‘আকাশ তো বড়’, যুদ্ধ আবহে ফাইবার অপটিকে বাসা বুনছে পাখিরা

৩১ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

‘হিংসা নয়, যুদ্ধ নয় ফুল ফোটাও গন্ধরাজ’। 

প্রায় বছর চারেক ধরে ইউক্রেন-রাশিয়ার আকাশে বারুদের গন্ধ। লাশের পাহাড় জমেছে সীমান্তে। দুই দেশের কাছেই কার্যত নিউ নরমাল হয়ে উঠেছে যুদ্ধ। তবে যেকোনও ধ্বংসেরই উল্টোদিকে নিজের গতিতে সৃষ্টিও হয়, এই-ই পৃথিবীর সৌন্দর্য। আর যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে এমনই এক সৃষ্টির নজির দেখে চমকে উঠেছেন বিজ্ঞানীরাও। অস্তিত্ব রাখার লড়াইয়ে পাখিরা তৈরি করছে আরও পোক্ত ঘর। খড়কুটো নয় বরং ফ্রাইবার অপটিক কেবল দিয়ে বাসা বুনছে ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার পাখিরা। ঘটনায় বিস্মিত কিভের ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক ইয়ানা হ্রিনকো। 

গবেষক হ্রিনকো জানান, এই ঘটনা বিস্ময়কর। যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে জীবজগতেও। যুদ্ধের ফলে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি। গবেষকরা এমনই দুটি পাখির বাসা সংগ্রহ করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম খড়কুটোর সঙ্গে তার জুড়ে বাসা তৈরি করেছে পাখিরা।  

যুদ্ধের আবহে দুই দেশেরই আকাশ জুড়ে ড্রোনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ফাইবার অপটিক কেবল। শত্রু পক্ষ যাতে ড্রোন কব্জা করে নিষ্ক্রিয় না করে দিতে পারে, তারজন্য ড্রোনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয় এই অপটিক কেবল। সরু সরু কাঁচের মতো দেখতে এই তারগুলি প্রায় ২০ কিমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে এই তারের জাল ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দুই দেশেই। রোদ পড়লে মনে হয় যেন কোনও বিশালাকার মাকড়সার জালে ঢেকে গিয়েছে আকাশ। 

সেসব নিষ্ক্রিয় তার থেকেই বাঁচার রসদ খুঁজে নিয়েছে পাখিরা। বাসা বেঁধেছে আপন খেয়ালে। সাধারণ পাখির বাসা থেকে সেগুলি অনেক বেশি দৃঢ় এবং মজবুত। তবে কোন প্রজাতির পাখি এহেন শিল্পের কারিগর, তা খুঁজতে চলছে গবেষণা। ডিএনএ টেস্ট করে খুঁজে বের করা হবে পাখির প্রজাতি। যুদ্ধ হোক বা জীবন বিবর্তনবাদ বলছে টিকে থাকবে তারাই যারা খাপ খাইয়ে নিতে পারে। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ফাইবার তারের এই পাখির বাসা তারই প্রমাণ। 

অন্যান্য প্রতিবেদন.