রাজধানীর যন্তরমন্তরে ক্রমেই জোট বাঁধছে ‘ককরোচ’রা। নেহাতই মিমের ছলে তৈরি হওয়া একটা পেজ রাতারাতি সমর্থন পেতে শুরু করে ভারতের ছাত্র-যুব জেন-জিদের। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরই অভিজিৎ দীপকের মস্তিষ্কপ্রসূত এই অনলাইন মুভমেন্ট একটি বৃহত্তর রূপ নেয়। গত ২০ তারিখ থেকে শুরু হয় এই অনশন। দিল্লির তীব্র গরমকে উপেক্ষা করেই দেশের নানা প্রান্তের ককরোচরা ভিড় বাড়াচ্ছেন যন্তর মন্তরে । গনগনে ৪০ ডিগ্রি উত্তাপকে মাথায় করেই চলছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি। গান, স্লোগানে মুখরিত মঞ্চে প্রতিবাদীদের হাতে তিরঙ্গা আর বই।
গত ২০জুন থেকে নিট-সহ শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের প্রতিবাদে দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনশনের চারদিনের মাথায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ‘থ্রি ইডিয়টস’ খ্যাত রক্তমাংসের ‘রাঞ্চো’। যদিও এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি জানান ,তিন দিন ধরে খাবার না খাওয়ার জন্য তাঁর শরীরে সুগার লেভেল কমে ৬৬ হয়েছিল। অনশন আরও দীর্ঘায়িত হলে পেশি, এমনকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেরও ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া অনশনরত আরও এক পড়ুয়া ইনেশও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান সিজেপি প্রধান অভিজিৎ।

তবুও দমে যাওয়ার নাম করছে না আরশোলারা। দাবি পূরণ না হওয়া অবধি এভাবেই আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি।
তবে ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনের উপর প্ৰসাশনের বাধা আসতে শুরু করেছে। আন্দোলনস্থলে বানানো হয়েছিল একটি অস্থায়ী লাইব্রেরি। রাখা ছিল সংবিধান, ইতিহাস থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নানা বই। ছিল ছত্রপতি শিবাজী থেকে ভগৎ সিং-এর বই। অভিজিৎ-এর অভিযোগ তাঁদের আন্দোলনের হাতিয়ার বই-কে মাটিতে ফেলে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কিছু প্রতিবাদীর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে দীপকে একটি টুইটার পোস্টে বলেন, ছাত্রদের উপর আক্রমণ এনে শান্তিপূর্ণ মেজাজকে নষ্ট করা হচ্ছে। ছাত্রদের কন্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। তবে এখনও অবধি, দিল্লি পুলিশের তরফে এই ঘটনা সম্পর্কে কোনও বিবরণ সামনে আসেনি। সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু হওয়া এহেন প্রতিবাদের ভবিষ্যৎ কী, তা সময় বলবে।

