Mein Vaapas Aaunga: ইমতিয়াজ পারলেন, বিবেক হারলেন! “ওরা ভেবেছিল গান্ধীকে মারলেই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হবে”, মোলাকাতের প্রথম পর্বে মুখোমুখি গান্ধীবাদী শিক্ষাবিদ মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় One Nation, One Law: এক দেশ, এক আইন প্রজেক্টের নাম “হিন্দি হিন্দু- হিন্দুস্তান” অশান্ত মণিপুরের নেপথ্যে অবৈধ মাদক কারবার? প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ‘বাঙালির সন্তান থাকবে রাজমা চাওলে’, নিরামিষ বাংলা গড়ার প্রথম পদক্ষেপ? Gym Jihad: বাজারে নতুন ট্রেন্ড ‘জিম জিহাদ’, ফের ‘খাত্রে মে’ হিন্দুরা? রাজনৈতিক হিংসার দুই অধ্যায় বাজেটে পার্শ্বশিক্ষকদের নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি, যোগ্যতার অমর্যাদা ও আর্থিক বঞ্চনার চালচিত্র!

‘বাঙালির সন্তান থাকবে রাজমা চাওলে’, নিরামিষ বাংলা গড়ার প্রথম পদক্ষেপ?

২১ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

মে মাসে পালাবদল দেখেছে বঙ্গবাসী। ডিম, বুলডোজারের বিনোদনে বেশ কাটছে দিন। চ্যানেলে চ্যানেলে টিআরপি চড়া। আমজনতারও মন খুশ। হেলমেট, নামাজ, রেড রোড, বারো পাতার ফর্ম, ডিএ, সোহরাবর্দী আর শ্যামাপ্রসাদ জ্বরে সরগরম সমাজমাধ্যম। সাংসদ-বিধায়কদের ছেলেখেলা দাঁড়িয়ে দেখছে গণতন্ত্র। পাতের ডিম হাতে উঠেছে এবার উঠবে লাটে!

পশ্চিমবঙ্গ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতার স্কুলগুলিতে ‘মিড ডে মিল’ সরবরাহ করবে ইসকন। আপাতত ‘পাইলট প্রজেক্ট’। বলা বাহুল্য, কালে কালে গোটা বাংলার ‘মিড ডে মিলের’ বরাত পেতে পারে ইসকন। সঙ্গত কারণে প্রশ্ন উঠেছে ডিম-কে ঘিরে। ডিমের চেয়ে ভালো প্রোটিনের সহজলভ্য, সস্তা উৎস আদৌ রয়েছে কি-না জানা নেই। সেই ডিম এবার উবে যেতে চলেছে। ইসকন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা সয়াবিন, রাজমা ইত্যাদি দেবেন। ভারতের একাধিক ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের বেশ কিছু শহরে ইসকন ইতিমধ্যেই মিড ডে মিল সরবরাহের কাজ করছে। তার মধ্যে অধিকাংশ শহরে নিরামিষভোজীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, ফলে ডিম নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি সেখানে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষ আমিষভোজী, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ফেসবুক, এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বহু খোপে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একদল যথারীতি খুশি। বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পুষ্টিবিদেরা জেগে উঠেছে। রীতিমতো ছক কেটে কীসে, কত প্রোটিন আছে, তাঁরা দেখিয়ে দিচ্ছেন। দেখাচ্ছেন, পাল্লা ভারী রাজমা, সয়াবিনের দিকেই। সুতো দিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেদ্ধ ডিম টুকরো করার স্মৃতি বহমান যে জাতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, তারা ডিমের বিরুদ্ধে গলা ফাটাচ্ছেন। ইসকনের খাবারের গুণমান, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি প্রশংসিত হচ্ছে, কেউ কেউ পূর্ববর্তী সরকারগুলির তুলনা টানছেন। কে, ক’টা ডিম দিতো, তা নিয়ে লাঠালাঠি শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাজমার গুণাবলির পাঠও মিলছে। নগণ্য হলেও বিরুদ্ধমত আছে। তবে রাজমা ও সয়াবিন শিবিরের কারও সন্তানই হয়তো সরকারি স্কুলে পড়ে না। হয়তো বৃহত্তর ভারত তাঁরা দেখেননি। দেখলেও উপলব্ধি করতে চাননি।

২০১৭ সালের রাঁচির এক ঘটনার কথা মনে পড়ে যায়। সরকারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অমিত কোড়ার কাহিনি। স্কুলে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া হলে পকেটে পুরে নিত অমিত। ছুটি হলেই এক দৌড়ে বাড়ি পৌঁছে মায়ের হাতে ডিম তুলে দিত অমিত। তিন বোন আর মাকে নিয়ে পরিবার। বেশির ভাগ দিনই খাবার জোটে না, অভাব নিত্যসঙ্গী। মা পরিচারিকার কাজ করতেন। যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন তিনি। ডাক্তারবাবু নিদান দেন, ভালো খাবার না-খেলে এ রোগ সারবে না। ফি দিন একটা করে ডিম খেতেই হবে। দু’বেলার খাবার জোটে না, কোথা থেকে আসবে ডিম। অমিত শুনতে পেয়েছিল চিকিৎসকের পরামর্শ। মিড ডে মিলে পাওয়া ডিমটি লুকিয়ে নিয়ে এসে মায়ের হাতে তুলে দিত সে। ফেসবুকের কোন্দল পেরিয়ে এ জিনিসের মর্ম উপলব্ধি করার শক্তি বাঙালি হারিয়েছে। হকারের দোকান ভাঙা পড়লে সে উচ্ছ্বসিত হয়। সহ-নাগরিকের উপার্জনের শেষ পথটুকু বন্ধ হলে যে উল্লাস করে, তার থেকে সহমর্মিতা আশা করা সমীচীন নয়।

প্রশ্নটা কেবল পাতে ডিম না-পড়া নিয়ে নয়। রাজমা, সয়াবিনের আড়ালে রয়েছে এক দীর্ঘ পরিকল্পনা। আমিষ সেক্যুলার ভারতকে ভেঙে যে নিরামিষ ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ভারত গড়ার কাজ চলছে, তারই একটি ধাপ রাজমা-সয়াবিন। কোনটায় প্রোটিন বেশি, কার পুষ্টিগুণ কত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক’টা ডিম দিতো, ইসকনের বরাত পাওয়ার ক্ষেত্রে আদৌ টেন্ডার হবে কি-না ইত্যাদি প্রশ্নে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, খাদ্যাভ্যাস বদলের সম্ভাবনা। জনকল্যাণে সরকারের বরাদ্দ অর্থ, কোনও সংস্থার হাতে চলে যাওয়া। স্কুলে ‘মিড ডে মিল’-র রান্না হলে দু-তিনজনের কর্মসংস্থান হয়। সে পথও বন্ধ হলো।

২০১৪-র পর থেকে ভেগান আন্দোলন ভারতে গতি পেয়েছে। তাতে বাণিজ্যিক স্বার্থ আছে। রয়েছে রাজনৈতিক অভিসন্ধিও। নিরামিষাশী মানুষ নিজেকে উত্তম ভাবছেন। ভাবতে বাধ্য করা হচ্ছে। নিরামিষ আহার ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর পথ, এ বড়িও গুঁজে দেওয়া হচ্ছে দেশবাসীর মুখে। মাছ-মাংসের দোকান ভাঙা বা তুলে দেওয়া বা দোকান বন্ধের ফরমান জারি করার চেয়ে অনেক ভালো উপায় খাদ্যাভ্যাস বদলে দেওয়া। খাদ্যাভ্যাস বদলে গেলে এমনিতেই মাছ-মাংসের দোকানের প্রয়োজনীয়তা ফুরোবে। অচিরেই তা বন্ধ হবে। বাংলার স্কুল পড়ুয়াদের নিরামিষ খাইয়ে এক নয়া প্রজন্ম তৈরি করা হবে। খাবারের পাতে তারা নিরামিষকেই অগ্রাধিকার দেবে। বাংলা, নিজের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র হারাবে। হারাবে খাদ্য সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের ঈশ্বরী পাটনি বর চেয়েছিলেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’ আদত উদ্দেশ্য আগামী প্রজন্মের পুষ্টি সুনিশ্চিত হোক। সয়াবিন, রাজমায় পুষ্টি মিলুক। সঙ্গে এক-দু’দিন ডিমও থাকুক। এ দাবি উঠুক সর্বস্তরে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.