ক্রেনশক্তিতে উপড়ে গেলো নেহেরু মূর্তি;কংগ্রেস-বিজেপি-তৃণমূলের ত্রিমুখী তরজা ভারতের শেষ গ্রামে দুর্বিষহ জীবন, পদ্মা নদীর ছন্দেই বাঁচে ওরা! নেই হাসপাতাল, স্কুল, রোজগার! ভাতের বদলে কাফন? ১৯৫৯ সালের যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কেঁপেছিল রাইটার্স! আহমেদাবাদের স্টাডি সার্কেলে হামলা; নিষিদ্ধ আনা ফ্রাঙ্ক,মালালা ইউসুফজার! কেন বুদ্ধবাবু পারেননি তসলিমাকে নিরাপত্তা দিতে? কেন বিজেপি ফেরাল? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? ককরোচদের (CJP) আন্দোলনে জেরবার BJP! কোন পথে ঐতিহাসিক জয় প্রশান্ত কিশোরের? নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে

মালদহ মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যু: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠগড়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা

২২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন


​রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক নজরদারি ফের একবার কাঠগড়ায়। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মাত্র এক সপ্তাহে ৬০ জন নবজাতকের মৃত্যু এবং এর মধ্যে একদিনেই ১০ জন শিশুর প্রাণহানির ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘটা এই মর্মান্তিক পরিণতি কেবল কয়েকটি পরিসংখ্যান মাত্র নয়, এটি রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চলের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণ বাস্তবতার এক নির্মম দলিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে, যা একাধারে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশাকে সামনে এনেছে।


​প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালদহ মেডিক্যাল কলেজের ‘মাতৃমা’ (Mother and Child Hub) ভবনে এই শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এক সপ্তাহে ৬০ জনের মৃত্যু এবং একদিনে ১০ জনের প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, শুরুতেই এই বিপুল মৃত্যুর তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারি পোর্টালে মৃত্যুর পরিসংখ্যান আপলোড হওয়ার পর স্বাস্থ্য ভবনের শীর্ষ কর্তাদের নজরে এলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তড়িঘড়ি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাসপাতালের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়। এই ঘটনার জেরে কেবল মালদহ মেডিক্যাল কলেজই নয়, জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমেও আচমকা অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন।



​যেকোনো বড় প্রশাসনিক বা জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের পর দেখা যায় দায় এড়ানোর চিরাচরিত রাজনৈতিক প্রবণতা। মালদহের এই ঘটনার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। হাসপাতালের সুপার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মারা যাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশ—বিশেষ করে ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জন এবং একদিনে মৃত ১০ জনের মধ্যে ৮ জনকেই অন্য কোনো গ্রামীণ হাসপাতাল বা বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় ‘রেফার’ করা হয়েছিল। জন্ডিস, তীব্র শ্বাসকষ্ট (Birth Asphyxia) কিংবা হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যা নিয়ে তাদের আনা হয়েছিল।


​বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের প্রান্তিক গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামোর অভাব, চিকিৎসকের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অনুপস্থিতির কারণেই রোগীদের শেষ মুহূর্তে মেডিক্যালে ‘রেফার’ করা হয়। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বা বেসরকারি নার্সিংহোমের রমরমা ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলার সংস্কৃতি এবং সরকারি রেফার কালচার আজ গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন, যদি প্রথম থেকেই জেলা বা ব্লক স্তরের হাসপাতালগুলিতে উপযুক্ত চিকিৎসা মিলত, তবে কি এইভাবে তাজা প্রাণগুলো ঝরে যেত?


​এর আগেও উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যুর নজির রয়েছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, কাগজ কলমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যতোই আধুনিকীকরণের দাবি করা হোক না কেন, গ্রামীণ স্তরে স্পেশালিস্ট চিকিৎসক, নবজাতকদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (NICU/PICU) এবং উন্নত পরিকাঠামোর আজও ভয়াবহ অভাব রয়েছে। প্রান্তিক পরিবারগুলি যখন চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়, তখন আস্থার অভাব এবং পরিকাঠামোগত শূন্যতা তাদের অসহায় করে তোলে। অন্যদিকে, বেসরকারি নার্সিংহোমগুলির লাগামছাড়া বাণিজ্যিকীকরণ এবং চিকিৎসার নামে অর্থলোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যার বিরুদ্ধে সম্প্রতি জেলাশাসকের দফতরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও নজরদারি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

​মালদহ মেডিক্যাল কলেজের শিশুমৃত্যুর এই বেদনাদায়ক অধ্যায়টি কেবল স্বাস্থ্য দফতরের কিছু ত্রুটি বা চিকিৎসকদের গাফিলতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য নীতির এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

অন্যান্য প্রতিবেদন.