এগিয়ে ফ্রান্স, কোন অস্ত্রে বাজিমাত করতে পারে স্পেন?

১০ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

ফ্রান্সকে যদি টেকনিক্যাল ফুটবল দিয়ে কোন দল আটকাতে পারে বা আটকানোর সামর্থ্য রাখে, তাহলে সেটা একমাত্র স্পেন। আবার এইবারের ওয়ার্ল্ড কাপে ফ্রান্স যে ধরণের ফুটবল খেলছে, তাতে তাদের রোখা খুব কঠিন। স্পেনের পক্ষে সহজ নয়, তবে পারলে তারাই পারবে। তবে মাঠে বল না গড়ানো অবধি কিছুই বলা যায় না।


স্পেনের দারুণ ডিফেন্স। কেন বলছি এমন কথা, ফ্রান্সের যে লং বল স্ট্র্যাটেজি, সেটা স্পেনের বিরুদ্ধে খুব একটা কাজে আসবে না। কারণ পাউ কুবার্সির গেম রিডিংটা খুবই ভালো। এই ওয়ার্ল্ড কাপে এক্কেবারে ফর্মের শীর্ষে। তাঁর সঙ্গে লাপোর্তেও প্রায় স্বপ্নের ফর্মে। তিনিও জোনালি পাউ কুবার্সিকে গার্ড করেন। কুবার্সি কিন্তু অনেক উপরে ওঠে, সেক্ষেত্রে কুবার্সি হচ্ছে ফার্স্ট লাইনের প্রেসার বা ফার্স্ট লাইন স্ট্রাইকারের চ্যালেঞ্জার। তিনি মিস করলে, লাপোর্তে আসেন। লাপোর্তে মিস করতে করতে দুই ফুল ব্যাক চলে আসে। কুকুরেয়াও ডিফেন্সিভলি এবারে বেশ সলিড, সঙ্গে চমক দিচ্ছেন পেদ্রো পোরো।
অলিসে, দেজিরে ডুয়ে, বারকোলা, ডেম্বেলে এই ধরণের আক্রমণ সামলানোর জন্যে যে ধরনের ডিফেন্সিভ সেটআপ দরকার হয়। যে জমাট ভাবটা প্রয়োজন এবং যে সময়ের মধ্যে বল রিকভারি করা বা কাউন্টার করার জন্য ট্যাকটিক্যাল ফাউল করা, জোনাল মার্কিং করা, সেটা স্পেন এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এক্কেবারে পারফেক্টলি করে আসছে। ফ্রান্স কিন্তু এখন পর্যন্ত ওপেন প্লে থেকে যেই পরিমাণ গোল করছে, সেট পিসে অত বেশি গোল করতে পারেনি। স্পেন একটা গোল খাইছে এই ওয়ার্ল্ড কাপে, সেটা সেট পিস টাইপ সিচুয়েশন না হলেও এরিয়াল বল থেকে।


অর্থাৎ ফ্রান্স ওপেন প্লে তেই গোল করার চেষ্টা চালাবে । এখন ওপেন প্লে গ্রাউন্ড দিয়ে যদি আপনার স্পেনের বিপক্ষে আসতে হয়, তা হলে মিডফিল্ড থেকে সাপ্লাই লাগবে। এখানেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ড কতটা ভাল পারফর্ম করতে পারে। কারণ, ঐতিহ্যর দিক থেকে স্পেন মিডফিল্ডটা অনেকটাই অর্কেস্ট্রেট করা। ধরা দানি অলমো পকেট স্পেস দিয়ে অপারেট করে, বক্সের বাইরে থেকে শুট নিয়ে নিতে পারে এবং ওই পর্যন্ত বল নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বিটুইন দ্য লাইনে বল টানে। রদ্রি বল ক্যারি করে, আবার পেদ্রি খেলা কন্ট্রোল করে। ফ্রান্স এবং স্পেন ম্যাচের সবচেয়ে বড় ডিসাইডিং ফ্যাক্টর কিন্তু হবে পেদ্রি। এই ওয়ার্ল্ড কাপে এখন পর্যন্ত কোনো একটা পেদ্রি ডে দেখা যায়নি। কিন্তু পেদ্রি কানেক্টেড ছিল, পেদ্রিকে হয়তো পেদ্রির খেলাটা ওইভাবে বোঝা যাবে না। গোল নেই, অ্যাসিস্টও ০। তবুও তিনি যেটা করছেন সেটা স্পেনকে ফল দিচ্ছে। কীভাবে? সেটাই বুঝিয়ে বলছি।


পেদ্রি বড় ফ্যাক্টর স্পেনের বাকি দলের সঙ্গে লামিন ইয়ামালকে কানেক্ট করেন পেদ্রি। যখন খেলা স্লো করা দরকার, ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলা স্লো করতেই হবে, ওদের পেসে খেলতে দিলেই বিপদ। ওই কাজটা পেদ্রি ভালোভাবে করতে পারে। এই ম্যাচটা আসলে অনেকটাই এল ক্লাসিকোর মতো। এখন এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ যখন মাঠে নামে, কাগজ এবং কলম, ফায়ার পাওয়ার, ইন্ডিভিজুয়ালিটি সবকিছু মিলায়ে একদম রিয়াল মাদ্রিদকে মনে হয় যে একদম তাদের ধারে কাছে কেউ নেই।


ফ্রান্স কীভাবে আটকাবে স্পেনকে?


কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা হয় হাই স্কোরিং টিম, একটা দুটো না তিনটা চারটে এই লেভেলের গোল বের করে নিয়ে চলে আসে, আর সেটা করে ফেররান তোরেসের মতো স্ট্রাইকারকে দিয়ে। তাই ফ্রান্সকেও সতর্ক থাকতে হবে। স্পেন ফ্রান্স মিডফিল্ডের পেছনে অবশ্যই তারা স্পেস খুঁজে পাবে। ট্রানজিশনাল অ্যাটাকে ফ্রান্সকে অনেক বেশি লিথাল হতে হবে। ফ্রান্সের এমবাপে সহ সেটআপে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ডেম্বেলে আর অলিসের ফর্মটা। সেটা ভাল করে কাজে লাগাতে হবে। কারণ এরা যেকোনো সময় লাইনের পেছনে দৌড়াবে।


কুকুরেয়া আর পেদ্রো পোরো হয়তো ওই সার্ভিসটা অত ভালো দিতে পারবে না, তাদেরকে অনেক এক্সট্রা গার্ডেড থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে স্পেন অবশ্যই তাদের স্লো প্রগ্রেশন টিকিটাকা দিয়েই আসবে কিন্তু রিকভারি করবে খুব দ্রুত। এই ম্যাচে কার্ড হতে পারে প্রচুর। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফাউল হবে। আর সেই কার্ডগুলো স্পেন বেশি দেখতে পারে। কিন্তু তাতে চিন্তার কিছু নেই। সেমির হলুদ কার্ড ফাইনালে খেলার ক্ষেত্রে সমস্যা করবে না। আর একটা বড় ফ্যাক্টর হচ্ছেন লামিন ইয়ামাল। তিনি কিন্তু এখনও লামিন ইয়ামাল সূচক একটা ম্যাচও খেলে নাই। এখন তিনি যদি ফর্ম ফিরে পান, তা হলে ফ্রান্সের চাপ আছে। কারণ লামিন ইয়ামাল নিজের দিনে কী করতে পারে, এইটা আসলে বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি যদি কোনোভাবে স্পেনের ফরওয়ার্ড লাইন কানেক্ট করে ফেলেন, তা হলে তাঁর আর গোল করতে হবে না, গোল কেউ না কেউ করেই দেবে।
এগিয়ে ফ্রান্সই তবে ফ্যাক্ট এবং শক্তি হিসেবে কাগজে কলমে সিক্সটি ফ্রান্স, ফোর্টি স্পেন। কিন্তু যদি কোনো একটা টিম ফ্রান্সকে হারাতে পারে, তা হল স্পেন।

অন্যান্য প্রতিবেদন.