গতকাল গভীর রাতের অন্ধকারে যে তান্ডব ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তৈরি হলো, তা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসরকে রক্তাক্ত করেনি, বরং গোটা রাজ্য রাজনীতিকে এক নতুন ও শিউরে ওঠার মতো প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। রাতের নীরবতাকে ভেঙে গণতন্ত্রের ওপর নেমে আসল আক্রমণ৷ আর ক্যাম্পাস সাক্ষী থাকলো বহিরাগত হামলার৷
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। একদিকে যখন শিক্ষাঙ্গনে এমন বহিরাগত আগ্রাসন ও তান্ডবের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক স্বার্থের তরবারি ঘুরতে শুরু করেছে বিভিন্ন শিবিরের অন্দরে। যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের কন্ঠে যেন গতকাল শোনা গেল এক ভিন্ন সুর- যাঁর বক্তব্যে একপক্ষের প্রতি অর্থাৎ ABVP সংগঠনের প্রতি অনুকম্পা ও পরোক্ষ প্রলেপের অভিযোগ তুলছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পক্ষান্তরে, বিজেপির হেভিওয়েট নেতা শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ABVP র সাথে তাঁদের দলের কোনো রকম সরাসরি যোগাযোগ নেই, এটি একটি স্বতন্ত্র দল।
কিন্তু এখানেই তৈরি হয় এক চরম রাজনৈতিক প্রহসন ও ধোঁয়াশা। বারবার এই ধরনের সহিংসতার পর রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে দায় ঝেড়ে ফেলার এক সুনিপুণ খেলাই যেন আজ নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, ক্ষমতার অলিগলি থেকে মদত বা নীরব সম্মতি না থাকলে কীভাবে ক্যাম্পাসের ভেতরে এই ধরনের সুসংগঠিত হামলা চালানো সম্ভব? বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং তান্ডব চালানোর পর যখন শাসক ও বিরোধী শিবির শব্দবোমার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার দায় কার ওপর এসে বর্তায়?
এই নৈরাজ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ক্ষমতার রাজনীতির এক প্রতিচ্ছবি, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করা হচ্ছে। যতক্ষণ না এই দায় এড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ হচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ যাদবপুরের মতো শিক্ষাঙ্গনের আকাশে প্রতিবাদের এই কালো মেঘ কাটবে না। গণতন্ত্রের এই অবক্ষয়ের আগুন একদিন গ্রাস করবে আমাদের সমস্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে।

