আম আদমির কিস্তি বনাম শিল্পপতির হাজার কোটি টাকা মকুব: সুভাষ চন্দ্রের রায়ে প্রশ্নবিদ্ধ করপোরেট নীতি ক্রেনশক্তিতে উপড়ে গেলো নেহেরু মূর্তি;কংগ্রেস-বিজেপি-তৃণমূলের ত্রিমুখী তরজা ভারতের শেষ গ্রামে দুর্বিষহ জীবন, পদ্মা নদীর ছন্দেই বাঁচে ওরা! নেই হাসপাতাল, স্কুল, রোজগার! ভাতের বদলে কাফন? ১৯৫৯ সালের যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কেঁপেছিল রাইটার্স! আহমেদাবাদের স্টাডি সার্কেলে হামলা; নিষিদ্ধ আনা ফ্রাঙ্ক,মালালা ইউসুফজার! কেন বুদ্ধবাবু পারেননি তসলিমাকে নিরাপত্তা দিতে? কেন বিজেপি ফেরাল? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? ককরোচদের (CJP) আন্দোলনে জেরবার BJP! কোন পথে ঐতিহাসিক জয় প্রশান্ত কিশোরের?

প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের পরই ‘দিমাগি নকশাল’এর প্ল্যাটফর্ম: জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

১১ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যবহৃত ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি ভারতীয় রাজনীতি ও সামাজিক মাধ্যমে এক নতুন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে। লালকেল্লার প্রাঙ্গণ থেকে দেওয়া এই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই সমাজমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘দিমাগি নকশাল জনতা পার্টি’ নামক একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম। এই ঘটনাটি আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিবাদের এক নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
​ প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই ‘দিমাগি নকশাল’রা সমাজকে ভেতর থেকে অস্থির করার চেষ্টা করছে, যাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপ্রধানের এই মন্তব্য একদিকে যেমন শাসনব্যবস্থার কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়, তেমনই অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জোয়ার তোলে।


​এই বক্তব্যের ঠিক পরেই এক্স (X) সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘দিমাগি নকশাল জনতা পার্টি’ নামক একটি অ্যাকাউন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আপাতদৃষ্টিতে এটি কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দল নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া একটি ডিজিটাল প্রতিবাদের মাধ্যম। এর অনুসারীদের বক্তব্য, যদি সত্যের পক্ষে কথা বলা বা সরকারের সমালোচনা করা ‘নকশালপন্থা’ হয়, তবে তারা সেই তকমা নিতেও রাজি। এই ডিজিটাল আন্দোলনের নেপথ্যে যে ভগত সিংয়ের আদর্শের কথা বলা হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে, তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থানকে একটি বিপ্লবী ধারার সাথে যুক্ত করতে চাইছে।
​এই ঘটনার বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি দিক উঠে আসে। প্রথমত, আধুনিক যুগে রাজনীতির ময়দান এখন আর শুধু রাজপথ নয়, বরং তা বিস্তৃত হয়েছে ডিজিটাল পরিসরে। প্রধানমন্ত্রীর একটি মাত্র শব্দবন্ধকে পুঁজি করে কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে এক বিশাল জনমত তৈরির চেষ্টা চলে, তা এই ডিজিটাল পার্টির আত্মপ্রকাশেই স্পষ্ট। দ্বিতীয়ত, ভারতের মূলধারার রাজনীতির দুই মেরুর দূরত্ব এখানে প্রকট। একদল যখন ‘শহুরে নকশাল’ বা ‘দিমাগি নকশাল’ তকমাকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিপন্ন করার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে, তখন অন্যদল এটিকে বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ হিসেবে চিহ্নিত করছে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম বা জয়রাম রমেশের মতো বিরোধী নেতাদের বক্তব্য সেই বিভাজনকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে।


​তবে সব চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ডিজিটাল দলগুলির স্থায়িত্ব। দেখা গেছে, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বিপুল ফলোয়ার পাওয়ার পরেই অনেক সময় এমন অ্যাকাউন্টগুলো হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে যায়, যেমনটি এই নতুন প্ল্যাটফর্মটির ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই আন্দোলনগুলি কি আসলে কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক রূপ নিতে পারে, নাকি এগুলো নিছকই এক একটি ভাইরাল ট্রেন্ড?


​‘দিমাগি নকশাল’ বিতর্ক কেবল একটি শব্দচয়ন নয়, এটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের প্রতীক। রাষ্ট্র যখন মনে করে ‘মননের নকশাল’রা বিপজ্জনক, তখন সাধারণ মানুষ যখন সেই তকমাকেই গায়ের জোরে নিজের করে নিয়ে পাল্টা মঞ্চ তৈরি করে, তখন তা আধুনিক ভারতীয় গণতন্ত্রের সহনশীলতা ও প্রতিবাদের নতুন রূপকে সামনে নিয়ে আসে। এই ‘দিমাগি নকশাল’ নিছক একটি সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড হয়ে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে কোনো বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের রূপ নেবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক যোগাযোগের এক নতুন ও বিতর্কিত অধ্যায়ের সূচনা করল।

অন্যান্য প্রতিবেদন.