২৪ ঘন্টার মধ্যে আটক আন্দোলনকারীরা মুক্তি না পেলে অনশন অবস্থানের ডাক ওয়াংচুকের

১০ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​দিল্লির বিক্ষোভে আটক রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে রবিবারের মধ্যে ফের আমরণ অনশন ব শুরু করার ঘোষণা করেন জলবায়ুকর্মী সোনাম ওয়াংচুক৷ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমকে ঘিরে চলমান অসন্তোষকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের সূত্রপাত, যা পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে মোড় নেয়।

ওয়াংচুক বর্তমান পরিস্থিতিকে “অঘোষিত জরুরি অবস্থা” (Undeclared Emergency) হিসেবে ঘোষণা করেন৷ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, ভিন্নমত পোষণ এবং সরকারের নীতি বা সাংবিধানিক প্রধানদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু যখনই রাজধানী দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে পুলিশি আটকের পথ বেছে নেওয়া হয়, তখন তা রাষ্ট্রের দমনমূলক চরিত্রকেই উন্মোচন করে। অতীতে জুলাই মাসে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও অন্যান্য দাবিতে তার দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন এবং সরকারের তরফ থেকে লিখিত আশ্বাসের পর তা স্থগিত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অহিংস উপায়েও সরকারের টনক নড়ানো সম্ভব। তবে বারবার প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নাগরিক সমাজ ও সরকারের মধ্যকার আস্থার সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সোনাম ওয়াংচুকের আন্দোলনের ধরন সবসময়ই অহিংসা ও শান্তির বার্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি তরুণ প্রজন্ম ও আন্দোলনকারীদের বারবার সংযত থাকার এবং যেকোনো মূল্যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সহিংসতার কোনো স্থান নেই—এই নীতিতে বিশ্বাস রেখেই তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্যায্য চাপের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান। তাঁর এই কৌশল রাষ্ট্রকে নৈতিকভাবে কোণঠাসা করে তোলে, কারণ সরকার যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে দমননীতি চালাচ্ছে, সেখানে ওয়াংচুক শান্তি ও সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকেই প্রতিবাদের ডাক দিচ্ছেন।


​পরিশেষে, এই আলটিমেটাম কেবল কিছু নেতার মুক্তির দাবি নয়; এটি ভারতের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তির সুরক্ষার লড়াই। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে এবং তার প্রতিবাদকারীদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তা সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না। রবিবারের মধ্যে যদি আটককৃতরা মুক্তি না পান এবং ওয়াংচুক যদি নতুন করে আমরণ অনশন বা পদযাত্রার পথ বেছে নেন, তবে তা সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই পরিস্থিতি নাগরিক অধিকারের পক্ষে এক নতুন গণআন্দোলনের জন্ম দিতে পারে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.