নিজ বাসভবন থেকে আটক ধ্রুব রাঠী!

৩৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ইউটিউবার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠীকে গুরুগ্রামের সেক্টর-৫৬ এর তার বাসস্থান থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ৷ ১০ অক্টোবর সংঘটিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-এর পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচির ঠিক প্রাক্কালে এই আটকের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা কেবল একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের আটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভারতের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, বাকস্বাধীনতা এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণের এক গভীর প্রতিফলন।

ধ্রুব রাঠী।ছবি-দ্য হিন্দু


‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ডাকে এই বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা। সাম্প্রতিক সময়ে যুবসমাজ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে ইভিএম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ছিল এই কর্মসূচি।
বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়। রাজধানী দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, ইন্টারনেট পরিসেবায় আংশিক বা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনা হয় এবং সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের চলাচলের ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। হাজার হাজার মানুষকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা সতর্কতামূলক আটকের আওতায় আনা হয়। ধ্রুব রাঠীকেও গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর বাড়ি থেকে আটক করা হয়, কারণ পুলিশ প্রশাসন আশঙ্কা করছিল যে তার উপস্থিতি এই বিক্ষোভে জনসমাগম ও তরুণদের আকর্ষণ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।


ধ্রুব রাঠী দীর্ঘকাল ধরেই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তার ভিডিওগুলো মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছায়, যা সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে, এই আটককে সমালোচকরা ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষ থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্বাধীন কণ্ঠস্বর দমন করার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।


​অন্যদিকে, প্রশাসনের যুক্তি ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং রাজধানীতে জনজীবন সচল রাখা। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, কোনো ধরনের অননুমোদিত জমায়েত বা বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ একাধিক বিরোধী নেতা এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, সরকারের এই দমনপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনই প্রমাণ করে যে বর্তমান প্রশাসন জনরোষ এবং যুবসমাজের প্রশ্ন তোলার অধিকারকে ভয় পায়।
ধ্রুব রাঠীর আটক এবং ১০ অক্টোবরের এই সামগ্রিক পরিস্থিতি ভারতের গণতান্ত্রিক পরিসরের এক জটিল বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। একদিকে যেমন সরকারি নীতি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার ও ডিজিটাল মাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রবণতাও বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রের অসহিষ্ণুতার বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলল।

অন্যান্য প্রতিবেদন.