উচ্চ বেতনের চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একদল বাংলাদেশি যুবককে। পরিবারের অভিযোগ, নির্মাণ সংস্থায় কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের পাচার করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। এরপরই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। অভিযোগ, সেখান থেকে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রত্যেকের বিনিময়ে প্রায় তিন হাজার মার্কিন ডলার লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যুবকদের মধ্যে। কোনওমতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানান, তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হতে পারে। এরপর আর যোগাযোগ রাখা সম্ভব হবে না। দ্রুত উদ্ধারের জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধও করেন তারা।
এরপর থেকেই একে একে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের দাবি, অন্তত ১৫ জনের আর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তারা জীবিত না মৃত, তা-ও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা। অন্যদিকে, চার থেকে পাঁচজন আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে খবর মিলেছে।
নিখোঁজদের পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সহায়তা মেলেনি। তাঁদের দাবি, আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সময় নষ্ট হয়েছে। ফলে অনেকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও অজানা।

এই পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারগুলির। প্রতিটি ফোনকল, প্রতিটি বার্তার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। প্রিয়জনের কোনও খবর মিলবে কি না, সেই উৎকণ্ঠাই এখন তাঁদের নিত্যসঙ্গী। একইসঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্বজনেরা।

