সাংবাদিক সম্মেলন, শেখ হাসিনা ফের খবরে! তারেক নাকি হাসিনা? কী ভাবছে দিল্লী? ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে

বন্যা কাটতে না কাটতেই কাজিরাঙা সংকোচনের প্রস্তাব আসামে ; কাঠগড়ায় প্রকৃতি

১২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

৮ই আগস্ট আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, আসামের কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক ও টাইগার রিজার্ভের ‘Eco Sensitive Zone’ বা পরিবেশ সংবেদনশীল অঞ্চল ১০ কিমি থেকে ১ কিলোমিটারে সংকুচিত করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবের মুখ্য কারণ হিসেবে বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন আদালতের নিয়ম অনুসরণ করে, সর্বনিম্ন ১ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে সংবেদনশীল এলাকার সম্প্রসারণ। গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে এসে আবারও জানান, বোকাখাত ও কালিয়াবরের মতো শহরের মানুষেরা আগেও সর্বোচ্চ আদালতকে আর্জি জানিয়েছেন কাজিরাঙার এলাকা সংকোচনের জন্যে। অবশিষ্ট এলাকায় নির্মিত হবে পাঁচতারা হোটেল, টাটার চা বাগান সম্পর্কিত হাথিকুলি প্রজেক্ট এবং রাজ্য সরকার অনুমোদিত নানান বাসভবন ও সম্মেলন কেন্দ্র।

‘Eco Sensitive Zone’ বলতে জাতীয় উদ্যান বা অভয়ারণ্যের চারপাশের সংরক্ষিত এলাকাকে বোঝায়, যা মূলত মানুষ ও প্রাণীদের দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়। উল্লিখিত এলাকায় বড় কারখানা, ব্যবসাকেন্দ্র ও খনন কার্য নিষিদ্ধ। এমন কোনো কাজ যা শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ও প্রাণীদের বসবাসের ক্ষতি পৌঁছয় আইনিভাবে অবৈধ। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ আদালত নিয়ম করে, দেশের যেকোনো সংরক্ষিত এলাকার চতুর্দিকেই ১ কিমির সংবেদনশীল অঞ্চল রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ২০২৩ সালে, সুপ্রিম কোর্ট নিজের এই রায়ের নির্বাচন করে পুনরায় রায় দেয়, দেশের সমস্ত সংরক্ষিত এলাকা অভিন্ন নিয়ম পালন করতে পারেনা। প্রতিটি এলাকা পরিবেশগত, রাজনৈতিক এবং পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল অঞ্চলের ‘ সংবেদনশীল এলাকা ‘ তৈরি করবে।

প্রসঙ্গতই, কাজিরাঙা UNESCO কর্তৃক স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী স্থান, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও প্রাণী সংরক্ষনের জন্যে। শুধু তাই নয়, কাজিরাঙা পুরো বিশ্বে একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষন অঞ্চল হিসেবে বিখ্যাত। ১৯৯৯ সালে যে একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা ছিল ১৫০০, আজ তা প্রায় ২৬০০। তাছাড়াও এই ন্যাশনাল পার্ক ১৪৮ টি বাঘ এবং ১৫০০ – এর চেয়েও বেশি হাতির আশ্রয়স্থল। ‘UNESCO’ কাজিরাঙ্গাকে ব্রহ্মপুত্রের পাশে অবস্থিত ‘ আসামের ফ্লাড প্লেইন ‘ হিসেবে উল্লেখ করে।

আসাম প্রায় প্রত্যেক বছরই ভয়াবহ বন্যার স্বীকার হয়। নিয়মিতভাবে, কিছুদিন আগেই এবছরও আসামে বন্যা আসে যাতে লক্ষ লক্ষ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রাণ হারায় ১০০ – রও বেশি মানুষ। বিজ্ঞানীরা আসামের এই বর্তমান অবস্থাকে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ হিসেবেই বিবরণ করে বলছেন, বছরের পর বছর অবকাঠামো নির্মাণ ও নদীর ধারে মাটি কাটাই এই বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি করছে। প্রতিবছর এই দুর্যোগে প্রাণীরা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে অরণ্যের মধ্যস্থ এলাকা ছেড়ে বাইরের দিকের উঁচু পাহাড় জাতীয় এলাকার দিকে গমন করে যা সেই ১০ কিমি সংবেদনশীল এলাকার মধ্যে পড়ে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, আসাম সরকারের কাছে, ২৫৭০ হেক্টর অতিরিক্ত জমি কাজিরাঙাতে যুক্ত করার প্রস্তাব আসে। ২০২৫ সালের জুন মাসে কোনরকম আলোচনা ছাড়াই সরকার এই প্রস্তাব উপাখ্যান করে। ২০২৬ সালের জুন মাসে কাজিরাঙা এলাকায় সরকারের অনুমতিতে, হায়াতের একটি হোটেল নির্মাণের পরিকলপনা হয়। সেখানে বসবাসকারী সাধারণ ও আদিবাসী মানুষ প্রণব দোলের নেতৃত্বে প্রতিবাদে নামে। ১২ ই জুলাই প্রণব দোলে পুলিশের বিরুদ্ধে হিংস্রতার জন্যে গ্রেফতার হয়। মুক্তির ঠিক একদিন পরেই, ৩০শে জুলাই’ ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ‘ অধীনে প্রণব দোলে আবার গ্রেফতার হন এবং এখনও কারাবাসেই আছেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি ২ মাসের মধ্যেই এই প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্র ও সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের দিকে অগ্রসর হবেন। অতিরিক্ত ১০ কিমি এলাকা সংকুচিত হয়ে যদি ১ কিমি হয়ে যায়, সাধারণ মানুষ সেই নিয়ম অনুযায়ী আচরণ করবে। কিন্তু কিছু অবোধ প্রাণীরা বুঝবে না তাদের বিচরণক্ষেত্র অর্ধেক হয়ে গেছে। তারা ঢুকে পড়বে সাগরণ মানুষের এলাকাতে। পরিবেশবাদীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে নানান উক্তি দিচ্ছেন এবং সরকারকে আবেদন জানাচ্ছেন। স্থানীয় অধিবাসীরাও মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের প্রতিরোধ করছেন নানাভাবেই। কিছু অবুঝ প্রাণী, যাদের বুলি নেই এখনও নিজেদের অজান্তেই লড়ে যাচ্ছে আমাদের এই নির্মম বাকসমাজের বিরুদ্ধে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.