ক্রেনশক্তিতে উপড়ে গেলো নেহেরু মূর্তি;কংগ্রেস-বিজেপি-তৃণমূলের ত্রিমুখী তরজা ভারতের শেষ গ্রামে দুর্বিষহ জীবন, পদ্মা নদীর ছন্দেই বাঁচে ওরা! নেই হাসপাতাল, স্কুল, রোজগার! ভাতের বদলে কাফন? ১৯৫৯ সালের যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কেঁপেছিল রাইটার্স! আহমেদাবাদের স্টাডি সার্কেলে হামলা; নিষিদ্ধ আনা ফ্রাঙ্ক,মালালা ইউসুফজার! কেন বুদ্ধবাবু পারেননি তসলিমাকে নিরাপত্তা দিতে? কেন বিজেপি ফেরাল? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? ককরোচদের (CJP) আন্দোলনে জেরবার BJP! কোন পথে ঐতিহাসিক জয় প্রশান্ত কিশোরের? নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে

প্রতিবাদের ভাষা বদলেছে, বদলেছে সংবাদমাধ্যমকে দেখার চোখও

৪২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

প্রতিবাদের ভাষা কখনও একরকম থাকে না। সময়ের সঙ্গে যেমন সমাজ বদলায়, তেমনই বদলে যায় প্রতিবাদের ধরনও। এক সময় পোস্টার, মিছিল আর স্লোগান ছিল প্রতিবাদের প্রধান মাধ্যম। এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া, মিম, ব্যঙ্গচিত্র, রিলস এবং ভাইরাল ট্রেন্ড। বিশেষ করে Gen-Z প্রজন্ম তাদের ক্ষোভ বা মতামত প্রকাশের জন্য এমন ভাষা ব্যবহার করছে, যা আগের প্রজন্মের কাছে অনেক সময় অস্বাভাবিক মনে হলেও তাদের কাছে সেটাই সবচেয়ে কার্যকর।

প্রতিবাদ কখনও শুধু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না। কোনও দাবি, অন্যায় বা জনস্বার্থের প্রশ্নে মানুষ রাস্তায় নামেন, আর সেই প্রতিবাদের কথা রাজ্য, দেশ এমনকি বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব থাকে সংবাদমাধ্যমের। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সংবাদমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদের মূল কারণ বা দাবি তুলে ধরার বদলে আন্দোলনকারীদের পরিচয়, পোশাক বা অন্য প্রসঙ্গকে সামনে এনে বিতর্ক তৈরি করছে। ফলে মূল ইস্যু আড়ালে চলে যাচ্ছে। যেমন নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের সময় অনেক জায়গায় আন্দোলনকারীদের পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। অথচ আসল বিষয় ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস। কেউ কী পোশাক পরেছেন, তা নয়; তিনি কী বলতে চাইছেন, সেটাই হওয়া উচিত আলোচনার বিষয়।

কার্টুন সৌজন্যে: সতীশ আচার্য

এমন অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার পক্ষ নিয়ে কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। আর সেই ক্ষোভ থেকেই আজ বুম ক্যামেরা হাতে কর্মরত সাংবাদিক দেখলেই চিৎকার করা হয় “গদি মিডিয়া” বলে। আর সেই ক্ষোভ শুধু চিৎকার বা অপমানে থেমে থাকেনি সাংবাদিকদের হেনস্তা তাদের উপর হামলার ঘটনাও আমরা দেখলাম। “গদি মিডিয়া” শব্দটির প্রচলন শুরু হয় সাংবাদিক রবীশ কুমারের একটি জনসমক্ষে আলোচনার (পাবলিক ডিবেট) পর। সেখানে তিনি “lapdog media” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে এমন এক ধরনের সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছিলেন, যারা ক্ষমতাকে কঠিন প্রশ্ন করার পরিবর্তে যেন “media sitting on the lap like a lapdog” অর্থাৎ প্রভুর কোলে বসে থাকা অনুগত কুকুরের মতো আচরণ করে। সেই বক্তব্য থেকেই “গদি মিডিয়া” শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে সামাজিক মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের একাংশকে সমালোচনা করার মূল ভাষা হয়ে দাঁড়ায় একটাই শব্দ “গদি মিডিয়া”। শব্দটি এত পরিমাণে প্রচলিত হয়ে পড়ে যে এখন কোন সংবাদমাধ্যম ক্ষমতার চাটুকারিতা করে এবং কোন সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করে তা যাচাই না করেই খুব সহজে বলে দেওয়া হয় “গদি মিডিয়া”।

কার্টুন সৌজন্যে: Molitics,in

একটা সময় ছিল যখন বৃষ্টির পূর্বাভাস হোক কিংবা একদিন লোকাল ট্রেন বন্ধের আগাম বার্তা সবকিছুতেই সাধারণ মানুষের মূল ভরসা ছিল মূল সারির সংবাদমাধ্যম আর সোজা বাংলা কথায় বললে টিভি চ্যানেলের খবর। যখন সাধারণ মানুষের মুখে কোন খবর শুনলে অপর জন প্রশ্ন করত “খবরে দেখাচ্ছে নাকি?” আজকের তরুণ প্রজন্ম সংবাদমাধ্যমকে আগের মতো চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে না। তারা একই ঘটনার একাধিক সূত্র খোঁজে, ভিডিও মিলিয়ে দেখে, স্বাধীন সাংবাদিকের বক্তব্যও শোনে, আর তারপরই বলে দেয় “এগুলো নিউজ চ্যানেল কভার করছে না। সব গদি মিডিয়া!”

এই “গদি মিডিয়া” শব্দ আজকের জেনারেশন এর কাছে খুবই প্রচলিত কিন্তু একটি শব্দবন্ধ একজন সাংবাদিককে হেনস্তার লাইসেন্স হতে পারে না। সমালোচনা হোক, কঠিন প্রশ্ন উঠুক, সংবাদমাধ্যম নিজেদের ভুলও স্বীকার করুক। কিন্তু গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা – দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বাস হারালে সংবাদমাধ্যম দুর্বল হয়, আর সাংবাদিক নিরাপদ না থাকলে সত্য সামনে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।

সাংবাদিক হেনস্থার বিরুদ্ধে কলকাতায় মিছিল

সাংবাদিকতা শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য একটি পেশা নয়। সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করার উদ্দেশ্য নিয়ে একজন সাংবাদিক এই পেশায় কতটা ঝুঁকি আছে জেনেই সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে বেছে নেন। দুর্নীতির খবর, অপরাধ, রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সংঘাতপূর্ণ এলাকার খবর করতে গিয়ে বহু সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৫ সালে উত্তরপ্রদেশে বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশের পর জগেন্দ্র সিংকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়, ২০২১ সালে লখিমপুর খেরির রাজনৈতিক সংঘর্ষ কভার করতে গিয়ে প্রাণ হারান রমন কাশ্যপ। । ২০০৮ সালে জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখায় (LoC) গোলাগুলির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হন অশোক সোধি। আর ২০২৫ সালের বাজপেয়ী ঘটনা আমরা সবাই জানি, কীভাবে সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে খবর করতে গিয়ে খুন হন রঘোবেন্দ্র বাজপেয়ী, জমি দুর্নীতির খবর করতে গিয়ে মুকেশ চন্দ্রকার। এই ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দেয়, মাঠে কাজ করা একজন সাংবাদিক প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাই কোনও সাংবাদিক কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বা সেই প্রতিষ্ঠানের নীতি কী-তা না জেনে শুধু বুম, চ্যানেলের নাম দেখে তাঁকে অপমান করা বা আক্রমণ করা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে, কিন্তু একজন মাঠের সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও সম্মানও সমানভাবে রক্ষা করা জরুরি।

অন্যান্য প্রতিবেদন.