ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

মজুরি মেলেনা ছ সপ্তাহ : হান্টাপাড়ার অনশন ও মহিলা চা-শ্রমিকদের লড়াই

১২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

রাজনীতির হাওয়া বদলায়, ভোটের রঙিন ব্যানারগুলো বিবর্ণ হয়ে মাটিতে মিশে যায়, কিন্তু চা-বাগানের মাটির গন্ধ বদলায় না; বদলায় না কেবল শ্রমিকদের বঞ্চনার ইতিহাস। মাদারিহাট ব্লকের হান্টাপাড়া চা বাগানের কারখানা শ্রমিকদের আজ থমকে গেছে জীবন৷


মজুরি নেই ছয় সপ্তাহ ধরে—এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে কারখানার গেটেই অনির্দিষ্টকালের ধরনা আর রিলে অনশনে বসেছেন মহিলা চা-শ্রমিকেরা।
​পনেরো দিন অন্তর যে মজুরি পাওয়ার কথা, তা আজ তিন পাক্ষিক পেরিয়ে দীর্ঘ ছয় সপ্তাহে এসে ঠেকেছে। গত বছর যেখানে পুজোর মুখে মিলবার কথা ছিল কুড়ি শতাংশ বোনাস, সেখানে মালিকপক্ষ তা কমিয়ে মাত্র দশ শতাংশে নামিয়ে এনে কোপ বসিয়েছে উৎসবের আনন্দে। পাতার পর পাতা তুলে যে হাতগুলো সংসার টানার আপ্রাণ চেষ্টা করে, তাদের পাওনা আজ আটকে রয়েছে শূন্যের বেড়াজালে। অথচ দৈনিক আড়াইশো টাকার যে যৎসামান্য মজুরি রাজ্য সরকার নির্ধারিত করেছিল, তাও মেলেনি। মেরিকো গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এই বাগানের শ্রমিকেরা এখন প্রতিদিন পকেটে পান মাত্র দু’শো কুড়ি টাকা। শুধু তাই নয়, প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) জমানো টাকাও জমা পড়ছে না সঠিক জায়গায়—এমন এক অর্থনৈতিক বন্দশার জালে আজ বন্দি হান্টাপাড়ার খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

হান্টাপাড়ার অনশনরত মহিলা চা-শ্রমিকরা


​আলিপুরদুয়ারের সংসদ কিংবা মাদারিহাটের বিধায়ক—ক্ষমতার অলিন্দে থাকা জনপ্রতিনিধিদের কথার ফুলঝুরি আর প্রতিশ্রুতির ফুলকি উত্তরবঙ্গের সবুজ উপত্যকায় হারিয়ে যায় শীতের ভোরের কুয়াশার মতো। ভোটের আগে ৪৫ দিনের মধ্যে চা শিল্পের আধুনিকীকরণের যে রূপরেখা টানা হয়েছিল, আজ ১০৯ দিন পার হয়ে গেলেও হান্টাপাড়ার শ্রমিকদের কাছে তা কেবলই এক তামাশা।


​বঞ্চনার প্রতিবাদে যখন নারীরা কারখানা গেটে পলিথিন টাঙিয়ে বসে রইলেন, তখন তাঁদের সেই ন্যায়সংগত দাবির সামনে এসে দাঁড়াল পুলিশের উর্দি আর স্থানীয় প্রশাসনের ভীতি প্রদর্শনের ভাষা। বলা হলো, জমির মালিক সরকার, তাই আন্দোলন তুলে নিন; বকেয়ার সামান্য কিঞ্চিৎ অংশ নিয়ে ঘরে ফিরে যান। কিন্তু যে পেটে আগুন জ্বলছে, যে মায়ের বুক থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে সন্তানের দু’বেলা অন্ন জোগাড়ের অধিকার, সেই মায়ের চোখে এখন আর কোনো ভয় নেই। শ্রমিকদের স্পষ্ট ঘোষণা—”আমাদের দয়ার তিন হাজার টাকা চাই না, সরকার আগে বাগান ঠিকমতো চালানোর ব্যবস্থা করুক।”
​বন্য জন্তুর আক্রমণের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে, খোলা আকাশের নিচে পলিথিনের ছাদ টাঙিয়ে এই যে নারীশক্তির জাগরণ, তা কেবল হান্টাপাড়ার মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ডুয়ার্সের প্রতিটি চা-বাগানের রুদ্ধশ্বাসের প্রতীক। বিগত দিনের ডানকান থেকে বর্তমানের মেরিকো গোষ্ঠী—হাতবদল হয়েছে শুধু মালিকানার, কিন্তু ভাগ্যচক্র ঘুরল না শ্রমিকদের।


​মজুরি চুরির এই নির্মম নাটকের অবসান কবে হবে? সবুজ পাতার কার্পেটে মোড়া উত্তরবঙ্গের এই মায়ানগরীতে শ্রমের সঠিক মর্যাদা কি তবে চিরকালই অধরা থেকে যাবে? আজ হান্টাপাড়ার গেটে রিলে অনশনে বসা ওই ক্লান্ত কিন্তু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মুখগুলো শুধু তাদের বকেয়া পাওয়াই চাইছে না, তারা দাবি জানাচ্ছে আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার। পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসা বাতাস আজ সেই প্রশ্নই বারবার ফিরিয়ে দিচ্ছে ডুয়ার্সের আকাশে—মানুষের ঘামে ভেজা এই সবুজ পাতার আসল মালিক কে?

অন্যান্য প্রতিবেদন.