পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল দশা এবং সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক গভীর মর্মস্পর্শী ও বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক। বিধায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে যে, জেলার সুপার স্পেশালিটি বা মহকুমা হাসপাতালগুলি আজ মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সামান্য জটিল রোগ হলেই গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে রোগীদের কলকাতা বা জেলা সদরে ‘রেফার’ করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা গরিব মানুষের কাছে এক ধরণের মরিয়া দৌড়ঝাঁপ ও মৃত্যুর পরোয়ানায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসার অভাবে একের পর এক প্রান্তিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে৷ এর থেকে প্রমণিত জেলা স্তরে জরুরি চিকিৎসা বা ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবার বেহাল দশা উন্নতির আলো দেখেনি।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীও (PA) দুর্দিনে সাধারণ মানুষের ফোন ধরেন না। সরকারি হাসপাতালে ‘রোগী সহায়তা কেন্দ্র’ কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হন। একজন নির্বাচিত বিধায়ক যখন প্রকাশ্যে নিজের অসহায়তার কথা স্বীকার করেন এবং জানান যে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকু করতে পারছেন না, তখন তা প্রশাসনিক কাঠামোর চরম ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করে।
রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল চত্বরগুলিতে দালাল চক্র এবং বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা নার্সিংহোম সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আজ সর্বগ্রাসী। মুমূর্ষু রোগীর পরিবারকে মানসিক ও আর্থিকভাবে শোষণ করার এক অদৃশ্য অরাজকতা চলছে সর্বত্র। সাধারণ মানুষ যখন জীবনের সঙ্গে লড়ছে, তখন এক শ্রেণির সুবিধাভোগী চক্র এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটছে। এর প্রতিকারে শাসক ও প্রশাসন উভয়েরই নীরব ভূমিকা তীব্র প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে রাজ্য সরকারের তথাকথিত ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ও উন্নত পরিকাঠামোর দাবিকে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আজ আর কেবল চিকিৎসালয় নেই, তা যেন সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। জঙ্গিপুরের বিধায়কের এই বার্তা ভেঙে পড়া গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদের ভাষা, যা অবিলম্বে নড়েচড়ে বসার বার্তা দিচ্ছে নবান্ন ও স্বাস্থ্যভবনকে।

