারটি ঝুলছে এমন একটি বাড়ির দরজার সামনে, যে বাড়ির সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে। এই বাড়িতেই জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ফলে ব্যানারটিকে নিছক একটি ব্যানার বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া কঠিন। প্রশ্ন জাগে, এ কি কেবল অসচেতনতা, নাকি বৃহত্তর এক ভাষাগত অভ্যাসের ছোট্ট নমুনা, যেখানে স্থানীয় ভাষার উপস্থিতিকেই আর জরুরি বলে মনে হয় না?

আমরা অবশ্য জানি না, ব্যানারটি কার অনুমতিতে সেখানে ঝুলেছে। অনুষ্ঠানটি ঠাকুরবাড়ির ভেতরে হচ্ছে কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী, সেসব নিয়েও কোনো অনুমান করতে চাই না। কোনো গল্প না বানিয়ে শুধু দৃশ্যমান সত্যটুকু নিয়েই কথা বলি। আর সেই দৃশ্যটি অস্বস্তিকর। বিশেষত যখন ব্যানারেই লেখা রয়েছে ‘একতা মহাসম্মেলন’।
কারণ, ‘একতা’র একটি মজার স্বভাব আছে। যিনি একতার ডাক দেন, তিনি অনেক সময় আগেই স্থির করে ফেলেন বাকিরা ঠিক কোন ভাষায় এসে এক হবেন!
ঠিক এই কারণেই এখানে হিন্দির সঙ্গে বাংলার কোনো যুদ্ধ নেই। প্রেমচন্দের ভাষাকে ছোট করে রবীন্দ্রনাথকে বড় করতে হয় না, কবীরকে সরিয়ে লালনের জন্য জায়গা বানাতেও হয় না। সমস্যা হিন্দি ভাষা নয়। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন একটি ভাষার সঙ্গে জনসংখ্যা, রাষ্ট্র, প্রশাসন ও বাজারের ক্ষমতা এমনভাবে যুক্ত হয় যে অন্য ভাষার উপস্থিতিকে আর জরুরি বলে মনে হয় না।
সমাজতাত্ত্বিক পিয়ের বুরদিও ভাষাকে কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি, ভাষার সঙ্গে ক্ষমতা ও ‘linguistic capital’ বা ভাষাগত পুঁজির সম্পর্কও বিশ্লেষণ করেছেন। অর্থাৎ, সংবিধান বা অভিধানে ভাষার মর্যাদা যা-ই হোক, ক্ষমতার বাজারে সব ভাষার দাম সমান নয়। যে ভাষা চাকরির সুযোগ বাড়ায়, যে ভাষা প্রশাসনে সুবিধা দেয়, যে ভাষা বাজার, বিজ্ঞাপন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওঠে সেই ভাষা অতিরিক্ত সামাজিক শক্তি অর্জন করে। অন্যদিকে একটি ভাষা বিপুল সাহিত্য সৃষ্টি করেও ধীরে ধীরে কেবল ‘ঘরের ভাষা’ হয়ে পড়তে পারে।
বাংলার বিপদের একটি অংশ ঠিক এখানেই! তবে বিশ্বাস করুন, কাল সকালেই বাংলা ভাষা মারা যাচ্ছে না। বর্তমান বাংলার সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের অহেতুক আতঙ্কিত করার ইচ্ছাও আমার নেই। কবেই কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি নামক জাতিকে নিয়ে বেশি টানাটানি করতে বারণ করে গেছেন, আমি সেই সতর্কবাণী যথাসম্ভব মনে রাখি!
এমনকি ঠাকুরবাড়ির সামনে ওই ব্যানার কেন লাগানো হলো, তা নিয়ে ‘জবাব চাই, জবাব দাও’ মিছিলের ডাকও দিচ্ছি না। কারণ, কোটি কোটি মানুষ বাংলা বলেন। বাংলায় গল্প লেখা হয়, কবিতা লেখা হয়, সিনেমা তৈরি হয়, প্রেম হয়, ঝগড়া হয় এমনকি প্রয়োজনে অত্যন্ত উন্নত মানের গালাগালিও আমরা বাংলাতেই দিয়ে থাকি!
কিন্তু ভাষার মৃত্যু আর ভাষার মর্যাদাহানি এক জিনিস নয়। একটি ভাষা বেঁচে থেকেও দ্বিতীয় শ্রেণির ভাষা হয়ে যেতে পারে। আমার উদ্বেগ সেখানেই।
আমরা সন্তানকে বলি, ‘বাংলাটা মোটামুটি হলেই চলবে, ইংরেজিটা ঠিক করো।’ বাংলায় দোকানের নাম লিখলে অনেকের কাছে যথেষ্ট ‘স্মার্ট’ মনে হয় না। বাংলা মাধ্যমকে আমরা এখনও সামাজিক সিঁড়ির নিচের ধাপ বলে ভাবি। বাংলায় উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পরিসর বাড়ানোর চেয়ে পঁচিশে বৈশাখে রবীন্দ্রসংগীত বাজানো আমাদের কাছে অনেক সহজ।
অর্থাৎ, বাংলা আমাদের আবেগের ভাষা। কিন্তু ক্ষমতার ভাষা? উত্তরটা খুব স্বস্তিদায়ক নয়।
এই অবস্থায় জোড়াসাঁকোর গেটে শুধু হিন্দিতে লেখা ব্যানারটির মধ্যে এক ধরনের নিষ্ঠুর রসিকতাও আছে। যাঁর বাড়ির সামনে ব্যানারটি ঝুলছে, তিনি লিখেছিলেন, ‘দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে।’
আমরা সম্ভবত ‘নিবে’ অংশটি খুব মন দিয়ে শিখেছি। ‘দিবে’ অংশটি পরীক্ষায় আসবে না ভেবে বাদ দিয়েছি! আমরা ভুলে যাই, রবীন্দ্রনাথের ভারতভাবনার মধ্যে মিলন আছে, কিন্তু আত্মবিলোপ নেই। তাঁর ভারতবর্ষ কোনো একরঙা সাংস্কৃতিক মানচিত্র নয়। বহু ভাষা, বহু ধর্ম, বহু জনগোষ্ঠী সেখানে আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে পরস্পরকে গ্রহণ করে, পরস্পরকে বদলায়। কিন্তু মিলতে গিয়ে নিজের নামটি ভুলে যায় না।
রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানব। কোনো সাংস্কৃতিক ডিটারজেন্টে ধোয়া মানুষ নন, যাঁর গা থেকে সমস্ত স্থানীয় রং উঠে গেছে। আজ একটি বিপজ্জনক সরল অঙ্ক মাঝেমদ্ধেই সামনে আসে। যে ভাষায় বেশি মানুষ কথা বলেন, সেটিই যেন সকলের স্বাভাবিক ভাষা।
সংখ্যাই যদি সাংস্কৃতিক অধিকারের শেষ যুক্তি হয়, তাহলে পৃথিবীর সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষাগুলির কোনো একটিতে ভারতের সমস্ত সাইনবোর্ড লিখে দিলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়!
কিন্তু হয় না। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠনের হিসাব নির্ধারণ করতে পারে, সংস্কৃতির মালিকানা নির্ধারণ করতে পারে না। আমাদের সংবিধানও ভারতকে একভাষিক রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেনি। হিন্দি দেবনাগরী লিপিতে ভারতীয় সংঘের সরকারি ভাষা, ইংরেজিরও সরকারি কাজে সাংবিধানিক ও আইনগত ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু ভারতের কোনো ঘোষিত ‘জাতীয় ভাষা’ নেই।
এই পার্থক্য বাংলা জাতীয়তাবাদের কোনো উগ্র দাবি নয়, ভারতীয় বহুত্ববাদের সাংবিধানিক বাস্তবতারই অংশ। তাই ‘উত্তর ভারতীয় ভাষা-সন্ত্রাস’ বলে সমস্যাটিকে সরল করে ফেললেও ভুল হবে। কারণ উত্তর ভারত নিজেই বহুভাষিক। সেখানে হিন্দির পাশাপাশি পাঞ্জাবি, উর্দু, মৈথিলি, কাশ্মীরি, ডোগরি-সহ বহু ভাষার নিজস্ব ইতিহাস ও সংকট রয়েছে।
বাঙালি বনাম উত্তর ভারতীয় এমন কৃত্রিম লড়াই বানিয়ে দিলে মানুষে-মানুষে বিরোধ বাড়বে। আমি তার সম্পূর্ণ বিপক্ষে। কিন্তু সেই আপত্তির আড়ালে আসল প্রশ্নটিকেও হারিয়ে ফেললে চলবে না। রাষ্ট্র, বাজার ও সংখ্যার শক্তির ওপর ভর করে তৈরি হওয়া ভাষাগত আধিপত্য একটি বাস্তব সমস্যা।
এখানেই আন্তোনিও গ্রামশির ‘hegemony’ বা আধিপত্যের ধারণা প্রাসঙ্গিক। ক্ষমতার সবচেয়ে সফল রূপ সব সময় লাঠি হাতে আসে না। ক্ষমতা আরও গভীরে পৌঁছয় তখনই, যখন তার তৈরি নিয়মকেই মানুষ ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নিতে শেখে। তখন কাউকে আলাদা করে বলতে হয় না ‘বাংলা লিখবেন না।’ বাংলা না লেখাটাই একদিন এত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে যে তার অনুপস্থিতি আর চোখে পড়ে না। বিপদটা ঠিক সেখানে।
সুতরাং জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সামনে হিন্দি ব্যানার থাকার চেয়েও আমার কাছে বড় প্রশ্ন সেখানে বাংলা কেন নেই? আর সেই অনুপস্থিতি কেন আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে? কারণ ভাষা শুধু শব্দ নয়। ভাষা একটি ভূখণ্ডের স্মৃতি, মানুষের অভ্যাস, ইতিহাস এবং আত্মপরিচয়েরও বাহক। ফলে তার অনুপস্থিতিও কখনও কখনও উপস্থিতির মতোই জোরে কথা বলে।
ব্যাপারটিকে উল্টো দিক থেকে দেখা যাক। ধরুন, কোনো বাঙালি সংগঠন লখনউয়ের একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের সামনে শুধু বাংলায় ‘সারা ভারত বাঙালি ঐক্য মহাসম্মেলন’ লিখে ব্যানার ঝোলাল। সেখানকার মানুষ যদি বলেন, ‘হিন্দিটাও লিখুন’ তাঁরা কি অন্যায় করবেন?
চেন্নাইয়ে তামিল, বেঙ্গালুরুতে কন্নড়, ভুবনেশ্বরে ওড়িয়া একই সৌজন্য দাবি করতে পারে। তাহলে কলকাতায় বাংলা সেই সৌজন্য চাইলে সেটি প্রাদেশিকতা হবে কেন? বাংলা চাই মানে হিন্দি সরানো নয়। হিন্দি থাকুক, বাংলা থাকুক, ইংরেজিও থাকুক। ব্যানারের কাপড় দু ফুট বড় হলে ভারতবর্ষ ছোট হয়ে যাবে না। বরং ‘একতা’ শব্দটির অর্থ একটু বেশি সত্যি হবে। কারণ বহুত্বের বিপরীত শব্দ শুধু ঘৃণা নয়, কখনও কখনও তার বিপরীত শব্দ ঔদ্ধত্যও। সেই ঔদ্ধত্য বলে, ‘আমি ধরে নিচ্ছি, আমার ভাষা তুমি বুঝবে, কিন্তু তোমার ভাষা বোঝার কোনো দায় আমার নেই।’ এই ‘ধরে নেওয়া’টাই ক্ষমতা।
কিন্তু সমস্ত দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে বাঙালির কাজটা খুব সহজ হয়ে যায়। একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা বাংলা ভাষার জন্য আবেগ প্রকাশ করি, পঁচিশে বৈশাখে রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলি, পয়লা বৈশাখে বাংলা হরফ দেখলেই আমাদের সাংস্কৃতিক বাঙালিয়ানা জেগে ওঠে। কিন্তু বছরের বাকি দিনগুলোতে বাংলা ভাষাকে জ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ব্যবসা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভাষা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা নিজেরা কতটা দায়িত্ব নিই?

ক্ষমতাবান মানুষ প্রতিদিন চেঁচিয়ে বলেন না, ‘আমি ক্ষমতাবান।’ তিনি শুধু দরজার দিকে এমনভাবে এগিয়ে যান, যেন দরজাটি তাঁর সামনে আপনাআপনি খুলে যাবে। প্রভাবশালী ভাষাও অনেকটা তেমন। প্রথমে সে অলক্ষ্যে, খুব স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করে। তারপর সেই উপস্থিতি এতটাই অভ্যাসে পরিণত হয় যে অন্য ভাষাটির অনুপস্থিতি আর কারও চোখে পড়ে না।
এই প্রশ্নের উত্তরও আমাদেরই দিতে হবে। রবীন্দ্রনাথকে বাংলা জাতীয়তাবাদের দারোয়ান বানানো তাঁর চেতনার প্রতিই অন্যায়। তাঁর শিক্ষা বরং অনেক বেশি কঠিন। বিশ্বকে গ্রহণ করো, কিন্তু বিশ্বকে গ্রহণ করতে গিয়ে নিজেকে মুছে ফেলো না। তাই জোড়াসাঁকোয় হিন্দি আসুক। উর্দু আসুক। তামিল, মারাঠি, সাঁওতালি আসুক। পৃথিবীর সমস্ত ভাষা রবীন্দ্রনাথের উঠোনে সাগ্রহে আমন্ত্রিত হোক। বিশ্বভারতীর স্বপ্ন দেখা মানুষটির প্রতি এর চেয়ে সুন্দর শ্রদ্ধা আর কী হতে পারে?
আমাদের অনুরোধ শুধু একটাই, অতিথিদের জন্য সমস্ত চেয়ার পাততে গিয়ে নিজের ঘরের ভাষাটিকেই যেন দরজায় দাঁড় করিয়ে রাখা না হয়। মানুষকে নিজের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়াই একমাত্র নির্বাসন নয়। রবীন্দ্রনাথ এতটাই শক্তিশালী যে তাঁকে সহজে নির্বাসিত করা যায় না। তিনি থেকে যাবেন তাঁর কবিতায়, গানে, গল্পে, উপন্যাসে, প্রবন্ধে, চিঠিপত্রে, আমাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতির অসংখ্য স্তরে।
আমার ভয় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নয়। আমার ভয় তাঁর ভাষাটিকে নিয়ে। তাঁর নিজের বাড়ির উঠোনেই সেই ভাষাটি যেন একদিন পরবাসী হয়ে না পড়ে।
উনিশ শতকের শেষভাগে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন—
‘পৃথিবী জুড়িয়া বেজেছে বিষাণ,
শুনিতে পেয়েছি ওই,
সবাই এসেছে লইয়া নিশান—
কই রে বাঙালি কই।’
সেই প্রশ্নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলাদা। কিন্তু তার প্রতিধ্বনি আজ অন্য একটি প্রশ্নে ফিরে আসে। নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমরা নিজেরাই কোথায়? প্রশ্নটি তাই কোনো ভাষার বিরুদ্ধে নয়। প্রশ্নটি আমাদের নিজেদের বিবেকের কাছে।একদিন যদি জোড়াসাঁকোয় দাঁড়িয়েই রবীন্দ্রনাথের ভাষাকে আলাদা করে খুঁজতে হয়, তবে বুঝতে হবে হিন্দি জেতেনি, বাংলাও হারেনি। আমরা বরং ভারতবর্ষের বহুত্বের ধারণাটিকেই একটু একটু করে হারিয়ে ফেলেছি।
আর শেষ প্রশ্নটি আরও অস্বস্তিকর। নিজের উঠোনে নিজের ভাষার নীরব অনুপস্থিতিও যদি আজ আমাদের চোখে না পড়ে, তবে বাংলা ভাষার পরাজয় কি কোনো ব্যানারে ঘটছে? নাকি তার অনেক আগেই, নিঃশব্দে, আমাদের নিজেদের মনেই শুরু হয়ে গেছে?

