ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

গঙ্গাবক্ষে বিষাদের ছায়া: হুগলি পাড়ে মৃত ইলিশের স্তূপ :

২১ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​ভাগীরথীর বুক চিরে যে নদী একসময় অমৃতের মতো ফলস্রোতা ছিল, সেই হুগলি নদীর পাড়ে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে দীর্ঘশ্বাস। সম্প্রতি নদীর বিভিন্ন ঘাটে ভেসে উঠছে অজস্র মাছের মড়ক। আর তাতে উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি রূপোলী ইলিশের৷ কপালে হাত পড়েছে হাজার হাজার মৎস্যজীবীর, আর উৎকণ্ঠার কালো মেঘ জমেছে পরিবেশবিদদের মনে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত কয়েকদিন ধরেই জোয়ারের টানে কিংবা ভাটায় ভেসে আসছে অজস্র মৎস্যদেহ। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, মৃত এই মাছগুলোর আকৃতি ও গঠন। তাদের শরীরগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ফেঁপে রয়েছে।
​মৎস্যজীবীদের অভিজ্ঞ চোখ বলছে, স্বাভাবিক মৃত্যু হলে মাছের দেহে এমন ফোলা ভাব বা বিকৃতি ঘটে না। এ যেন অন্তর্বর্তী কোনো বিষক্রিয়ার ফল। নদীমাতৃক বাংলার জলবায়ুতে ইলিশের এই করুণ পরিণতি যেন প্রকৃতির এক নির্মম পরিহাস।


​কেন ঘটছে এই মর্মান্তিক পরিণতি? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুব বেশি দূরে তাকাতে হয় না। নদী গবেষক ও পরিবেশবিদদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের আঙুল এবার আরও জোরালো হয়েছে। হুগলি নদীর দুই পাড় জুড়ে গড়ে ওঠা শত শত কারখানা, রঙ ও চামড়ার কল, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এবং মিউনিসিপ্যালিটির অপরিশোধিত নর্দমার বর্জ্য প্রতিনিয়ত মিশে চলেছে নদীর মূল স্রোতে।
​এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্লাস্টিক এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের আগ্রাসন। জলের গুণগত মান এতটাই নিচে নেমে গেছে যে সেখানে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে৷ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত ভারী ধাতু যেমন পারদ, সিসা এবং ক্যাডমিয়াম সরাসরি মিশছে নদীর জলে।


​নদীর পাড়ে ইলিশের এই মড়ক কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি সমগ্র জলবৈচিত্রের ওপর এক মারাত্মক ধ্বংসলীলার পূর্বাভাস। একটি নদী কেবল জলের ধারা নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র। ছোট ছোট জলজ উদ্ভিদ থেকে শুরু করে প্ল্যাঙ্কটন, কাঁকড়া, এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের এক সুষম ভারসাম্য বজায় থাকে নদীর বুকে।নদীর জলজ জীবকুল ধ্বংস হলে পরিযায়ী পাখির দল মুখ ফিরিয়ে নেবে, নদীর প্রাকৃতিক স্বনির্ভর ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। বাংলার নদীমাতৃক সংস্কৃতি আজ অস্তিত্বের সংকটে দাঁড়িয়ে।
এর সাথেই দানা বাঁধছে আরেকটি আশঙ্কা – এই মাছ কোনোভাবে যদি বাজারে মিশে যায়, তবে তা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
​এই ফুলে থাকা মাছগুলোর দেহে জমে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক ও ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক ডায়রিয়া, চর্মরোগ, এমনকি স্নায়ুর জটিল রোগ থেকে শুরু করে মারণ রোগের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সময় ফুরিয়ে আসছে। এখনই যদি কল-কারখানার বর্জ্য নিঃসরণে রাশ টানা না যায়, যদি নদীর বুক থেকে পলি ও বিষ পরিষ্কারের কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী দিনে হয়তো আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জাদুঘরে গিয়ে চিনবে ‘ইলিশ’ নামক রূপোলী স্বপ্নকে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.