গতকাল সকাল ৯ টা নাগাদ, ভয়াবহ হড়পা বানে ভেসে যায় নেপালের রসুয়াজেলা। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, টেলি-কমিউনিকেশনস, ব্রিজ, রাস্তাঘাট এবং বৃহৎ নানারকমজলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিমিষের মধ্যে ভেসে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনও সংখ্যায় জানা নাগেলেও, ১৮ জন অধিবাসী সম্ভাব্য মৃত বলে জানা যাচ্ছে। ৩৮৪ জন পর্যটকের মধ্যে প্রায় ২৯১জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি মানুষ রয়েছে। নিখোঁজ ২৯১ জন বিদেশি পর্যটকের মধ্যে ১০৫জন ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন। খোঁজ এবং উদ্ধারকার্যে ৩০ টিরও বেশি হেলিকপটার নিয়োগ করাহয়েছে।
বিকেলে,পররাষ্ট্রমন্ত্রি শিশির খানাল সংসদে জানান, রসুয়ার ২৬ জন নেপাল পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্স সদস্য এবংতিমুরে ও মাইলুংয়ে মোতায়েনকৃত ৪৪ জন নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যের সাথে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাসুয়াগাধির কয়েকজন কাস্টমস ও অভিবাসন কর্মকর্তা এবংক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ নাগরিকদেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
চীনের রাষ্ট্রীয়বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, আজ তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে চীন ও নেপালের মধ্যকার প্রধানসীমান্ত পারাপার কেন্দ্রে ভূমিধসের ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ারআশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী নেপালের বাল্লেন শাহের সাথে কথা বলেছেন এবং ভারত সব ধরনের সম্ভাব্য মানবিক ও ত্রাণসহায়তাও প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন।
নেপালের আকস্মিক বন্যারপরিপ্রেক্ষিতে ‘সশস্ত্র সীমা বল’ ভারত-নেপাল ১,৭৫১ কিলোমিটারদীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর তাদের সমস্ত ইউনিটকে সতর্ক করেছে। বাহিনীর ১৮টিদলকে মোতায়েন করা হয়েছে; এর মধ্যে সাতটি দল জরুরি প্রয়োজনেব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই, বিহার,উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের কিছু জেলাতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহারের গণ্ডকনদীর ৩৬ টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে সম্ভাব্য জলের বৃদ্ধির কারনে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীযোগী আদিত্যনাথ, মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগর জেলাগুলোর সরকারি আধিকারিকদের সতর্ক থাকতে নির্দেশদিয়েছেন। দুপুরে, তেজস্বী যাদব বিহারি মানুষদের সজাগ থাকার অনুরোধ করেন এবং কর্মকর্তাদেরপ্রস্তুত থাকার কথা বলেন।

