প্রতিবছরেই শ্রাবণ মাসে কানওয়ার যাত্রা (Kanwar Yatra) উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশে ভিড় বাড়ে পুণ্যার্থীদের। এই যাত্রার লক্ষ্য হল হরিদ্বার, গঙ্গোত্রী বা অন্য গঙ্গাতীরবর্তী স্থান থেকে গঙ্গাজল সংগ্রহ করে পুণ্যার্থীরা ‘কানওয়ার’ নামের বাঁশের কাঠামোয় তা কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যান। এরপর তা অর্পণ করা হয় শিবলিঙ্গের উপর। শ্রাবণ মাসের দশমী তিথিতে কানওয়ার যাত্রার পুণ্যার্থীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবর্ষণ করে তাঁদের ভক্তি- বিশ্বাসকে সম্মান জানান। মিরাটের লোকসভা সাংসদ অরুণ গোভিল এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্বাগত জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

অন্যদিকে চলতি বছরের এই যাত্রাতে পুণ্যার্থীদের সুযোগ সুবিধার কথা মাথায় রেখে উত্তরপ্রদেশের মিরাট ও মুজফফরনগর, গাজিয়াবাদের সমস্ত স্কুল, কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। প্রশাসনের দাবি, পুণ্যার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং যানজট এড়াতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।

এই তীর্থযাত্রা উপলক্ষে ৪ অগস্ট থেকে ১২ অগস্ট পর্যন্ত গাজিয়াবাদ জেলার সমস্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বেসিক এডুকেশন বোর্ড, সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ড, CBSE, ICSE, মাদ্রাসা বোর্ড-সহ বিভিন্ন স্বীকৃত বোর্ডের অধীনে থাকা নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল এই কদিন বন্ধ রাখতে হবে। যদি পূর্ব নির্ধারিত কোনও পরীক্ষার সূচি থাকে, তা বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্থগিত রাখতে হবে পঠন-পাঠন।

যদিও এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ধর্মীয় তীর্থযাত্রার জেরে স্কুল-কলেজ কেন বন্ধ থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রশাসনের সাফাই, ১১ অগস্ট শ্রাবণ শিবরাত্রির আগে গাজিয়াবাদে তীর্থযাত্রীদের ঢল নামার আশঙ্কা। কানওয়ার যাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচলে একাধিক বিধিনিষেধ ও ডাইভারশন জারি করা হবে। যানজট এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই স্কুল-কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত বলে জানায় প্রশাসন। কিন্তু এর জেরে যে পড়ুয়ারা নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন? তা নিয়ে কোনও বক্তব্য মেলেনি। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পড়ুয়াদের নিরাপত্তার পাশাপাশি যতটা সম্ভব নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

