সাংবাদিক সম্মেলন, শেখ হাসিনা ফের খবরে! তারেক নাকি হাসিনা? কী ভাবছে দিল্লী? ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে

দিল্লির বিক্ষোভের দাবানল? শিক্ষক সংকট থেকে ভাঙা বেঞ্চ, দেশজুড়ে সরব স্কুল পড়ুয়ারা

৮ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

দিল্লির ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের ঝাঁঝ সারা দেশ জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই আন্দোলন সাহস জুগিয়েছে গোটা দেশের ছাত্র যুবদের। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য এবার আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারাও। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও বিহারের একাধিক সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। কোথাও শিক্ষক সংকট, কোথাও ভাঙা বেঞ্চ, কোথাও পাখা নেই, কোথাও পানীয় জল বা শৌচাগারের বেহাল দশা— এই সমস্ত ন্যূনতম পরিকাঠামোর দাবিতেই সরব হয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। জেনজি দের বিপ্লবের জেদ প্রকট জেন-আলফাদের মধ্যেও।

রাজস্থানে শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদ 

রাজস্থানের জালোর জেলার মেঙ্গালওয়া গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষক সংকটের বিরুদ্ধে সরব হন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির একজনও শিক্ষক নেই। প্রথম শ্রেণির মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। ইতিহাস ও হিন্দিরও একজন করে শিক্ষক আছেন। ইতিহাসের শিক্ষককেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাতে হয়, ফলে তিনি পড়ানোর সময়ই পান না। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির জন্য শিক্ষক-এর দাবিতে ধর্নায় বসেন পড়ুয়ারা। বিক্ষোভের জেরে প্রশাসনের তরফে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলা হলে তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে। প্রশাসনের তরফে অবিলম্বে চারজন শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়, পাশাপাশি বাকি তিনটি শূন্যপদও ১০ দিনের মধ্যে পূরণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়। 

বিহারের স্কুলে ফ্যান, হ্যান্ডপাম্প ও ভাঙা বেঞ্চ সারাইয়ের দাবিতে বিক্ষোভ 

বিহারের গয়া জেলার একটি সরকারি স্কুলে ফ্যান, হ্যান্ডপাম্প ও বেঞ্চ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিক্ষোভে সামিল হয় পড়ুয়ারা। স্কুলের সামনেই ধর্নায় বসে তারা। প্রথমে জেলা প্রশাসনের তরফে এক আধিকারিককে পাঠানো হলেও পড়ুয়ারা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করে। তাঁদের দাবি ছিল, সরাসরি জেলা শাসক (DM)-এর সঙ্গে কথা বলাতে হবে। জেলা শাসক নিজে এসে ছাত্রছাত্রীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। 

উত্তরপ্রদেশে পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ 

উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর জেলার সর্বোদয় ইন্টার কলেজের পড়ুয়ারা ন্যূনতম পরিকাঠামোর দাবিতে স্কুল চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন। শেষ পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে আশ্বাস দিতে হয় যে, পড়ুয়াদের দাবিগুলি দ্রুত বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপর আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তারা। 

মহারাষ্ট্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ 

মহারাষ্ট্রের দাহানুতেও সরকারি স্কুলের দুর্বল পরিকাঠামো এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে সরব হয় পড়ুয়ারা। তাদের অভিযোগ, শৌচাগার অপরিষ্কার, স্কুল চত্বর নিরাপদ নয় এবং শুধুমাত্র সরকারি পরিদর্শনের দিনই পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়।

রাজস্থান, বিহার, মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশ—চার রাজ্যের আন্দোলনের মূল দাবি প্রায় একই। এর আগে এই ছবিটা খুব একটা দেখা যায়নি দেশে। দিল্লির এই আন্দোলনের স্বার্থকতা হয়ত এখানেই। দিকে দিকে তাঁদের পথ দেখছে এ দেশের নতুন প্রজন্ম। আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে নিজেদের অধিকারের দাবিতে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.