Mein Vaapas Aaunga: ইমতিয়াজ পারলেন, বিবেক হারলেন! “ওরা ভেবেছিল গান্ধীকে মারলেই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হবে”, মোলাকাতের প্রথম পর্বে মুখোমুখি গান্ধীবাদী শিক্ষাবিদ মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় One Nation, One Law: এক দেশ, এক আইন প্রজেক্টের নাম “হিন্দি হিন্দু- হিন্দুস্তান” অশান্ত মণিপুরের নেপথ্যে অবৈধ মাদক কারবার? প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ‘বাঙালির সন্তান থাকবে রাজমা চাওলে’, নিরামিষ বাংলা গড়ার প্রথম পদক্ষেপ? Gym Jihad: বাজারে নতুন ট্রেন্ড ‘জিম জিহাদ’, ফের ‘খাত্রে মে’ হিন্দুরা? রাজনৈতিক হিংসার দুই অধ্যায় বাজেটে পার্শ্বশিক্ষকদের নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি, যোগ্যতার অমর্যাদা ও আর্থিক বঞ্চনার চালচিত্র!

গোটা দুনিয়া কেপ ভার্দে হোক!

৬ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

“আজ এক নাম না জানা কোনো পাখি

ডাক দিলো ঠোঁটে নিয়ে খড়কুটো…”

কেপ ভার্দে। পর্তুগিজে কাবো ভার্দে। অনেকেই জানেন না, যে এই নামের কোনো দেশ আছে। তবু সেই দেশটাই আজ ঠোঁটে খড়কুটো নিয়ে ডাক পাঠিয়েছে। ডাক পাঠিয়েছে এক অসম, কিন্তু অদম্য লড়াইয়ের। দেশটার গল্প যেন ঠিক অস্তিত্বের সংগ্রামে যোগ্যতমের উদ্বর্তনের মতোই। আগ্নেয়গিরির আগুন থেকে যে দ্বীপরাষ্ট্রের জন্ম। বহমান কালস্রোতে যারা হারিয়ে যায়নি! দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শোষণ, দাসব্যবসা, দুর্ভিক্ষ– এতসবের মধ্যেও কেপ ভার্দের জনগণ নিজেদের পরিচয়ের লড়াই লড়ে গেছে রোজ। আটলান্টিকে ভেসে ওঠা ভূখণ্ডের লড়াকু একাদশ বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে প্রথমে স্পেন, তারপর উরুগুয়ের মতো দলকে রুখে দিয়ে সারাবিশ্বকে নিজের অস্তিত্বের জানান দিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যেই।

সেনেগাল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে, যেন আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে হারিয়ে যাওয়া দশটি আগ্নেয় দ্বীপ এবং কয়েকটি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে তৈরি একটি দ্বীপপুঞ্জ। আফ্রিকান, ইউরোপীয় এবং ব্রাজিলীয় ঐতিহ্য- সংস্কৃতির যেন এক অনন্য মিশ্রণ! যে মিশ্রণকে অন্য মাত্রা দিয়েছে কেপ ভার্দের নৈসর্গিক সৌন্দর্য আর ক্রেওল সংস্কৃতি। রাজধানী প্রাইয়ার ব্যস্ত নাগরিক জনজীবন, নব-ধ্রুপদি শৈলীর নসা সেনহোরা দা গ্রাসা গির্জা কিংবা নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর, পিকো দো ফোগোর আগ্নেয়গিরির ভয়ানক সৌন্দর্য, মিন্ডেলোর মতো প্রাণবন্ত ও সুরে ঢাকা শহর, কিংবা এই দ্বীপপুঞ্জে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ইউরোপীয় নগরী সিদাদে ভেলহা, যা আফ্রিকান ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে চলেছে এখনও— ইওরোপীয় স্থাপত্য আর আফ্রিকান সংস্কৃতির মিশেল এই কেপ ভার্দে।

ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ না হলে হয়তো এই দেশের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ হতো না আমার মতো আরও অনেকেরই। ফাস্ট ফ্যাশনের দুনিয়ায় বিশ্বকাপ শেষের পরই মানুষ হয়তো আবার বিস্মৃত হবে এই নাম। ছুড়ে ফেলবে সদ্য কেনা টি-শার্টটার মতোই! ইতিহাস বলছে, প্রায় ৪০-৫০ মিলিয়ন বছর আগে ইওসিন যুগে তৈরি হওয়া এই দ্বীপপুঞ্জ পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত জনবসতিহীনই ছিল! ১৪৫৬ সালে পর্তুগিজ নাবিকরা প্রথম কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছায় এবং ১৪৬২ সালে সিদাদে ভেলহা নগরী প্রতিষ্ঠা করে, যা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ইউরোপীয়দের প্রথম স্থায়ী উপনিবেশ। এরপর কেপ ভার্দে দ্রুতই আটলান্টিক দাসব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে লক্ষ লক্ষ আফ্রিকানকে ধরে এনে এখানে অস্থায়ীভাবে রাখা হতো, তারপর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঠানো হতো। কেপ ভার্দের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি ছিল ধারাবাহিক দুর্ভিক্ষ। ১৮-২০ শতাব্দী জুড়ে বারবার খরা ও খাদ্যসংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে ১৯৪০-এর দশকের দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। ইতিহাসবিদেরা মনে করেন, শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের অবহেলাও এই মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল।

ফলত, এটুকু স্পষ্টভাবেই বলা যায় যে কেপ ভার্দে পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের চরম অবহেলিত উপনিবেশগুলির একটি, বহির্বিশ্বে যার পরিচিতি প্রায় নেই বললেও অত্যুক্তি করা হয় না। নাবিক ও দাস-ব্যবসায়ীদের কাছে এই দ্বীপপুঞ্জ মূলত দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার এক সাময়িক বিরতিস্থল হিসেবেই বিবেচিত হয়ে এসেছে! এরকমই একবার কলোনিতে মহামারী মারাত্মক আকার নিলে, ‘রোদের অভাবে বুকের ভেতর জল জমা’ অভিমান নিয়ে এক কেপ ভার্দিয়ান কবি বারবোসা লেখেন–

“No one knows

No one pays any notice

The radio doesn’t talk about it

The newspapers don’t report it

No one telegrams.”

দেশটির যা জনসংখ্যা, তার চেয়ে বেশি কেপ ভার্দিয়ান জনতা প্রবাসে বাস করে। কেপ ভার্দিয়ানদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাস শুরু উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে। সেসময় আমেরিকান তিমি-শিকারি জাহাজগুলো খাদ্য ও জাহাজ মেরামতের জন্য কেপ ভার্দেতে যাত্রাবিরতি নিতো। এসমস্ত জাহাজে মাঝেমধ্যে কেপ ভার্দিয়ান নাবিকদের ক্রু সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হত, যারা পরবর্তীতে নিউপোর্ট, বোস্টন, ন্যানটাকেট সহ নিউ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বন্দরনগরীগুলোতে বসতি গড়ত।

পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের অবহেলা প্রাথমিকভাবে কেপ ভার্দের জনতার মধ্যে জাতীয়তাবোধের সুপ্ত বীজ বপন করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমগ্র আফ্রিকা জুড়ে স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হলে সেই বীজ চারাগাছের রূপ নেয়! কেপ ভার্দের শিক্ষিত যুবক ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। এক কেপ ভার্দিয়ান, আমিলকার কাবরাল, কেপ ভার্দে এবং গিনি-বিসাউতে পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে দুটো দেশকে স্বাধীন করতে প্রতিষ্ঠা করলেন– PAIGC (African Party for the Independence of Guinea and Cape Verde)। শুরু হলো মুক্তি সংগ্রাম। ১৯৬৩ সালে গিনি-বিসাউয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই কেপ ভার্দেতে গেরিলা যুদ্ধের অবকাশ ছিল না। তবু কেপ ভার্দীয়রা রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বাধীনতার পক্ষে গণমত তৈরি করছিল। ১৯৭৩ সালের ২০ জানুয়ারি আমিলকার কাবরালকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যু স্বাধীনতা আন্দোলনকে থামাতে পারেনি। ১৯৭৪ সালে পর্তুগালে কার্নেশন বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পর্তুগালে স্বৈরশাসনের পতন হয় এবং একই সাথে উপনিবেশবাদী নীতিও পরিত্যক্ত হয়! ৫ জুলাই ১৯৭৫, কেপ ভার্দে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

এহেন কেপ ভার্দেতে স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে জাতীয় ক্রীড়া কাঠামো গড়ে ওঠে। জাতীয় দল আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রা শুরু করে। তারপর ইতিহাস বেয়ে অনেক ওঠাপড়া আছে। আশি-নব্বইয়ের দশকে দেশটির আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব এবং নানান কারণে দলটি আফ্রিকার বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠতো না। ২০০০ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং নেমে যায় ১৮২ নম্বরে। পরে গিয়েও থেমে যায়নি কেপ ভার্দে। বরং, অসম যুদ্ধে টিকে থাকার ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে অনবরত। ২০০২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেও প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিতে হয়। ২০০৬-তে প্রাথমিক পর্ব অতিক্রম করেও মূল আসরে পৌঁছনো সম্ভবপর হয়নি। এরপর প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি দলকে শক্তি জোগায়। উন্নত স্কাউটিং ব্যবস্থা গড়ে ওঠে! ২০১২ সালে বিশ্বকে চমকে দিয়ে কেপ ভার্দে শক্তিশালী ক্যামেরুনকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস, ২০১৩-এ যোগ্যতা অর্জন করে।

চলতি গাড়ি ব্রেক ফেল করে ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে। অসাধারণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও অযোগ্য খেলোয়াড় ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দরুন প্লে অফে ওঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। কিন্তু আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে বুঁদ কেপ ভার্দে লড়ে চলে অবিরাম। ২০২৫ সালে কেপ ভার্দে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করে। আফ্রিকান বাছাইপর্বে তারা নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে এবং প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। আর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই এক অসম লড়াই তারা কার্যত জিতে মাঠ ছেড়েছে। স্পেনের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ম্যাচ ড্র করে স্পেনকে আটকে দিয়েছে আফ্রিকার একটি প্রান্তিক দ্বীপরাষ্ট্র! আটকে দিয়েছে দেশটির গোলকিপার নায়ক ভোজিনহা, সাত সাতটা গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে। পেশায় বাস ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ানও। সকালে কাজ করে রাতে প্র্যাকটিস করতেন জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস, ওরফে ভোজিনহা, যার অর্থ ছোট দাদী! ছোটবেলায় বাবা-মায়ের পরিবর্তে দাদা-দাদীর কাছেই মানুষ হন। রাস্তার ফুটবল খেলতে গিয়ে বড় ছেলেদের মারধর খেতেন, আর কাঁদতে কাঁদতে দাদীর কাছে চলে যেতেন। আরও বড় বাধা ছিল তাঁর শারীরিক গঠন। খাটো হবার কারণে সুযোগ পেতেন না দলে। খাটো দেশের লড়াইয়ের ইতিহাসের মতো খাটো ভোজিনহার জেদও ছিল মজবুত। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন ২৫ বছর বয়সে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রেক্ষিতে অনেকটা দেরিতেই! তারপর পনেরোটা বছর কেটেছে। দলের ওঠাপড়ার সাক্ষী থেকেছেন। একসময় জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু সতীর্থরা বাঁধ সাধে। বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন একসাথে দেখেছিল ওরা। সেই স্বপ্নকে সত্যি করার লড়াইটাও একসাথেই লড়ে চলল। স্বপ্নকে ছিনিয়ে আনলো স্বপ্নের হাত থেকেই! বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও যাদের স্বপ্নের দৌড় রইল অব্যাহত! ২-২ গোলে ম্যাচ ড্র করে এখনো পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে টিকে রয়েছে কেপ ভার্দে। রয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনাও!

দলটির ক্যাপ্টেন রায়ান মেন্ডেজ ইওরোপেই নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন। দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারতেন ইওরোপেই! কিন্তু দেশটার নাম কেপ ভার্দে। কাবরালের উত্তরাধিকার বইছে শরীর জুড়ে। মাটির টানে বহুবার বড় দেশের ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততার মাঝেও কেপ ভার্দের হয়ে খেলতে ছুটে এসেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই আজ কেপ ভার্দের জাতীয় দল “ব্লু শার্কস” বিশ্বকাপের মঞ্চ ছোঁয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করে। বোয়া ভিস্তা দ্বীপের ঘরে বসে বুবিস্তা স্বপ্ন দেখতেন বিশ্বকাপ খেলার। এগারো বছরের অধিনায়কত্বে পারেননি, কিন্তু কোচ হয়ে পেরেছেন। হয়তো আফ্রিকার প্রাচীনতম রাস্তা রুয়া বানানায় পাথর বিছানো পথে হাঁটতে হাঁটতে কিংবা সাঁও পেদ্রোর উপকূলে বসে কচ্ছপ দেখতে দেখতে কোনো কেপ ভার্দিয়ান যুবক স্বপ্ন বুনছে বিশ্বকাপ জেতার। ছোটবেলার কচ্ছপের নীতিগল্পের মতোই কেপ ভার্দে যেন “স্লো বাট স্টিডি”। রাস্তায় যতই পাথর বিছানো থাক, রাস্তা হাঁটবেই কেপ ভার্দে। হাজার হাজার ভোজিনহারা বাস চালিয়ে পেটের লড়াই লড়েও তাই দেশের লড়াই, মাঠের লড়াই লড়ে নিতে পারে। আগ্নেয়গিরির আগুন থেকে যার জন্ম, সে হাজার বছর সুপ্ত থাকলেও, কখন লাভার উদগিরণ হবে কেউ জানে না। সাঁও ভিসেন্তের সমুদ্র উপকূলে মরনা (জাতীয় সংগীতধারা) গাইতে গাইতে মাতৃভূমির প্রতি আকুল কেপ ভার্দে সারা বিশ্বে পরিচিতির রসদ খুঁজে চলেছে আজও। ফুটবল তার হাতিয়ার। কেপ ভার্দের কোনো এক কৃষক অবিরাম ফুনানা গেয়ে চলেছে তার আফ্রিকান পরিচয়ের গৌরবের কথা বলতে। লোককথায় প্রচলিত, “কেপ ভার্দেতে মানুষ কথা বলার আগেই গান গাইতে শেখে”। কেপ ভার্দের গণমানুষ গান গাইছে আজও। বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চেও। ওটাই তার হাতিয়ার। নিজের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার হাতিয়ার।

সমুদ্রের ধারে বসে কাচুপা খেতে খেতে কোনো এক বৃদ্ধ হয়তো মুচকি হাসছে। কারণ সারাবিশ্ব কেপ ভার্দের গান গাইছে। তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতির চর্চা করছে। লড়াইয়ের প্রশংসা করছে তামাম ফুটবল দুনিয়া। ক্রেওল সংস্কৃতির কথা ছড়িয়ে পড়ছে দুনিয়া জুড়ে। কতশত ছোট্ট ভোজিনহারা প্রস্তুত হচ্ছে। আরও বড়ো কিছুর জন্যে! আরও বড়ো স্বপ্নের নাগাল পেতে। কেপ ভার্দের রাম মালিক কিংবা অবিনাশ রুইদাসরা হারিয়ে না গিয়ে গোটা বিশ্বকে হারিয়ে দেওয়ার শপথ নিচ্ছে। আর কলকাতার কোনো এক ভোজিনহা আজও হয়তো বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখে চলেছে। খেপ খেলে সংসার চালানো ছেলেটার প্রতিভাও হয়তো আছে, হয়তো আছে অদম্য জেদও। কিন্তু নেই পরিকাঠামো আর সরকারের সৎ ইচ্ছে। ফুটবল সংস্থার নাম পরিবর্তন করে আর খেলার আগে বন্দেমাতরম গাইয়ে যদি ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা যেতো, যদি কেপ ভার্দের মতো দেশের জনতাকে একাত্ম করা যেতো, তাহলে ভারতও আজ বিশ্বকাপই খেলত।

ইশ! এই ‘ইশ’ টুকু নিয়েই ক্লাইম্যাক্স লরেন্স, সঞ্জু প্রধান, সুনীল ছেত্রীদের কাটিয়ে দিতে হলো। বাকিটুকু নিয়ে গেল রিলায়েন্স, আইএমজি আর স্টার ইন্ডিয়া। আমরাও স্বপ্ন দেখি, দেখে না আমাদের দেশটা আসলে চালায় যারা। গোটা দুনিয়া তাই কেপ ভার্দে হোক, ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতকে দেখতে চাওয়া মনের এই একটাই চাহিদা।

অন্যান্য প্রতিবেদন.