ফিনিশ থেকে ফিনিক্স, সমতা সম্রাট মেসি, দু’কদম এগিয়েও আর্জেন্টিনার কাছে হার মিশরের

১২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

‘তুমি কি নিজেকে ব্যর্থ ভাবো? তোমাকে আমি এ গান শোনাব’….

আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এই গানটির নাম লিওনেল মেসি। ইজিপ্ট-আর্জেন্টিনার ম্যাচে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় আবারও তা প্রমাণ করেই ছাড়লেন লিও। প্রথম থেকেই খেলা ছিল মিশরের পায়ে। ১৫ মিনিটেই ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিমের হেড থেকে গোল পেয়ে ১-০ তে এগিয়ে যায় মিশর। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার পিছিয়ে পড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে। তবে তখনও অনেক সময় বাকি।

শুরু থেকেই প্রেসিং ভঙ্গিতে এগোচ্ছিল ম্যাচ। দুই দলই বল কেড়ে নেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। ১৯ মিনিটে নিকোলাস  তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হতেই পেনাল্টির বাঁশি বাজায় রেফারি। সমতা ফেরাতে পেনাল্টি নিতে আসেন মেসি। মিশরের গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবেরের পিরামিডের কাছে প্রতিহত হয় মেসির চেষ্টা। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার পেনাল্টি মিস করেন লিও। এরপরেও একাধিক গোল ঠেকিয়ে মিশরকে এগিয়ে রাখেন শোবের।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথমেও সমতা ফেরানো তো দূর, বেশ ধীর গতিতেই চলছিল আর্জেন্টিনার খেলা। মেসির উপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে। এমনসময়ই ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মোড়। আরেকটু হলেই ২-০তে পিছিয়ে যেতে বসেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই যাত্রায় বাঁচিয়ে দিল লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে করা ফাউল। ভার রিপ্লে দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি। গোলের উদযাপন করেও বাস্তবে ফিরতে হয় মিশরকে। তবে তার মাত্র কিছু মিনিটের মাথাতেই আবারও বল জালে বাঁধালেন জিকো। ঠেকাতে পারলেন না মার্টিনেজ। এবার সত্যি সত্যিই স্কোরবোর্ডে দুই কদম এগিয়ে মিশর আর ০ আর্জেন্টিনা।

২ গোলে মিশরকে এগিয়ে দিলেন জিকো

ততক্ষণে গ্যালারিতে ক্যামেরা ঘুরতেই কেবল সামনে আসছে থমথমে কিছু মুখের ছবি। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল মিশরের হাতেই। শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষাটুকু ডিফেন্সের সঙ্গে করতে পারলেই কোয়ার্টার ফাইনালে মিশর। কিন্তু ভুলে গেলে হবে না তখনও বাকি ছিল ১৩ মিনিট। আর এইটুকু সময়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ কামব্যাকের নজির গড়ল আর্জেন্টিনা।

সেলিব্রেশন

৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোমেরোর হেডে এক ধাপ এগোয় আর্জেন্টিনা। আর তার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ফিনিশ হয়ে যাওয়া ম্যাচে ফিনিক্স হয়ে সমতা ফেরালেন লিওনেল মেসি। স্কোর বোর্ডে মিশরের সঙ্গে সমানে সমানে বিশ্বজয়ীরা। এবার কি তবে টাইব্রেকার? নাহ। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করলেন ফার্নান্দেজ। হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতে সেরা আটে জায়গা করে নিল মেসিরা। ফুটবল বিশ্ব আবারও শিখল আসলে এই খেলায় আগেভাগে কিছুই প্রেডিক্ট করতে নেই। শেষ বাঁশির শব্দ না শোনা অবধি ওই মায়াবি সবুজ মাঠে কখন যে কী হবে, তা কেউ বলতে পারে না। 

অন্যান্য প্রতিবেদন.