বাতিল দিল্লিগামী একাধিক ট্রেন,বিপাকে সাধারণ- CJP আন্দোলনের প্রতিরোধে সরকার

৮ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) প্রস্তাবিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলল। আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নিউ দিল্লি (NDLS) এবং হজরত নিজামুদ্দিন (NZM) স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল এমন সমস্ত মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের উৎস স্টেশন থেকেই বাতিল করার ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ৯ অক্টোবর দুপুর ২টোর পর রওনা দেওয়া ট্রেনগুলির ওপর এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে, যার জেরে কলকাতা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন— ১২৩০১ হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস এবং ১২৩১৩ শিয়ালদহ-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।


​বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কর্মসূচি এবং ক্ষমতাসীন প্রশাসনের কড়া অবস্থানের জেরে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তারই একটি নগ্ন রূপ। সিজিপি-র (CJP) এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির যে আশঙ্কা গোয়েন্দা সূত্রে উঠে এসেছিল, তা নস্যাৎ করার মতো ঝুঁকি নিতে চায়নি প্রশাসন। ফলে হাজার হাজার যাত্রীকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে ট্রেন বাতিলের চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে রেল৷


​ সিজিপি-র এই প্রস্তাবিত আন্দোলনকে রুখতে প্রশাসনের তরফ থেকে যে অতি-সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদকে সামনে আনে, অন্যদিকে তেমনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিবাদের পরিসর সঙ্কুচিত হওয়ার ইঙ্গিতও দেয়। ​বিশেষ করে, পূর্ব ভারত থেকে জাতীয় রাজধানীতে যাতায়াতের প্রধান ধমনীস্বরূপ রাজধানী এক্সপ্রেসগুলির মতো ভিভিআইপি ট্রেন বাতিল হওয়ার ঘটনা দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর বড়সড় আঘাত। হাওড়া ও শিয়ালদহের মতো প্রধান স্টেশন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলির আকস্মিক বাতিল যাত্রীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিউ দিল্লি ও নিজামুদ্দিন স্টেশন সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হলেও আনন্দ বিহার, ওল্ড দিল্লি, সরাই রোহিল্লা এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের মতো বিকল্প প্রান্তিকগুলিতে ট্রেন চলাচল সচল রাখা হয়েছে।


​অন্যদিকে, ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি দিল্লির প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশন—যার মধ্যে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের মতো সংবেদনশীল ও ব্যস্ত জোনগুলির গেট বন্ধ রাখা এবং ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি কমানোর দিল্লি পুলিশের নির্দেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মেট্রো পরিষেবার ওপর এই নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে দেয় যে, আন্দোলন প্রতিহত করতে প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ধরনের দমনমূলক বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সাময়িকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে সাহায্য করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকেই উসকে দেয়।


​পরিশেষে বলা যায়,রাজধানী দিল্লির এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বলি হচ্ছে সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন জীবন ও যাতায়াতের স্বাধীনতা।

অন্যান্য প্রতিবেদন.