Mein Vaapas Aaunga: ইমতিয়াজ পারলেন, বিবেক হারলেন! “ওরা ভেবেছিল গান্ধীকে মারলেই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হবে”, মোলাকাতের প্রথম পর্বে মুখোমুখি গান্ধীবাদী শিক্ষাবিদ মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় One Nation, One Law: এক দেশ, এক আইন প্রজেক্টের নাম “হিন্দি হিন্দু- হিন্দুস্তান” অশান্ত মণিপুরের নেপথ্যে অবৈধ মাদক কারবার? প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ‘বাঙালির সন্তান থাকবে রাজমা চাওলে’, নিরামিষ বাংলা গড়ার প্রথম পদক্ষেপ? Gym Jihad: বাজারে নতুন ট্রেন্ড ‘জিম জিহাদ’, ফের ‘খাত্রে মে’ হিন্দুরা? রাজনৈতিক হিংসার দুই অধ্যায় বাজেটে পার্শ্বশিক্ষকদের নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি, যোগ্যতার অমর্যাদা ও আর্থিক বঞ্চনার চালচিত্র!

মমতার ২১শে জুলাই কি এবার ‘হাত’ ধরে?

৭ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

মমতা ব্যানার্জির এবারের ২১শে জুলাইয়ের সভা কি কংগ্রেসের ব্যানারে হবে? সম্ভাবনা খুব উজ্বল বলা যাচ্ছে না এখনই। আবার ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না। ১৯৯৩-এর ২১জুলাই-র মহাকরণ অভিযানের কারণ সম্পর্কে মমতা ব্যানার্জি বরাবর দাবি করেছেন যে, ‘সিপিএম-এর সায়েন্টিফিক রিগিং’য়ের বিরুদ্ধে সেদিন তিনি মহাকরণ অভিযান করেছিলেন। সেই অভিযান হয়েছিল যুব কংগ্রেসের ব্যানারে। মমতা ব্যানার্জি তখন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন। তেত্রিশ বছর আগে, সেই ২১জুলাই মহাকরণ অভিযান করতে আসা মমতা ব্যানার্জির সমর্থক, বাহিনীরা পুলিশকে আক্রমণ করেছিল বলে অভিযোগ। সেদিন পুলিশ গুলি চালালে ১৩জনের মৃত্যু হয়। স্বরাষ্ট্র সচিব হিসাবে ছিলেন মনীশ গুপ্ত। সেদিনের ঘটনার বিষয়ে হাইকোর্টে ১৯৯৩-র ২রা আগস্ট একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন তিনি। সেই হলফনামা অনুসারে, ওই দিন জমায়েতে ‘বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী(অ্যান্টিসোস্যাল) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিল’।

ওই ঘটনার সাড়ে চার বছর পর মমতা ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেন। প্রথম থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি’র সঙ্গে আঁতাঁত করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। মনীশ গুপ্ত তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে। মমতা ব্যানার্জির সরকারের তিনি মন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন তৃণমূলকে হারিয়ে রাজ্যে সরকার গড়েছে বিজেপি। বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ নেওয়ার পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল ভাঙে। কয়েকদিন আগে ভেঙেছে সংসদীয় দলও। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জেতা ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন এখন তাঁদের সঙ্গে, এমনই বুধবার দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ অংশের নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি। অন্যদিকে ২৮ জনের সংসদীয় দলের ৮-৯ জন আছেন মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে। এই প্রতিবেদককে বুধবার জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীন সাংসদ সৌগত রায়। সামগ্রিকভাবে তৃণমূলের সংসদীয়, পরিষদীয় দলে মমতা ব্যানার্জি সংখ্যালঘু। এই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি তাঁরাই তৃণমূল বলে দাবি করে ঘাসফুল প্রতীক দাবি করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন তাঁদেরই তৃণমূল বলে মেনে নিতে পারে। অর্থাৎ যে দল তিনি বানিয়েছেন, সেই দলের নাম, প্রতীক হারানোর প্রবল আশঙ্কা এখন মমতা ব্যানার্জিরই সঙ্গী। এই পরিস্থিতিতে মমতা ব্যানার্জি কী করবেন, সেই প্রশ্ন প্রায় কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বছর এমন সময়ে পশ্চিমবঙ্গের শহর, গ্রাম তৃণমূল কংগ্রেসের ‘২১শে জুলাই ধর্মতলা চলো’ শীর্ষক পোস্টারে ছেয়ে যায়। এবার এমন একটিও পোস্টার, ব্যানার দেখা যাচ্ছে না। কারণ— মমতা ব্যানার্জির ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সঙ্গে নিয়ে গেছিলেন ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জিকে। সেখানে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন মমতা ব্যানার্জি। অভিষেক একান্তে কথা বলেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। তারপরই জল্পনার হাওয়া জোরে বইতে শুরু করেছে— মমতা ফিরছেন সেই কংগ্রেসে, ১৯৯৭-এর ডিসেম্বরে যে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল। বুধবার দমদম বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ, মমতা ব্যানার্জির পক্ষাবলম্বী সৌগত রায় বলেছেন, ‘‘কংগ্রেসে মমতা ব্যানার্জি সহ আমাদের ফিরে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। তাতে রাজ্যে কংগ্রেসের সাংসদ, বিধায়ক বাড়বে।’’ দমদমের সাংসদ আরও জানিয়েছেন, ‘‘বিধানসভায় যা বিধায়ক আছে তা সহ কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কোনও বাধা নেই। সাংবিধানিক রীতি অনুসারে একে মার্জ বলে। তা সম্ভব।’’ তবে মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ট আর এক তৃণমূল নেতা, বিধায়কের কথায়, ‘‘এখনই এই সম্ভাবনা প্রবল বলা যাচ্ছে না। আবার এখনই উড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না।’’

অর্থাৎ রাজনৈতিক জীবনের সায়াহ্নে মমতা ব্যানার্জির কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত ব্যানার্জি, সন্দীপন সাহা, শতাব্দী রায়, কাকলী ঘোষ দস্তিদাররা তাঁরাই আসল তৃণমূল বলে দাবি করলে, নির্বাচন কমিশন তা মেনে নিলে মমতা ব্যানার্জির সামনে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া নেহাতই ‘একটি প্রবল সম্ভাবনা’ থাকবে না। হয়ে উঠবে ভেসে থাকার একমাত্র উপায়।

পরিস্থিতি বুঝে তাই মমতা ব্যানার্জিকে বুধবারই আগাম ‘স্বাগত’ জানিয়ে রেখেছে প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, ‘‘রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। এমন কিছু হলে তাকে স্বাগত জানাই। বিজেপি’র বিচারধারার বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর আপোষহীন লড়াইয়ে যাঁরা যোগ দেবেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলে যাঁরা মেনে নেবেন, তাঁরা সবাই স্বাগত কংগ্রেসে।’’ অর্থাৎ কংগ্রেসে যোগ দিয়ে আগামী লোকসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি হয়তো প্রার্থী হতে পারবেন, তবে যে ব্যক্তিকে নানা সময়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন, সেই রাহুল গান্ধীকে তাঁর নেতা বলে মেনে নিতে হবে। যদিও শুভঙ্কর সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন একমত নন। তার মধ্যে অবশ্যই আছেন অধীর চৌধুরীর মতো নেতারা।

আগামী ১৮ই জুন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন শুরু। প্রথম দিন থেকেই বিধানসভার মধ্যে ‘কে আসল তৃণমূল’ তা নিয়ে দ্বন্দ্ব, টানাটানি দেখা যাবে। এই দড়ি টানাটানির বেশিদিন চালিয়ে যাওয়া মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্টদের পক্ষে সম্ভব হবে না। একে তো মমতা ব্যানার্জি নিজে বিধানসভায় থাকতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, শোভনদেব চ্যাটার্জির মতো প্রবীনরা এই লড়াইকে টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো দম কতটা রাখতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বিধানসভায় কংগ্রেসের ২ জন বিধায়ক আছে। মমতা-ঘনিষ্ট তৃণমূলের বিধায়করা মিশে গেলে কংগ্রেসের শক্তি অনেকটা বাড়বে। লোকসভাতেও বিষয়টি তাই।

এই পরিস্থিতিতে আসবে ২১শে জুলাই। বাকি আছে আরও প্রায় ৪০দিন। এর মধ্যে ‘মার্জার’ সম্পন্ন হতে পারে, মমতা ব্যানার্জি যোগ দিতে পারেন কংগ্রেসে। তাহলে ২১শে জুলাইয়ের সভা হতে পারে কংগ্রেসেরই ব্যানারে। সেই সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না মমতা-ঘনিষ্ট নেতা, বিধায়করা।

অন্যান্য প্রতিবেদন.