ভাতের বদলে কাফন? ১৯৫৯ সালের যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কেঁপেছিল রাইটার্স! আহমেদাবাদের স্টাডি সার্কেলে হামলা; নিষিদ্ধ আনা ফ্রাঙ্ক,মালালা ইউসুফজার! কেন বুদ্ধবাবু পারেননি তসলিমাকে নিরাপত্তা দিতে? কেন বিজেপি ফেরাল? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? ককরোচদের (CJP) আন্দোলনে জেরবার BJP! কোন পথে ঐতিহাসিক জয় প্রশান্ত কিশোরের? নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে আশাকর্মীদের ‘ধমক’ চন্দনা বাউড়ির! অনুব্রত জমানার থ্রেট কালচার মনে করাচ্ছেন BJP বিধায়িকা? ভোটের আগেই ফর্ম ফিলাপ, প্রতিশ্রুতির তিন হাজার! আজও সকলে অন্নপূর্ণা ভান্ডার পায়নি কেন?

ভাতের বদলে কাফন? ১৯৫৯ সালের যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কেঁপেছিল রাইটার্স!

১ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

“ভাতের বদলে কাফন চাস তোরা?
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,
পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।”- সুকান্ত ভট্টাচার্য


​১৯৫৯ সালের আগস্ট মাস। স্বাধীন ভারতের বয়স তখন মাত্র বারো বছর। বাংলায় তখন তীব্র খাদ্য সংকট, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং মুনাফাখোর সিন্ডিকেটের কালোছায়ায় আচ্ছন্ন। চালের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। গ্রাম থেকে শহরে মানুষ আসছে কেবল একমুঠো ভাতের খোঁজে। কিন্তু বঞ্চনা আর ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকারের বিপরীতে তৎকালীন বিধানচন্দ্র রায়ের কংগ্রেস সরকার উদাসীন। ঠিক এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে কলকাতার তৎকালীন মনুমেন্ট ময়দানে (বর্তমান শহীদ মিনার ময়দান) গর্জে ওঠে এক ঐতিহাসিক জনসভা। সভা শেষে সাধারণ মানুষ, ছাত্র-যুবক এবং বামপন্থী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরাসরি ‘মহাকরণ অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের অভিমুখে চলা সেই মিছিলে নেমেছিল সেদিনের সর্বস্তরের জনতা।
​কিন্তু জনগণের এই ন্যায্য দাবিকে আলোচনার মাধ্যমে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে রাষ্ট্রশক্তি বেছে নেয় বলপ্রয়োগের পথ। মিছিলে নেমে আসে পুলিশ ও সরকারের নির্মম দমনপীড়ন, নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও গুলিবৃষ্টি। রাজপথ ভিজে যায় আন্দোলনকারীদের রক্তে। বহু মানুষ শহীদ হন। সেদিন লাঠির বাড়ি আর বুলেটের আঘাতেও দমাতে পারেনি মানুষের জাস্টিস-সিকিং স্পিরিটকে।

১৯৫৯ এর বাংলার খাদ্য আন্দোলন

​১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলন কেবল কিছু চাল বা আহারের দাবি ছিল না; এটি ছিল ভারতের সদ্য বিকশিত গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রথম সারির এক মহা-গণঅভ্যুত্থান। পুঁজিবাদী নীতি আর মুনাফাখোরদের রক্ষার্থে সরকার যেভাবে জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েছিল, তা তৎকালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নির্মম সত্য উন্মোচন করেছিল।
​ধর্মের কাঁটাতারে সদ্য ভাগ হয়েছিল যে দেশ, সেদিনের মিছিলের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সে দেশের মানুষগুলো ভুলে গিয়েছিল তাদের জাত, ধর্ম বা গোত্র পরিচয়। ধর্মীয় মেরুকরণের সমস্ত দেওয়াল গুঁড়িয়ে সেদিন রাজপথে হিন্দু, মুসলমান, দলিত, উচ্চবর্ণ নির্বিশেষে সকলেই একাকার হয়ে গিয়েছিল একটিমাত্র ব্যানারের নিচে- “অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই”


ক্ষুধার্ত মানুষের মিছিলে গুলি চালানো মানে কেবল শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করা নয়, তা হলো মানবসভ্যতার মৌলিক নৈতিকতার ওপর সরাসরি আক্রমণ। কিন্তু বুলেট দিয়ে কি কখনো আদর্শকে হত্যা করা যায়? শহীদদের রক্তে ভেজা সেই পিচঢালা পথ পরবর্তীকালে বাংলার বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক উর্বর জমিতে পরিণত হয়েছিল।


শাসকের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেওয়া সেই মিছিলে অংশ নেওয়া সাধারণ মা, বোন, কৃষক ও শ্রমিকদের চোখ দিয়ে যেন সেদিন স্বয়ং ইতিহাস তাকিয়েছিল। বাংলা উত্তাল হয়েছিলো দ্রোহের আগুনে। শুধু রাজপথ নয়, ঝলসে উঠেছিল কলম-রাইফেলও কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বা বিনোদ করেদের মতন কবিদের লেখায়, শম্ভু মিত্রদের সংলাপে, আপামর খেটে খাওয়া মানুষের স্লোগানে স্লোগানে-
“মিছিলের মুখগুলো আজ চেনা,
সকলের চোখে ক্ষুধার আগুন জ্বেলে দেওয়া প্রেরণা।
মহাকরণের তন্দ্রা ভাঙাতে আজ রক্তের নদী,
স্বাধীনতার আলোয় এ কেমন রক্তিম প্রীতি?”


সেদিনের সেই শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়ে গেছে , অধিকার ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না, তা ছিনিয়ে নিতে হয়। ভাত মানুষের প্রথম ও প্রধান অধিকার—এই স্লোগানকে সামনে রেখে যারা সেদিন বুক পেতে দিয়েছিলেন গুলিতে, তাঁদের রক্তে ভেজা মাটি আজো আমাদের পথ দেখায়। সেদিন যারা মৃত্যুকে জয় করে নিল, জাতের বদলে ভাতের অধিক সম্মান যারা দিয়ে গেল,তাদের রক্তে লেখা হোক নতুন সকাল। যেখানে ঘুচে যাবে সকল হানাহানি ও জঞ্জাল।

অন্যান্য প্রতিবেদন.