ক্রেনশক্তিতে উপড়ে গেলো নেহেরু মূর্তি;কংগ্রেস-বিজেপি-তৃণমূলের ত্রিমুখী তরজা ভারতের শেষ গ্রামে দুর্বিষহ জীবন, পদ্মা নদীর ছন্দেই বাঁচে ওরা! নেই হাসপাতাল, স্কুল, রোজগার! ভাতের বদলে কাফন? ১৯৫৯ সালের যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে কেঁপেছিল রাইটার্স! আহমেদাবাদের স্টাডি সার্কেলে হামলা; নিষিদ্ধ আনা ফ্রাঙ্ক,মালালা ইউসুফজার! কেন বুদ্ধবাবু পারেননি তসলিমাকে নিরাপত্তা দিতে? কেন বিজেপি ফেরাল? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? কার দখলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি? তৃণমূলের শেষে আশার আলো দেখছে CPIM? ককরোচদের (CJP) আন্দোলনে জেরবার BJP! কোন পথে ঐতিহাসিক জয় প্রশান্ত কিশোরের? নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে নেপথ্যে ছাত্র আন্দোলন! BJP-র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে মানুষ? বাঁকিপুর ভাবাচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে

কালপঞ্জির কফিন ও যাদবপুরের বলশেভিক ভূত:

৩০ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন


​রাজনীতিতে ইতিহাসচর্চা অনেক সময়ই এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়, যেখানে শেক্‌সপিয়র বা চার্লস ডিকেন্সের কাল্পনিক Absurd ও লজ্জায় মাথা নিচু করে। সম্প্রতি কলকাতার যাদবপুর চত্বরে লেনিনের মূর্তির সামনে হিন্দু সুরক্ষা সমিতির এক বিক্ষোভ সভাকে কেন্দ্র করে যে অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক তত্ত্বের অবতারণা হয়েছে, তা আধুনিক রাজনৈতিক জ্ঞানচর্চায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ওই বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে অত্যন্ত গুরুগম্ভীর গলায় ঘোষণা করা হয়েছে— “লেনিনের জন্যই নাকি এই দেশ ভাগ হয়েছিল!”
​শুনলে মনে হতে পারে, ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার বুকে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করা ছিল না, বরং সুদূর ভবিষ্যতে ব্রিটিশ ভারতের মানচিত্রকে কাটাছেঁড়া করে রেড কার্পেট বিছানোই ছিল ভ্লাদিমির ইলিচ উরিয়ানভের গোপন এজেন্ডা। ইতিহাস বলছে, লেনিন মহাপ্রয়াণে পাড়ি দিয়েছিলেন ১৯২৪ সালের ২১শে জানুয়ারি। অন্যদিকে ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট লর্ড মাউন্টব্যাটেনের তদারকিতে পিনাকল ছোঁয়া দেশভাগ সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, যিনি মর্ত্য ছেড়ে প্রস্থান করেছেন ২৩ বছর আগে, তিনি কীভাবে গ্রাফিল, সিরিঞ্জ কিংবা জ্যামিতি বক্স হাতে নিয়ে দেশভাগের মানচিত্র একে দিয়ে গেলেন— তা কেবল ওই গবেষক ও তাঁদের অন্তর্যামী মননই জানে। কালপঞ্জি বা ক্রনিকল তো সেখানে নেহাতই তুচ্ছ ব্যাপার!

CPIM Memeist কর্তৃক প্রকাশিত স্যাটায়ারধর্মী চিঠি


​এই অভাবনীয় ও মহাজাগতিক আবিষ্কারকে খালি মুখে হজম করা কি বাঁচার লক্ষণ? বামপন্থী রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্যাটায়ার বা শ্লেষ সবসময়ই প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। আর তাই, এই অমূল্য তত্ত্বকে মাটিতে মিশে যেতে না দিয়ে সিপিআইএম-এর ফেসবুক পেজ থেকে একটি কাল্পনিক চিঠি প্রকাশ করা হয়। সে চিঠি ভ্লাদিমির লেনিনের লেখা, সরাসরি ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে উদ্দেশ্য করে!

​এই স্যাটায়ারটি কেবল একটি রাজনৈতিক ফান বা ফেসবুক ট্রোল নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ট্র্যাজেডির প্রতিচ্ছবি।

​আজকের দিনে রাজনীতিতে তথ্যের সত্যতা বা প্রামাণ্য দলিলের গুরুত্ব তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। যার যা খুশি মনে হয়, সেটাই মাইক্রোফোনে দাঁড়িয়ে আলমারির খোপ থেকে বের করা ধ্রুপদী সত্যের মতো আউড়ে দেওয়া যায়। লেনিন মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে দেশভাগের ভূত তাড়াতে গিয়ে বিক্ষোভকারীরা যেভাবে ইতিহাসের ডেডলাইন ও লাইফলাইন গুলিয়ে ফেলেছেন, তা আসলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দেউলিয়াপনা এবং রাজনৈতিক অন্ধত্বেরই এক নিখাদ বিজ্ঞাপন।
​যাদবপুরের লেনিন মূর্তি বরাবরই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। কিন্তু মূর্তির সঙ্গে ১৯৪৭ সালের লজিক মেলানোর এই অপচেষ্টা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক ডিবেট এখন আর পলিসি বা জনস্বার্থের জায়গায় নেই— তা নেমে এসেছে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও হাস্যকর মিথোলজির স্তরে।

​দিনশেষে এই ঘটনা আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে, সমসাময়িক রাজনীতিতে যুক্তির ক্যানভাস কতখানি সংকুচিত হয়ে এসেছে। তবে আশার কথা এই যে, গম্ভীর তত্ত্বে কাজ না হলে অন্তত স্যাটায়ারের চাবুকে এই ধরনের উদ্ভট ঐতিহাসিক কাল্পনিকতাকে মাঝে মাঝে নগ্ন করে দেওয়া জরুরি। নতুবা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো সত্যিই বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পেছনের কারিগর কোনো রাজনৈতিক নেতা নন, বরং যাদবপুরের কোনো এক ফাইবার গ্লাসের লেনিন মূর্তি!

অন্যান্য প্রতিবেদন.