বামপন্থীদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ – গণতন্ত্রের সঙ্কট

৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর, হাবরা থেকে বিরাটি— গান্ধী জয়ন্তীর দিনে রাজ্যজুড়ে সিপিআইএম ও বাম গণসংগঠনগুলির ওপর যে নজিরবিহীন আক্রমণ নেমে এল, তা বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অন্ধকার অধ্যায়কে ফের উসকে দিল। দত্তপুকুরে একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর করে আগুন লাগানো, হাবড়ায় ডিওয়াইএফআইয়ের সভায় মারধর এবং বিরাটির বণিক মোড়ে সিপিআইএমের সভামঞ্চ ও চেয়ার-টেবিল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে হিংসাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।

সিপিএম এর পার্টি অফিসে আগুন দুষ্কৃতিদের


​এই তাণ্ডবের সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা গেছে বিরাটিতে। বয়স্কা বৃদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী— কেউই এই হিংসার হাত থেকে রেহাই পাননি। মাথায় আঘাত নিয়ে প্রবীণাদের রক্তস্নাত হওয়ার ছবি বা জম্বিবাহিনীর মতো তেড়ে আসা আক্রমণকারীদের সামনে কমরেড অঙ্কিতা দত্ত চৌধুরীর গান্ধীর ছবি হাতে অবিচল দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য একাধারে যেমন চরম দুষ্কৃতী রাজের চিত্র ফুটিয়ে তোলে, অন্যদিকে তেমনি বাম কর্মীদের আদর্শগত দৃঢ়তা ও প্রতিবাদের স্পৃহাকেও তুলে ধরে। ভাঙা মঞ্চ এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ফের সভা করার যে জেদ ও ঘোষণা বাম নেতৃত্ব দেখিয়েছে, তা রাজনৈতিক দমনপীড়নের মুখেও টিকে থাকার এক কঠিন বার্তা।


​গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে বিরোধী দলের সভা করার অধিকারকে এভাবে বলপ্রয়োগ করে কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া, পার্টি অফিসে আগুন লাগানো কিংবা রক্ত ঝরানোর ঘটনা আইনের শাসনকে চরম উপহাস করে। এই ধারাবাহিক আক্রমণ কেবল বামপন্থীদের কোণঠাসা করার চেষ্টা নয়, বরং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নাগরিক স্বাধীনতার করুণ দশারই প্রতিফলন। ভয় দেখিয়ে বা হিংসার সংস্কৃতি তৈরি করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করা যায় না; ইতিহাস সাক্ষী, দমনপীড়নের আঁধার পেরিয়ে এই প্রতিরোধই নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের জমি তৈরি করে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.