সাংবাদিক সম্মেলন, শেখ হাসিনা ফের খবরে! তারেক নাকি হাসিনা? কী ভাবছে দিল্লী? ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে

শিক্ষাঙ্গনে ইতিহাসের রাজনৈতিকীকরণ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক​:

২৬ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন


​কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৪৬ সালের ‘সরাসরি সংগ্রাম দিবস’ ও তৎসংলগ্ন সাম্প্রদায়িক হিংসা নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ঘিরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের একাংশের মতে, এই ঘটনাটি একুশ শতকের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও নির্দিষ্ট মতাদর্শ প্রচারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসরকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এর পেছনে মূলত কয়েকটি কৌশল কাজ করে:

ইতিহাসের বহুমুখী ও জটিল অধ্যায়গুলিকে সামগ্রিক ও তথ্যনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে অতি সরলীকরণ করা হয়। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার মতো সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক অধ্যায়কে একপাক্ষিক রাজনৈতিক বয়ানে মুড়ে দেওয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনমত তৈরির আবহ তৈরি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জারি বিজ্ঞপ্তি


​বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বায়ত্তশাসিত ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দফতর বা রেজিস্ট্রারের বিজ্ঞপ্তি যখন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যাকে ‘চূড়ান্ত সত্য’ হিসেবে প্রচার করে, তখন তা প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
শিক্ষাঙ্গন হলো যুক্তিবাদী বিতর্ক, তথ্যপ্রমাণ ভিত্তিক গবেষণা এবং বহুত্ববাদী চিন্তার চর্চাকেন্দ্র। কিন্তু যখন কোনো বিশেষ মতাদর্শকে ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, তখন শিক্ষার্থীদের মনে সমালোচনামূলক চিন্তার পরিবর্তে বিভাজনমূলক ও মেরুকরণের মানসিকতা তৈরি করে৷


দেশভাগ বা দাঙ্গার মতো ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে। এই ক্ষতগুলিকে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা বা ঐতিহাসিক সচেতনতা তৈরির পরিবর্তে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ ডেকে আনে।


ইতিহাসের যেকোনো স্পর্শকাতর অধ্যায় পর্যালোচনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডার আশ্রয় না নিয়ে প্রমাণভিত্তিক ও বহুমাত্রিক আলোচনার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা জরুরি। অন্যথায়, উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র না হয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মতাদর্শ প্রচারের মঞ্চে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক ও শিক্ষাগত কাঠামোর পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অন্যান্য প্রতিবেদন.