অনামিকায় আশ্বিন ফোটাচ্ছে SFI

২৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

“পেরিয়ে গেছি মেঝেনদের দেশ,
পেরিয়ে গেছি কুষ্ঠে খশা গ্রাম,
জানো কি তুমি, অনেকে এখানেও
ফিসফিসিয়ে বলে তোমার নাম ?”

যে নাম বুকে আঁকড়ে ধরে দেশের ছাত্রসমাজ প্রতিদিন কর্পোরেট- হিন্দুত্ব নেক্সাসের জনশিক্ষা ধ্বংসের চক্রান্তের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে চলেছে, যে নামটা জাপটে ধরে আজও প্রান্তিক পরিবারের সন্তানেরা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বোনে, যে নামটা দেশের তরুণ প্রজন্মের পথ চলার সঙ্গী, লড়াই আন্দোলনের পথের পথিক, সেই নামটা এসএফআই- ভারতের ছাত্র ফেডারেশন। এই রাজ্যে যখন তথাকথিত গোদী মিডিয়া প্রচার চালাচ্ছে যে, দেশের তরুণ প্রজন্ম বামপন্থী রাজনীতির প্রতি বিমুখ হচ্ছে। ঠিক তখনই দেশের রাজনীতিতে আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক হচ্ছে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি। জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে এসএফআই। দেশজুড়ে সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। পাঞ্জাব কিংবা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি’র জয়ের খবর যতটা লাইমলাইট পেলো, কিংবা কেরলমের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের খবর যেভাবে বিকৃত করে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হলো, তার ছিটেফোঁটাও আলো পেলোনা হায়দ্রাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংসদ নির্বাচন। কারণ, হায়দ্রাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়েছে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। উল্লেখ্য, হায়দ্রাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে এবিভিপির হাত থেকে ইউনিয়ন ছিনিয়ে এনেছে AISA-ASA-DSU-SFI-TSF জোট! সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এসএফআইয়ের দিলশাদা রাইহান। গত ২০২৫-এর নির্বাচনে ছ’টি কেন্দ্রীয় পদেই জয় পেয়েছিল এবিভিপি-র জোট। এসএফআই ও আম্বেদকরপন্থী সংগঠন গুলোর জোট না হওয়ায় বাজিমাত করেছিল এবিভিপি। এবারে ক্যাম্পাসের ভেতর ফ্যাসিবাদকে রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ছাত্ররা। একসঙ্গে লড়েছে একাধিক বাম, আম্বেদকরপন্থী, দলিত ও আদিবাসী ছাত্র সংগঠন। ফলাফল চোখের সামনেই! শুধু সভাপতিই নয়, সহ-সভাপতি পদে জিতেছে ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ফোরামের কোরা নীতিন চৌহান। আম্বেদকর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জেনারেল সেক্রেটারির পদে জিতেছে প্রতীক এবং কালচারাল সেক্রেটারির পদে জয়যুক্ত হয়েছে অবিনাশ কুমার। যুগ্ম সম্পাদকের পদও গিয়েছে বাম- আম্বেদকরাইট জোটের ঝুলিতে। তেলেঙ্গানা বিদ্রোহের মাটিতে অকাল বসন্ত! মুহাম্মদ খাজা মঈনুদ্দিন, রাজ বাহাদুর গৌরদের লড়াইয়ের মাটিতে লাল-নীল বসন্ত। বিজয় মিছিলে বাংলার ছেলে গোবিন্দ বর্মনের কাঁধে চেপে স্লোগান তুলছে কান্নুরের মেয়ে দিলশাদা। গলায় জড়ানো ফিলিস্তিনি কেফিয়ে! কণ্ঠে “ফ্রম দ্য রীভার টু দ্য সী”। কমরেডরা স্লোগানের প্রত্যুত্তর দিয়ে প্যালেস্তাইনের আজাদীর লড়াইতে সংহতি জানাচ্ছে– “প্যালেস্তাইন উল বি ফ্রি!” লাল-নীল উচ্ছ্বাসে আম্বেদকরের ছবির সাথে কাঁধ মিলিয়ে যেন হেঁটে চলেছে ভগৎ সিংয়ের কমরেড আশফাকউল্লা খান। কাঁকোরি ষড়যন্ত্র মামলায় রামপ্রসাদ বিসমিলের সাথে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়েছিল।

মকদুম মঈনুদ্দিনের গান ভেসে আসে কানে—
“Ye jung hai jung-e-azadi, azadi ke parcham ke tale…”. রোহিত ভেমুলার ক্যাম্পাসে স্লোগান উঠছে “El pueblo unido jamás será vencido– The People United Shall Always be Victorious.” দেশে যখন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিচ্ছে ইন্ডিয়া জোট, ঠিক তখনই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেও ছাত্ররা জোট বেঁধে রুখে দিচ্ছে ফ্যাসিস্টদের।

শুধু হায়দ্রাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিই নয়। কেরলমেও সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ৬৫০টি কলেজের মধ্যে ৬০৯টিতে জয় পেয়েছে এসএফআই। কেরালার মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশিরভাগ কলেজে জয়ী হয়েছে এসএফআই। ‘সমাজতন্ত্রই ভবিষ্যৎ, ধর্মনিরেপক্ষতাই শক্তি’ এই স্লোগানকে সমানে রেখে কেরালার মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১৭টি কলেজের মধ্যে ৯৮টি কলেজে জয়ী হয়েছে এসএফআই। কেরালার ত্রিপুনিথুরা সংস্কৃত কলেজে এবিভিপির জয়ের পর গোটা গোদি মিডিয়া প্রচার করতে শুরু করেছিল যে বামপন্থীরা কেরালা থেকে ধুয়ে মুছে গেছে। কিন্তু এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে জেনজিরা বাম মতাদর্শে আস্থা রাখছে। সম্প্রতি পন্ডিচেরী ইউনিভার্সিটিতেও প্রথম দফার নির্বাচনে ১১৫ টি কাউন্সিলর পোস্টের মধ্যে ৭০টিতে জয়ী হয়েছে এসএফআই। এবারের নির্বাচনে একাই লড়ে তাক লাগিয়েছে এসএফআই।

বিগতদিনে দেশজোড়া নিট পেপার লিক বিরোধী আন্দোলনের পরই বাম রাজনীতির প্রতি তরুণ প্রজন্ম আকৃষ্ট হয়। লাগাতার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ইস্যুতে আন্দোলন ছাত্রছাত্রীদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে এসএফআইকে। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিকে। বাংলা-বিহার-অসম-ঝাড়খন্ডে এসএফআইয়ের সদস্য সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবেই।
রক্তকরবীতে কবি জয়দেব বসু লিখছেন,
“পুরাণে বলে, লোককথায় বলে—
আসবে তুমি, কখনো, কোনোদিন
মুছিয়ে দেবে গেরস্থালি চোখ,
অনামিকায় ফোটাবে আশ্বিন।”

আশ্বিনের খোঁজে এই দেশের তরুণ প্রজন্ম। আলোর পথযাত্রীদের সাথে এসএফআই। স্বাধীনতা- গণতন্ত্র- সমাজতন্ত্রের শ্বেত পতাকা লাল তারা। মিথ্যে সাংবাদিকতার মুখোশ টেনে ছিঁড়ে দেশের ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন। ওরা যত মিথ্যে প্রচার করবে, সুদীপ্ত-অভিমন্যুদের এসএফআই -এর মিছিল ততই লম্বা হবে।
মনে রাখবেন, তিস্তা- রঙ্গিত শুকদাই না/ সফেদ ঝান্ডা ঝুঁকদাই না!

অন্যান্য প্রতিবেদন.