গ্রেফতার এম.এ. বেবি,পিনারাই বিজয়নসহ অন্যান্য বামপন্থী নেতৃত্ব

১৭ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে গ্রেফতার সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড এম.এ. বেবি, কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমরেড পিনারাই বিজয়ন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক শীর্ষ নেতারা৷ এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে এক চরম ফ্যাসিবাদী ও অসহিষ্ণু প্রবণতার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।


​ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নাগরিক সমাজ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সোচ্চার হয়েছে। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নাগরিকরা যন্তর মন্তরে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করেন, তখন দিল্লি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও বেআইনি আটকের পথ বেছে নেওয়া হয়। পিনারাই বিজয়ন বা এম.এ. বেবির মতো প্রবীণ এবং বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দেওয়া এবং জোরপূর্বক প্রিজন ভ্যানে তোলা স্পষ্ট করে দেয় যে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধীদের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক প্রতিবাদটুকুও সহ্য করতে প্রস্তুত নয়।


এটি দেশের ক্রমবর্ধমান ‘পুলিশি রাষ্ট্র’-এর রূপকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। যেখানে সরকারের নীতি বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মাত্রই তা দেশদ্রোহী বা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ​গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে পিনারাই বিজয়ন দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন যে, জনগণের কণ্ঠস্বরকে দমন করা যাবে না এবং এই ধরনের দমনপীড়ন সরকারের ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ। যখন বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ একত্রিত হচ্ছে, তখন তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া যাবে না।


​ যন্তর মন্তরে সিপিআই(এম) ও বিরোধী নেতাদের এই গ্রেফতারি ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এটি কেবল কয়েকটি দলের বা নেতাদের ওপর আক্রমণ নয়, এটি দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের স্বাধীনতার অধিকারের ওপর আঘাত। এ ধরনের দমনমূলক নীতি যতই প্রয়োগ করা হোক না কেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে জনতার প্রতিবাদী স্বরকে চিরতরে স্তব্ধ করা সম্ভব নয়।

অন্যান্য প্রতিবেদন.