দিল্লিতে ককোরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সামিল হওয়ার অপরাধে চরম মূল্য চোকাতে হলো এক পরিবারকে। প্রতিবাদী যুবকের বাবাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বিজেপির লোকজনের বিরুদ্ধে।
বাঁকুড়ার ইন্দাস এলাকার বাসিন্দা শেখ আব্দুল হাফিজ সম্প্রতি দিল্লিতে কোরোচ জনতা পার্টির একটি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। রাজধানীতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখোমুখি হয়েও তিনি পিছু হটেনি। আন্দোলন শেষে নিজের এলাকায় ফিরে এসে আব্দুল দেখেন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল ও করুণ দশা। শিশুদের পঠনপাঠনের এই বেহাল ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর আমূল উন্নয়নের জোরালো দাবি জানান।
অভিযোগ, একজন সাধারণ যুবকের এই প্রতিবাদের ভাষা এবং সোচ্চার কণ্ঠস্বর মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এলাকার বেহাল দশার ছবি তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সামনে তাদের ব্যর্থতা তুলে ধরায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিযুক্তরা।
জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্যালয় নিয়ে সরব হওয়ার পর থেকেই আব্দুল হাফিজ ও তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরপরই ঘটে সেই মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে এবং ছেলের প্রতিবাদের ক্ষোভ মেটাতে একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয় আবদুলের বাড়ির ওপর। নির্মমভাবে মারধর করা হয় আবদুলের বয়োবৃদ্ধ বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককে।

গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছেলের রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং প্রতিবাদের খেসারত দিতে হলো এক নিরপরাধ পিতাকে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। ছেলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং এলাকার উন্নয়নের দাবি তোলাটাই কি অপরাধ ছিল? আজ সেই প্রতিবাদের জেরে বাবাকে হারাতে হলো?
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের সকলকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাজ্যজুড়ে পথে নামার ডাক দিয়েছে স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া(SFI)৷ তাদের মূল স্লোগান -“স্কুল বাঁচাও মূল বাঁচাও।”
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ চুইয়ে পড়া জল কিংবা ভাঙাচোরা দেওয়ালের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা এবং দিল্লির রাজপথে অধিকারের দাবিতে গলা ফাটানোই কি তবে একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় অপরাধ? বাঁকুড়ার ইন্দাসের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও দেশের ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার ছবিটিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এল। শোকস্তব্ধ ইন্দাসের সাধারণ মানুষ এখন কেবল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।

