দিল্লিতে নির্বাচনের আগে খসড়া ভোটারের তালিকা থেকে বাদ পড়লেন প্রায় ৪৭.৭ লক্ষ মানুষ, প্রায় ৩২.৯ শতাংশ। সংশোধনের আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ১.৪৫ কোটি। প্রতি তিনজন ভোটারের মধ্যে একজনের নাম বাদ পড়েছে দিল্লির নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি বাংলার তুলনায় চার গুণ বেশি বলে বিচার করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন মূলত কয়েকটি কারণেই একটি নির্দিষ্ট ভোটারের নাম বহিষ্কার করে। যদি উল্লেখ্য ব্যক্তি মৃত হন বা স্থানান্তর করেন, অথবা তালিকায় যদি একই নাম একবারের বেশি থাকে। কিন্তু কমিশন এই ক্ষেত্রে পরিষ্কার করে উল্লেখ করেনি বহিষ্কৃত নামের সবাই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত কিনা বা এই সম্পর্কিত কোনো তথ্য আপাতত প্রকাশিত হয়নি। ছাঁটাই করা ব্যক্তিরা সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সমেত পুনরায় আবেদন করতে পারবে। দিল্লির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নভেম্বরের ৪ তারিখে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে
কিন্তু দিল্লির ক্ষেত্রে এই তালিকা সংশোধন নয়, বর্জন বলে মনে করছেন অনেকেই। তেলেঙ্গানা এবং কর্নাটকেও এখন কমিশন কতৃক SIR প্রক্রিয়া চলছে কিন্তু সেখানে সংশোধনে বাদ পড়া নামের তালিকা দিল্লির তুলনায় অনেকটাই কম, যথাক্রমে ২২% এবং ১৯ %।
দিল্লির সমস্ত এলাকায় এই সংশোধন সমানভাবে কার্যকর হয়নি। দিল্লির উত্তর পূর্বের তুঘলকবাদ এলাকা থেকে বহিষ্কৃত নামের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা মূলতই একটি সংখ্যালঘুদের এলাকা। সেখানে দক্ষিণের রোহিনী এবং পশ্চিমের শাকুর বস্তি এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা অনেক কম। আরকে পুরম এবং গ্রেটার কৈলাশ এলাকা থেকেও নামের বহিষ্করণ নজরে আসে, যেখানকার উল্লেখ্য সংখ্যক অধিবাসীরাই সরকারি আধিকারিক।
তবে নির্বাচন কমিশন জানান, বহিষ্কৃত সংখ্যালঘু মানুষেরাই ভোটার তালিকায় নাম পুনরুদ্ধারের জন্যে বেশি তৎপর। যেমন সিলামপুর, মতিয়া মহল এলাকায় পুনরায় আবেদনকারী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং আবেদন গ্রহণযোগ্যতার সংখ্যাও সর্বাধিক, ক্রমে ৭৬ ও ৭৫ শতাংশ।
পশ্চিমবঙ্গে ৭.৬৬ কোটি ভোটারের মধ্যে ৫৮.২ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছিল ২০২৬ – এর নির্বাচন পূর্ব সংশোধন প্রক্রিয়ায়। পরবর্তীতে আরও নাম যোগ এবং বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি জানা যায়, বাংলায় বহিষ্কৃত ভোটারের চাইতে, পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের পুনরুদ্ধার করা নামের সংখ্যা বেশি। এই ক্ষেত্রে কমিশনের SIR প্রক্রিয়ায় মারাত্বক রকমের তথ্য অসঙ্গতি এবং পদ্ধতিগত ত্রুটি দেখা যায়। এই সংশোধন প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। শুধুই তড়িঘড়ি করে কমিশন কি কেড়ে নিচ্ছে এক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার? সময়ের অপেক্ষা।

