ভিনধর্মে বিয়ে করে বিপাকে মহাকুম্ভ খ্যাত মোনালিসা, কী বলছে কেরল হাইকোর্ট?

জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

বছরখানেক আগের কথা। প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় রুদ্রাক্ষের মালা বিক্রি করার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। রাতারাতি প্রচারের আলোয় চলে আসেন মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী তরুণী মোনালিসা ভোসলে। তবে বছর ঘুরতেই তিনি আবার সংবাদ শিরোনামে। এবার অবশ্য কোনো গ্ল্যামার নয়, বরং একটি ভিনধর্মী বিয়ে এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার জেরে তোলপাড় মধ্যপ্রদেশ ও কেরল।


​মহাকুম্ভের পরিচিতিকে সম্বল করে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখতে কেরলে পাড়ি দিয়েছিলেন মোনালিসা। সেখানেই আলাপ মডেল ও অভিনেতা মহম্মদ ফারমান খানের সঙ্গে। গত মার্চ মাসে কেরলেই হিন্দু রীতি মেনে চার হাত এক হয় তাঁদের। নবদম্পতির স্পষ্ট দাবি, এই বিয়েতে কোনো ধর্মান্তরণ হয়নি। স্রেফ নিজেদের পছন্দেই একে অপরের হাত ধরেছেন তাঁরা।


​আপাতত গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ফারমান। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিলেও ধাক্কা এসেছে কেরল হাইকোর্ট থেকে। মোনালিসার জন্য বরাদ্দ পুলিশি নিরাপত্তার নির্দেশ খারিজ করেছে কেরল উচ্চ আদালত। পুলিশের দাবি, তরুণীর দেওয়া যোগাযোগের ঠিকানা ও ফোন নম্বর কাজ করছে না। তিনি বর্তমানে নিখোঁজ। তবে মোনালিসা নিজে লিখিত আবেদন জানালে পুলিশ ফের নিরাপত্তা দেবে বলে জানিয়েছে আদালত। সব মিলিয়ে, মোনালিসার আসল বয়সই এখন এই হাইপ্রোফাইল মামলার ভাগ্য নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।


​কিন্তু এই রূপকথা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আপত্তি তোলে মোনালিসার পরিবার। তরুণীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বিয়ের সময় মোনালিসা নাবালিকা ছিলেন বলেও দাবি তাঁর। বিয়ের নথিতে মোনালিসার জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ২০০৮ লেখা থাকলেও, বাবার পেশ করা হাসপাতালের নথি বলছে অন্য কথা। সেই রেকর্ড অনুযায়ী তরুণীর জন্ম ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯। অর্থাৎ, বিয়ের পিঁড়িতে বসার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।
​তরুণী নাবালিকা প্রমাণিত হলে ফারমানের ওপর বাল্যবিবাহ রোধ আইন ও পকসো (POCSO)-র মতো মারাত্মক ধারায় খাঁড়া নেমে আসতে পারে। ইতিমধ্যেই জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশনও এই মামলায় পকসো ও এসসি/এসটি আইনের ধারা যুক্ত করার পক্ষপাতী।

অন্যান্য প্রতিবেদন.