আজ থেকে ১৩ বছর আগের একটি ছবি বিপুল সারা ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশ জুড়েই। নেপথ্যে ‘থ্রি ইডিয়টস’। সেই ছবিতে আমির খানের চরিত্র বিজ্ঞানী ফুংসুখ ওয়াংডুকে হিরো বানিয়েছিল গোটা দুনিয়া৷ কিন্তু বাস্তবে রক্ত মাংসের সোনম ওয়াংচুকের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না কেন্দ্র৷ তিনি এই মুহূর্তে আমাদের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী এবং পরিবেশকর্মী।
শিক্ষাক্ষেত্রে বেনিয়ম, দুর্নীতি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচদের সঙ্গে অনশনে বসেন সোনম। গত ১৬দিন তিনি অনশনে রয়েছেন। এতদিনের অনাহারের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্ষীণ হয়েছে সোনমের দেহ, তাঁর ওজন কমেছে প্রায় ৮ কেজি৷ রক্তচাপ নেমেছে ১০৬/৭৪-এ। রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কম। এরপরেও নিজের তিনি স্পষ্ট বলেছেন “আমি গান্ধী নই, দেশনায়কও নই। সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করছি।” ভাঙা শরীরেও তাঁর দাবি, “হয়ত এবার মরে যাব তবু পিছু হটব না “

কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটি বারের জন্যও সরকারের তরফে তাঁদের দাবি দাওয়া নিয়ে কর্ণপাত করা হয়নি। ৫৯ বছর বয়সের সোনমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েই চলেছে দিনকে দিন। তবুও পিছু হটতে নারাজ সোনম। দীর্ঘদিন অনশনের কারণে শরীরে কিটোন বডি, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। মারাত্মক অপুষ্টি এবং ডিহাইড্রেশন থেকে হার্টঅ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে। সোডিয়াম পটাশিয়ামের ব্যালেন্স নষ্ট হয়। ক্রিয়েটিনিন কাইনেজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, মারাত্মক অপুষ্টি এবং ডিহাইড্রেশন থেকে হৃৎযন্ত্র পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। পেশি ভাঙতে থাকে, কিডনি সহ অন্যান্য অঙ্গগুলিও বিকল হতে শুরু করে।

এই প্রসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “সোনমের অনশন আজ ১৬ দিনে পড়েছে। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, বিষয়টিকে যেন কোনওভাবেই অহংকারের লড়াইয়ে পরিণত করা না হয়। কারণ, এখানে মানুষের জীবন জড়িত। উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া একটি পেজ এই মুহূর্তে দিল্লির যন্তর মন্তরে দ্রোহের আগুনে ফুটছে। ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস একটি খোলা চিঠিতে লিখেছেন, “আমরা আজ যদি সোচ্চার না হতে পারি, তবে ইতিহাস এই প্রশ্ন করবে না যে সোনম ওয়াংচুক ভারতের জন্য কী করেছিলেন। ইতিহাস প্রশ্ন করবে, যখন সোনম ওয়াংচুকের ভারতকে প্রয়োজন ছিল, তখন ভারত কী করছিল?” তবু এখনও কোনও উত্তর মেলেনি তাঁদের প্রশ্নের। আগামী ২০ জুলাই সংসদে শুরু হবে বাদল অধিবেশন। ওইদিনই মিছিলের ডাক দিয়েছে ককরোচরা। ওয়াংচুকের প্রাণ বাঁচাতে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে এই ২০ জুলাইয়ের মার্চই তাঁদের ‘শেষ চেষ্টা’ হতে চলেছে বলে হুঁশিয়ারি ককরোচদের।

