আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পঞ্জাবে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR)-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের ১১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে এই ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়ার ফলে প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষেরও বেশি (১৩,৬০,৩১৬ জন) ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৬.৩৩ শতাংশ। এই ব্যাপক ভোটার ছাঁটাই কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য ও বিতর্ক।
চলতি বছরের মে মাসে বিজ্ঞপ্তি জারির পর গত ২৫ জুন পঞ্জাবে এই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তালিকাভুক্ত ২ কোটি ১৪ লক্ষ ভোটারের মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত বা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও শুনানির পরে খসড়া তালিকার তুলনায় চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় আট লক্ষ নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং মোট ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ১ লক্ষ অতিক্রম করেছে, তবুও ১৩ লক্ষাধিক নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাটি বিরোধী শিবিরকে বড়োসড়ো প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লি সহ সারা দেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বিরোধী দলগুলির দাবি, এই ধরনের নিবিড় সংশোধনের আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে বিরোধী জোটের বিক্ষোভ এবং আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতা তথা পঞ্জাবের শাসক দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালের গ্রেফতারির মতো ঘটনা গোটা পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলেছে।
পঞ্জাবে বর্তমানে আম আদমি পার্টি (আপ) ক্ষমতায় রয়েছে এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই রাজ্যটিতে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এমতাবস্থায়, বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে। বিরোধী দলগুলি একে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার প্রশাসনিক কারসাজি বলে অভিযোগ করলেও, নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন বলে দাবি করেছে।
পঞ্জাবের এই ভোটার তালিকা সংশোধন এবং জাতীয় স্তরে চলা জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভ একে অপরের পরিপূরক হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষোভ এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক প্রচার কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

