ক্রেনশক্তিতে উপড়ে গেলো নেহেরু মূর্তি;কংগ্রেস-বিজেপি-তৃণমূলের ত্রিমুখী তরজা ভারতের শেষ গ্রামে দুর্বিষহ জীবন, পদ্মা নদীর ছন্দেই বাঁচে ওরা! নেই হাসপাতাল, স্কুল, রোজগার! ভাতের বদলে কাফন? ১৯৫৯ সালের যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কেঁপেছিল রাইটার্স! আহমেদাবাদের স্টাডি সার্কেলে হামলা; নিষিদ্ধ আনা ফ্রাঙ্ক,মালালা ইউসুফজার! কেন বুদ্ধবাবু পারেননি তসলিমাকে নিরাপত্তা দিতে? কেন বিজেপি ফেরাল? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? ককরোচদের (CJP) আন্দোলনে জেরবার BJP! কোন পথে ঐতিহাসিক জয় প্রশান্ত কিশোরের? নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে

অসম বন্যায় অব্যাহত মৃত্যু মিছিল, প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৮, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ

২২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

অসমে বন্যা পরিস্থিতি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। গত ২৪ ঘণ্টায় চরাইদেও জেলায় ডুবে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে (২০২৬) অসমে বন্যাজনিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮।

অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৫টি জেলার ৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও বন্যা ও জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছেন। যদিও আগের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শনিবার যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬.৫৫ লক্ষ, সেখানে বর্তমানে সেই সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবুও রাজ্যের বহু এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন এখনও স্পষ্ট।

বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যা কবলিত

জোরকদমে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান

বন্যা মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ASDMA-র তথ্য অনুযায়ী, ৪টি জেলায় মোট ৩৫৪টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব শিবিরে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৭২৪ জনেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), দমকল ও জরুরি পরিষেবা এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে দুর্গত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক লক্ষ পরিবার

কৃষিক্ষেত্রে বড় ধাক্কা

বন্যার জেরে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এখনও ৭৬৩টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। বহু এলাকায় রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা পৌঁছে দিতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে।ASDMA-র তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৮ হাজার ৭৪২.০৯ হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলমগ্ন। ফলে কৃষকদের বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষিনির্ভর হাজার হাজার পরিবার গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো ও পশুপালন

বন্যার ধাক্কায় রাজ্যের একাধিক জেলায় বাঁধ, রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য জনপরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু এলাকায় পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছে দিতেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে।

নুমালিগড় এলাকায় ধানসিড়ি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ফলে নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে প্রশাসন সতর্কতা জারি রেখেছে।

এদিকে পশুপালন খাতেও বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছে আসাম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০টি গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, দুর্গতদের দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। যদিও বিভিন্ন নদীর জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

অন্যান্য প্রতিবেদন.