তারকেশ্বর হবে কাশী-ধামের আদলে, তৈরি হবে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’, শুভেন্দুর অনুপ্রেরণা যোগী

২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

শ্রাবণী মেলার সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে এক সম্পূর্ণ নতুন তারকেশ্বর গড়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার মেলা প্রাঙ্গণ থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, উত্তরপ্রদেশের কাশী বিশ্বনাথ কিংবা মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী মহাকালের আদলেই ভোল বদলে ফেলা হবে তারকেশ্বর ধামের। শৈবতীর্থকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর।

তারকেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রী

উত্তরপ্রদেশের আদলে পুষ্পবৃষ্টি ও সেবাকেন্দ্র:

মুখ্যমন্ত্রীর গলায় এ দিন দেখা যায় রুদ্রাক্ষের মালা, কপালে ছিল তিলক। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাজের ধরনে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি একগুচ্ছ নতুন পরিষেবার কথা ঘোষণা করেন-

আকাশপথ থেকে পুষ্পবৃষ্টি: শ্রাবণী মেলা চলাকালীন প্রতি সোমবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আকাশপথে হেলিকপ্টার থেকে পুণ্যার্থীদের ওপর ফুল ছড়ানো হবে।

হাইওয়ে সেবাকেন্দ্র: শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাপথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সরকারি উদ্যোগে তৈরি হবে ‘সেবা শিবির’। যেখানে মিলবে পরিশ্রুত পানীয় জল এবং ওআরএস-এর মতো জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা।

জাতীয় মেলার মর্যাদা: এই ধর্মীয় আবেগকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় মেলার স্তরে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

নতুন সাজে শ্রাবণী মেলা

তোষণের রাজনীতি’ ও পূর্বতন সরকারকে তীব্র তোপ

পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে শুভেন্দু অধিকারী তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। অতীতের ট্র্যাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,

“কঠিন পথ হেঁটে ভক্তরা যখন মাথায় জল ঢালতে আসেন, তখন আগের সরকার স্রেফ কজন সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে দায় সারত। রাজা বা জমিদারি প্রথা এখন আর নেই। সরকারকে লোকধর্ম মেনে সব ধর্মের মানুষের স্বার্থ দেখতে হয়। কিন্তু বিগত সরকার একটা চোখ সর্বদা বন্ধ করে রাখত।”

হাজার কোটির ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’

একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের পর্যটন ও আধ্যাত্মিক মানচিত্রকে এক সুতোয় বাঁধতে ইতিমধ্যেই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, তাঁর সরকারের বয়স মাত্র ৬৫ দিন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যের একাধিক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মন্দিরকে নিয়ে একটি বিশেষ ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ তৈরির রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের অধীনে হাজার কোটি টাকা বাজেটে ঢেলে সাজানো হবে:
১. মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী মন্দির
২. কোচবিহারের মদনমোহন জিউ মন্দির
৩. জলপাইগুড়ির জল্পেশ ধাম
৪. বীরভূমের তারাপীঠ

বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকারের বয়স খুবই কম হওয়ায় বেশ কিছু কাজ হয়তো এখনও বাকি রয়েছে। তবে আগামী দিনে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত করে রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটনে জোয়ার আনা হবে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.