অনেকদিনের রাজনৈতিক চাপানউতোরে কার্যত ইতি। গত ৪ঠা মে রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা NCPI-এ তে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। তালিকায় ছিলেন দেব, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া সহ একাধিক সাংসদ। তবে তাঁদের এখনও এনসিপিআই সদস্য হিসেবে লোকসভায় স্বীকৃতি মেলেনি। তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করার দাবিতে স্পিকারের কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার NDA-এর জোটের ‘মঙ্গল বৈঠকে’ যোগ দেন NCPI-এর সাংসদরাও। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের সংসদীয় বৈঠকে মোদী, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে একই সারিতে দেখা গেল একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেও। পিছনের সারিতেই ছিলেন আরও এক সাংসদ শতাব্দী রায়। লোকসভায় স্বীকৃতি না মিললেও দেশের সর্ব্বোচ্চ পদাধিকারীদের সঙ্গে একই সারিতে কাকলির অবস্থান রাজনীতিতে নতুন জল্পনা উস্কে দিচ্ছে। NCPI-সাংসদদের মর্যাদা বাড়ছে লোকসভার অন্দরে।
অর্থাৎ NCPI-এর বিজেপির সঙ্গে মিশে যাওয়ার যে জল্পনা তা কার্যত সত্যি হতেই চলেছে। এই ঘটনাকে কার্যত রাঘব চাড্ডার দলবদলের সঙ্গে তুলনা করছেন বিরোধীরা। তৎকালীন আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা সদলবলে বিজেপিতে এসে যোগ দেওয়ার ঘটনার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে কাকলি-শতাব্দীদের সাংসদ হিসেবে অবস্থান।

তৃণমূলের ছোট নেতাদের ধরপাকড় করলেও কেন মর্যাদা পাচ্ছেন বিদ্রোহী সাংসদরা?
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ,কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন ,ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মতো বিল গুলি পাশ করাতে বিজেপির যে সংখ্যা গরিষ্ঠতা চাই তা থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে তারা। বাংলার ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে ঘুরপথে NCPI-এ যোগ দিয়েছেন। যারা NDA-এর শরিক। হিসেবে মেলালে দেখা যাচ্ছে এই মুহূর্তে এনডিএ-র নিশ্চিত সাংসদ সংখ্যা ২৯৩ জন। তৃণমূল ভেঙে NCPI-থেকে আসা ২০ জন সাংসদ সরকারকে সমর্থন করলে সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১৩। এছাড়া ডিএমকের ২২জন সাংসদ, একনাথ শিবির ও শরদ শিবিরের সমর্থন পেলে মোট ৩৫৪টি সাংসদ পাবে এনডিএ। আর এতেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবে বিজেপি।

