বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের কেন্দ্র পাটনার বাঁকিপুর। পরপর ৫ বার ওই কেন্দ্রে জিতেছেন নিতিন নবীন। প্রবাদ ছিল ওই কেন্দ্রে ‘কুকুর বেড়াল দাঁড় করালেও বিজেপিই জিতবে’। অন্তত অতীতের নজির তাই বলছে। ১৯৯৫ সালের পর থেকে এই কেন্দ্রে বিজেপি একটি বারের জন্যেও হারেনি। কিন্তু উপনির্বাচনে সম্পূর্ণ বদলে গেল এই আসনের ফলাফল। হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রে কার্যত প্রেস্টিজ ফাইট ছিল বিজেপির জন্য। শেষমেশ মুখ রক্ষা হল না। নীরজ কুমার সিনহাকে হারিয়ে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে জিতলেন প্রশান্ত কিশোর৷ রাজনীতিতে একেবারে নবীশ ‘জনসূরজ পার্টির’ হয়ে জয় ছিনিয়ে আনলেন পিকে।

অন্যদিকে একই ছবি মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া কেন্দ্রেও। বিজেপিকে পিছনে ফেলে প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং। ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে প্রায় ৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ তিওয়ারিকে হারান ঘনশ্যাম সিং। কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী ২ এপ্রিল অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় আসনটিতে উপনির্বাচন হয়। ১৯৯৩ ও ২০০৩ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন ঘনশ্যাম। তাঁকে বিক্ষুব্ধ বিজেপির একাংশ সাহায্য করেছেন বলেও দাবি তাঁর। পুরনো পরিচিতি, জনসংযোগকে পাথেয় করেই এই নির্বাচনে লড়াই করেন ঘনশ্যাম সিং।

অন্যদিকে আজ আরও একটি কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গুজরাতের মঞ্জলপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির সতীশ গোবিন্দভাই প্যাটেল ৩০ হাজারের বেশি ভোটে কংগ্রেসের ভিখাভাই রাবারিকে হারিয়েছেন। এর আগে এই কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়কের মৃত্যু হওয়ায় আসনটি খালি হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ভিখাভাই রাবারিকে হারিয়ে উপনির্বাচনে মুখরক্ষা করল গুজরাতের এই কেন্দ্র।
বিজেপির এই পরাজয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। কেউ বলছেন, ‘বিজেপির শেষের শুরু’ কেউ আবার বলছেন ‘উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের নজির আগেও রয়েছে, বড় নির্বাচনে তাদের ঠেকানো আসল চ্যালেঞ্জ’। অন্যদিকে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ বিজেপির এই পরাজয়কে দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের রেশ হিসেবেই দেখছেন। বিজেপি বিরোধী একটি হাওয়া তৈরিতে ‘ককরোচদের আন্দোলন’ বড় ভূমিকা পালন করেছে বলেও দাবি একাংশের। সেই আন্দোলনের ঢেউ পৌঁছেছিল বিহারেও। রাস্তায় নেমেছিলেন ছাত্র যুবরা। কিন্তু এই দুটি কেন্দ্রের ফলাফল দিয়ে বৃহত্তর ক্ষেত্রের রাজনৈতিক সমীকরণ যাচাই করা একপ্রকার অমূলক। তবে বিহারের শক্তঘাঁটিতে বিজেপির এই লজ্জার হার রাজ্য রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে আলোচনার দাবিদার।

