আজ থেকে বছর তিনেক আগে ২০২৩ সালে আরও একটি আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছিল দিল্লি যন্তর-মন্তর। অলিম্পিয়ান ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক এবং বজরং পুনিয়াসহ একাধিক কুস্তিগীর সরব হয়েছিলেন তৎকালীন রেসলিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (WFI) প্রধান ব্রিজভূষণ শরণ সিং-এর বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ ছিল মহিলা কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা ও শোষণ করেছেন ব্রিজ ভূষণ। কুস্তিগীরদের দায়ের করা মামলায় কারাবাস হয় প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের।

সোমবার সেই মামলাতেই দিল্লির একটি আদালত বেকসুর খালাস করে ব্রিজ ভূষণ সিং-কে। বিচারক অশ্বিনী পানওয়ার এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মামলার সহ-অভিযুক্ত ও WFI-এর প্রাক্তন সহকারী সচিব বিনোদ তোমরকেও মুক্তি দেওয়া হয়। নিষ্কৃতি পাওয়ার পরেই ব্রিজ ভূষণ জানান তিনিই যে ঠিক ছিলেন তা প্রমাণিত হল। NDTV-এর কাছে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কুস্তিগীরদের নিশানা করে ব্রিজ ভূষণ আরও বলেন, “এটা তাঁদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের সময়।” তার এই বক্তব্যের পরেই হাসিতে ফেটে পড়েন তাকে ঘিরে থাকা সমর্থকেরা। ৬৯ বছর বয়সি এই বিজেপি নেতা বলেন, “যেদিন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেদিনই বলেছিলাম— অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমি স্বেচ্ছায় ফাঁসিতে ঝুলতে রাজি। আজ আদালত আমাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে”

এই রায়ে ক্ষুব্ধ কুস্তিগীররা। রায় ঘোষণার পরপরই অলিম্পিয়ান ভিনেশ ফোগাট সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে নিজের হতাশার কথা জানান। ভিনেশ জানান, ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে রক্ষা করতে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র কাজ করেছে। সঙ্গে তিনি আরও জানান এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের আদালতে যাবেন কুস্তিগীররা। ভিনেশ ফোগাট বলেন, “শাসক দলের এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে আমাদের অসীম সাহসের প্রয়োজন হয়েছিল। ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে বহু তরুণীকে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। তবুও আমরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছি। আদালতের এই রায়ে আমরা গভীরভাবে হতাশ। প্রথম দিন থেকেই গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্রিজভূষণকে রক্ষা করেছে।”
২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই বিতর্কে ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের খালাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ২০২৩ সালে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ তথা WFI এর গ্রেফতারির দাবিতে ধরনা দিয়েছিলেন অলিম্পিক পদকজয়ী মহিলা কুস্তিগীররা। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন তাঁদের কেউ কেউ। সেই মামলাতেই বেকসুর খালাস পেলেন ব্রিজ ভূষণ। তবে কুস্তিগীরদের হুঁশিয়ারি এর শেষ দেখে ছাড়বেন তাঁরাও।

