ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা তহবিলের তথ্য প্রকাশ ; মাত্র ০.০১ শতাংশ ব্যায়, সমগ্রই সঞ্চয়

২০ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

‘ পিএম কেয়ারস ফান্ড ‘ ২০২৪-২৫ (৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত) তহবিলের বর্তমান তথ্য প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচিত ওয়েবসাইটে। তথ্য অনুসারে মোট ৮,৪৫২ কোটি মূল্য এখন অবশিষ্ট রয়েছে অ্যাকাউন্টে, যার ৯৩% অর্থাৎ ৭,৮৪৬ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এবং ৬০৫ কোটি টাকা সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। ৯৩% যা ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে সঞ্চিত তা আপাতত ৪৬৯ কোটি টাকার সুদার্থে পরিণত হচ্ছে। তহবিলে দেশীয় অনুদানের বর্ষীয় সংখ্যা ৪৭৯ কোটি এবং বিদেশি অনুদানের অংক ৯ লক্ষ টাকা। উভয়ই হ্রাস পেয়েছে। বিস্ময়করভাবে, সমগ্র অর্থের মাত্র ০.০১% খরচ হয়েছে শিশুকল্যাণ ভিত্তিক প্রকল্পে। যা বিগত বছরের ১৫.৩৭ কোটি থেকে গড়িয়ে ৮৭.৮ লক্ষতে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত এই মূল্য ঠিক কোথায় কোথায় ব্যায় হয়েছে তার নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বেশ কিছুদিন আগেই জনসমক্ষে কক্রচ জনতা পার্টির অর্থ সমর্থনের প্রশ্ন ওঠাতে, দল ব্যাঙ্গাত্মক উক্তিতে জানায়, ‘ প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা তহবিল ‘ ই তাঁদের দল সঞ্চালন করছে। অন্যান্য বিরোধী দলেরাও সঙ্গ দেয়। তারই ফলস্বরূপ ঠিক কিছুদিনের মাথাতেই এই তথ্যপ্রকাশ কিনা তা জানা যায়নি।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে, জরুরি অবস্থা কালীন প্রয়োজনে এই তহবিলের সূচনা করা হয়। সংকট অবস্থায় বহু তারকারা এই তহবিলে অর্থসাহায্য করে, সাধারণ মানুষেরাও যোগ দেয়। তখন বিরোধী দলেরা এবং RTI কর্মীরা এই তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করলে নরেন্দ্র মোদি সরকার জানায়, উল্লিখিত তহবিল ‘RTI’ অ্যাক্টের অধিভুক্ত নয়, তাই কোনো তথ্যই উন্মুক্ত করা যাবেনা। এটি একটি সংকটকালীন পরিস্থিতির সহায়তার জন্যে তৈরি হওয়া তহবিল, তাই শাসকক দলের কোনো দায়বদ্ধতা নেই এক বছরে লাভ হওয়া অর্থের পুরোটাই ব্যায় করা।

কংগ্রেস নেতা পাওয়ান খেরা কটূক্তি করে বলেন, ‘PM Cares? Hardly.’ (প্রধানমন্ত্রী সত্যিই সাধারণ মানুষের উন্নতিতে আগ্রহ রাখেন বলে মনে হয়না)। সামাজিক কর্মী অঞ্জলি ভারদোয়াজ প্রশ্ন করেন, ৩২৪ কোটি টাকার ফেরত হওয়া নিয়ে। প্রসঙ্গত, রির্পোটে অনুদান কাদের দ্বারা ও ব্যায় কাদের প্রতি করা হচ্ছে নির্দিষ্টভাবে কোনো উল্লেখ নেই। কংগ্রেসের কেরালা শাখা কিছু ছবি প্রকাশ করে দাবি জানাচ্ছে যে টিকটক, হুয়াওয়ে ও শাওমি ‘ র মত চিনা কোম্পানিরা এই বিদেশি অনুদানের দলে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সমগ্র অনুসন্ধানের উত্তরেই জানায়, যে তহবিল শুধুমাত্রই জাতীয় সংকটকালীন অবস্থায় ব্যবহৃত হবে এবং সঞ্চয় এই জন্যেই করা হচ্ছে যাতে যথার্থ সময় উপযুক্ত মূল্য সরকারের কাছে উপস্থিত থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়া কর বিশেষজ্ঞরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন, যদি পিএম কেআরস ফান্ড একটি সরকারি তহবিল না হয় তাহলে কেন উল্লিখিত তহবিলের তথ্য প্রায় ২ বছর পরে প্রকাশ করা হয়েছে। এই তহবিল RTI, CAG এবং সংযুক্ত কোনো সংসদীয় সংস্থার অধীনেই যুক্ত নয়, তাহলে এটিরও বাকি বেসরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মই মানা উচিত। জাতীয় সংকটের নামে পাঁচ বছর আগে যে তহবিল সৃষ্টি হয়, তা কিভাবে কোনো দায়বদ্ধতা ছাড়াই এমন একটি বিপুল পরিমাণ অর্থ চাপা দিয়ে রাখতে পারে, প্রশ্ন তুলছেন জনগণ।

পিএম কেয়ারস ফান্ড জাতীয় দুর্যোগের জন্যেই তৈরি। কিন্তু বিগত বছরে বিহার, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ, আসামের মতো রাজ্য সম্মুখীন হয়েছে ভয়াবহ বন্যার, হিমাচলে মেঘভাঙ্গন, ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড়ের মতো নানা দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে ভারত। সমস্ত ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্য করেছে কিন্তু এই তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হয়নি। কাদের অনুদান, কোথায় ব্যায় এবং কেনই বা সঞ্চয়, কোনকিছুই প্রকাশেই আগ্রহী কেন নন সরকার, সাধারণ মানুষ অবগত নয়। উত্তর যতদিনই আসুক, আমরা প্রশ্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

অন্যান্য প্রতিবেদন.