বিদ্রোহ আর চুমুর দিব্যি শুধু তোমাকেই চাই…

৪৭৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন


​নাম- নজরুল ইসলাম আব্দুল বসির আর সিথি আখতার৷ সাজা- মৃত্যুদন্ড৷ অপরাধ- অশ্লীল কাজ। ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬৷ সৌদি আরবের মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে তথাকথিত ‘অনৈতিক ও অশ্লীল কাজ’ করার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে সরকার৷ রিয়াদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির ভিত্তিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নজরুল ইসলামের বাড়ি বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। মক্কার ওই মসজিদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী। সিথি আখতারের সাথে ছিল প্রেমের সম্পর্ক। ভালোবাসার জন্য ধর্মের নিদান মৃত্যু দণ্ড। পৃথিবী জুড়ে কেন বাড়ছে এমন ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা!


​দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবং রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়। এই পুরো ঘটনায় অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি বা নেপথ্যের বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, যা বিচারিক স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের সমালোচনার বিষয়টিকে আরও একবার উসকে দিয়েছে। তজির বা বিচারিক বিবেচনামূলক আইনের আওতায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।


​বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্বে এই বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ভিয়েনা কনভেনশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেফতার বা দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে অবহিত করার কথা থাকলেও, এক্ষেত্রে ঢাকাকে কার্যত অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। একজন প্রবাসী নাগরিক যখন ভিনদেশে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তখন নিজ দেশের সরকারের আইনি ও কূটনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। পূর্ববর্তী নোটিশ ছাড়াই এমন কঠোর শাস্তি কার্যকর করার ফলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক নোট দিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।


​ধর্ম মানুষকে শেখায় প্রেম ও সহিষ্ণুতার পাঠ। অথচ আজ বিশ্বজুড়ে মানুষের তৈরি সীমানা, কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন আর গোঁড়ামির চাদরে ঢেকে গেছে মানবতার মূল সুর। পবিত্রতার সংজ্ঞায় অন্ধ হয়ে মানুষ আজ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে দ্বিধাবোধ করছে না। যেখানে প্রেম হওয়ার কথা ছিল সব বাঁধনহীন মিলনের সেতু, সেখানে আজ তা পরিণত হয়েছে অপরাধে। আমাদের এই পৃথিবীটা কবে এবং কেন এমন নিষ্ঠুর ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠলো! ব্যক্তিগত আবেগ, প্রীতি বা প্রেমের মতো চিরন্তন মানবিক অনুভূতিগুলোকে দমন করতে যেখানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করা হয়, সেই বিচার ব্যবস্থা মানবতার চরম লজ্জা ছাড়া আর কিছু নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং অন্ধত্ব মানুষকে যে কতটা হিংস্র করে তুলতে পারে, এই ঘটনা তারই এক নির্মম প্রমাণ। সভ্যতার এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে, মানুষের জীবন ও ভালোবাসার চেয়ে কি তবে নিয়ম ও পাথরে খোদাই করা আইনই বেশি বড় হয়ে উঠল? এই ধরনের মধ্যযুগীয় বর্বর শাস্তি কেবল দুটি প্রাণই কেড়ে নিল না, সমগ্র মানবসভ্যতার মুখে লেপে দিল এক স্থায়ী কালিমা।

অন্যান্য প্রতিবেদন.