এবারের মতো বিশ্বকাপে সফর ফুরোল ব্রাজিলের। সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসর নিলেন নেইমার জুনিয়র। ১০ নম্বরের হলুদ জার্সিতে সম্ভবত আর দেখা যাবে না ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়কে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে হেক্সার স্বপ্নভঙ্গ হল ব্রাজিলের। দেশের জার্সি গায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে ঘোষণা করেন অবসরের। পাওয়ার মধ্যে এটুকুই একটি মাত্র গোল আসে নেইমারের পা থেকেই।
আজ থেকে ১৬ বছর আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যাত্রা শুরু করেছিলেন এই উজ্জ্বল তারা, শেষ ও করলেন এই স্টেডিয়ামে। যেন এক অদ্ভুত সমাপতন। সঙ্গে শেষ হল ব্রাজিলের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের৷ অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্যও এই দিন ভারী বেদনার। গত ৬টি বিশ্বকাপ ধরে তারা হেক্সার স্বপ্ন দেখে এলেও, ব্যর্থতাতেই থমকেছে পথচলা

নেইমার তাই ব্রাজিলের সেই মুকুটহীন সম্রাট, যার যোগ্যতার সঙ্গে পাওনার মাপকাঠি মেলেনি কখনও। তাঁর রেকর্ডে রয়েছে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে। ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাট্রিক। চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ২০১২ সালের অলিম্পিক্সে রুপো এবং ২০১৬ সালের অলিম্পিক্সে সোনা জিতেছেন। কিন্তু ছুঁয়ে দেখা হল না বিশ্বকাপের সোনায় মোড়া ট্রফিটা। গল্পের ট্র্যাজিক হিরো হয়ে কেঁদে বিদায় নিলেন এই তারা।

একদিকে নেইমারদের জল চোখে ফিরে যাওয়া, অন্যদিকে নরওয়ের অভিষেক কোয়ার্টার ফাইনালে। এবারের বিশ্বকাপে ফুটবলবোদ্ধারা প্রথম থেকেই নরওয়েকে লম্বা রেসের ঘোড়া বলেছিল। নেপথ্যে ২৫ বছরের আর্লিং হালান্ড। মায়ের লেখা জার্সি পরে খেলতে নামা এই ছেলে মেসি এবং এমবাপের সঙ্গে রীতিমতো পাল্লা দিচ্ছে। এই বিশ্বকাপে তাদের সবার ঝুলিতেই সাতটি করে গোল।

