ভারতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট অনুযায়ী এনকাউন্টারের নিয়মগুলি ঠিক কী কী?
ভারতীয় আইন বিধি অনুযায়ী এনকাউন্টার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনও সাধারণ আইনি স্বীকৃতি নেই। কেবলমাত্র আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশকে শর্তসাপেক্ষ বলপ্রয়োগের অনুমতি দেয়। ভুয়ো এনকাউন্টার রুখতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে।
১. এনকাউন্টার করা যায় কেবলমাত্র ব্যতিক্রমি পরিস্থিতিতে।
° ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এর ধারা অনুযায়ী যদি কোনও প্রশাসনিক কর্তা বা অন্যের জীবনের মারাত্মক ঝুঁকির পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখনই আত্মরক্ষায় গুলি চালানো যায়।
° অভিযুক্ত এবং দণ্ডনীয় অপরাধী যদি গ্রেফতার এড়াতে হিংসাত্মক প্রতিরোধ করে এবং পালানোর চেষ্টা করে তখন এনকাউন্টার করা যায়।
২. এনকাউন্টের পর ভারতীয় দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট ধারায় পুলিশের বিরুদ্ধে FIR করতে হবে।
৩. এনকাউন্টের পর কোনও স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তকারী দলকে ঘটনার তদন্ত করতে হবে।
৪. অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অস্ত্র নিয়ে কোনও গোপন তথ্য পেলে তা লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রেকর্ড করতে হবে।
৫. এনকাউন্টারের পর দ্রুত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জানাতে হবে।
৬. এনকাউন্টারে আহত অপরাধী বা পুলিশকর্মীকে দ্রুততম চিকিৎসা দিতে হবে, রিপোর্ট রেকর্ড করতে হবে।
৭. ঘটনাস্থলের ভিডিওগ্রাফি করে সমস্ত ফরেন্সিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে।
৮. ঘটনার পর অভিযুক্ত আহত বা নিহত হলে পরিবারকে খবর দিতে হবে।
৯. তদন্ত শেষ না হওয়া অবধি পুলিশ কর্মীদের কোনও বীরত্বের পুরস্কার বা প্রমোশন দেওয়া হবে না।
১০. আইন অনুযায়ী এনকাউন্টার ভুয়ো প্রমাণিত হলে, বা পুলিশ ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছে প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করতে হবে।
সূত্র: National Human Rights Commison India (NHRC)
(https://nhrc.nic.in/flipbook/act_rule_sop_guideline/42)

