ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

রাজনীতির সরণিতে ‘এক দেশ এক ভোট’: সংসদীয় মতের অমিল ও সাংবিধানিক জটিলতা-

১ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

এক দেশ, এক ভোট—শব্দবন্ধটি আজ ভারতীয় রাজনীতির অলিন্দে এক প্রবল ঘূর্ণি তুলেছে। গণতন্ত্রের এই বিশাল মঞ্চে নীতির দ্বন্দ্ব আর ক্ষমতার সমীকরণের মাঝে এই ধারণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে অন্তহীন বিতর্ক। ​ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় ও বিশাল ভূখণ্ডে গণতন্ত্রই তার মূল ভিত্তি । এখানে ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস আর ভৌগোলিক পরিচয়ের মতো প্রতি পদক্ষেপে রয়েছে ভিন্নতার ছোঁয়া। এই বহুত্ববাদী কাঠামোয় যখন সারা দেশে একই সঙ্গে ভোট গ্রহণের প্রস্তাব আসে, তখন তা সাধারণ মানুষের মনে ও বুদ্ধিজীবীদের তর্কে গভীর রেখাপাত করে।

সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সংঘাতের অভিযোগে বিরোধী শিবির প্রথম থেকেই এই প্রস্তাবিত বিলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম যৌথ কমিটির সামনে দাঁড়িয়ে এই বিলকে সোজাসাপ্টা ‘দানবীয়’ ও অবৈজ্ঞানিক বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, পাঁচ বছরের জন্য জয়ের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা একটি সচল ও গণতান্ত্রিক রাজ্য সরকারকে কেন কেবল কেন্দ্রীয় লোকসভা ভোটের ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মেলাতে অকালেই বলিপ্রদান করা হবে? বিরোধী নেতাদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থার ফলে নির্বাচন কমিশন একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠবে, যা প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্পিরিটকে দুর্বল করে দিতে পারে। তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বা ডিএমকে প্রতিনিধি পি উইলসনদের মতো নেতারাও এর নেপথ্যে সুদূরপ্রসারী একাধিপত্যের গন্ধ পাচ্ছেন।


​তবে মুদ্রার অন্য পিঠে শাসক শিবিরের অন্য হিসাব রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী বিন্যাস এবং ২০২৯ সালের মহাযুদ্ধের আগে রাজনৈতিক জমি শক্ত করার এক সুচারু পরিকল্পনা এর পেছনে সক্রিয়। জাস্টিস পি পি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যৌথ কমিটির সামনে সুশীল সমাজের একাংশ, থিঙ্কট্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা অংশ নিলেও, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগুরুত্ব জোগাড় করার কঠিন বাস্তবতায় এই বিলের ভবিষ্যৎ এখনও কুয়াশাচ্ছন্ন।


এই ধারণার বাস্তবায়নের জন্য ভারতের আইন কমিশন এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটিগুলোর পক্ষ থেকে নানা প্রস্তাব ও পর্যালোচনা সামনে এসেছে। সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদ—যেমন ৭৬, ৮৩, ১৭২ এবং ৩৫৬—সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। দেশের লোকসভা এবং সমস্ত রাজ্যের বিধানসভাগুলোর কার্যকালকে একসূত্রে বাঁধার এই প্রক্রিয়ায় লজিস্টিক বা পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জও কম নয়। লক্ষ লক্ষ ইভিএম মেশিন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিপুল প্রশাসনিক কর্মীবাহিনীর নিখুঁত সমন্বয় ছাড়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা একরকম প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।
​ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৫১ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দেশে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল, যা পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা অকালে ভেঙে যাওয়ার ফলে ব্যাহত হয়। বর্তমান সংসদীয় এই দীর্ঘ বৈঠক কেবল কিছু আইনি বা সাংবিধানিক ধারা নিয়ে বিতর্কের পরিসর নয়; এটি আসলে ভারতীয় গণতন্ত্রের বহুমুখী সুর বনাম একলয়া ঐকতানের লড়াই।

অন্যান্য প্রতিবেদন.