জল নেই দু-মাস, ফাঁকা বালতি কলসি হাতে প্রতিবাদে জ্যোতিনগর কলোনি

১৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

চণ্ডালিকা নৃত্যনাট্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাতের ওপরে মানবজন্মকে৷ বৌদ্ধভিক্ষুকের তৃষ্ণা নিবারণে জলদানের অধিকারী হয়েছিল চন্ডালকন্যা। আজ ২০২৬ সাল৷ ৪ঠা মে র পর থেকে মানুষ দেখছেন পরিবর্তনের বাংলা৷ আর এই পরিবর্তনের বাংলায় গত ২৯ জুলাই থেকে জ্যোতিনগর কলোনির সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ।


​কলকাতা পৌরসংস্থার (KMC) পাইপলাইন সংস্কারের কাজের পর থেকেই জ্যোতিনগর কলোনির প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা জলশূন্য অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘ দুই মাস ধরে এলাকার পাঁচটি সরকারি নলকূপ বা ট্যাপে এক ফোঁটা জল নেই।​এই জল সংকটের নেপথ্যে রয়েছে গভীর আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট ট্রাস্টের জমিতে গড়ে ওঠা এই কলোনির বাসিন্দাদের গত ফেব্রুয়ারি মাসেই উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরপরই পানীয় জলের সরবরাহ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়াকে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাদের জোরালো অভিযোগ—এলাকাটি সংখ্যালঘু (মুসলিম) অধ্যুষিত হওয়ার কারণেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। এমনকি কিছুদিন রাস্তার আলোও বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

একদিকে উচ্ছেদের জুজু, অন্যদিকে মৌলিক পরিষেবা থেকে পরিকল্পিত বঞ্চিতকরণ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে ফেলে প্রান্তিক মানুষদের মানসিক ও সামাজিকভাবে কোনঠাসা করার চক্রান্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠ৷
প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক উদাসীনতার প্রতিবাদে জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা আজ রাজপথে নেমেছে মাথায় ও হাতে ফাঁকা বালতি, কলসি নিয়ে। এই প্রতীকী মিছিল কেবল জলের দাবি জানায়নি, এটি বর্তমান রাজনীতির এক কদর্য চিত্রকে উন্মুক্ত করেছে। জলই জীবন। কিন্তু যখন সেই জীবনদায়ী জলই সংকীর্ণ রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তিমূলকেই নাড়িয়ে দেয়।


​কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনির ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, উন্নয়ন এবং নাগরিক অধিকার কেবল কিছু সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের জন্য হতে পারে না। ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে মৌলিক পরিষেবাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী। অবিলম্বে জ্যোতিনগর কলোনিতে নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জলের সরবরাহ পুনর্বহাল করা এবং উচ্ছেদের ত্রাস দূর করে নাগরিকদের বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা প্রশাসন ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

অন্যান্য প্রতিবেদন.